মোঃ আলতাফ হোসেন বাবু, বিভাগীয় চিফ, রাজশাহী। | রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট
সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন রশিদপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম শেখ এর ছোট ছেলে মোঃ সবুজ শেখ (২৮)কে পূর্ব শত্রুতার জেরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একই গ্রামের রুবেল এর নেতৃত্বে কতিপয় সন্ত্রাসী গত ২০ শে সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার সময় আসামীদের পূর্ব ঘোষণা ও পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নৃসংসভাবে হত্যা করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, অত্র মামলার বাদী মোঃ নুরনবী শেখ ( ফিরোজ)। গতকাল রবিবার মামলার বিস্তারিত বিষয়ে জানতে বাদীকে তার মোবাইলে কল করা হলে তিনি ছোট ভাই সবুজ শেখকে হত্যার লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরে বলেন, আমি বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকি,কিন্তু সেদিন আমার অসুস্থতার জন্য আমি আমার ছোট ভাই সবুজ শেখকে সাথে নিয়ে ঘটনা স্থলে দায়িত্ব পালন করার জন্য আমার ছোট ভাই সবুজ শেখকে দায়িত্বে রেখে আমি উত্তর পাশে মুক্তা হোটেলে অবস্থান করা কালে একদল সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ভাই সবুজ শেখকে অতর্কিত হামলা চালায়, আমি সহ উপস্থিত স্বাক্ষী ও লোকজন আসামীদের হাতে ধারালো অস্ত্র ও মারমুখী আচরণের ভয়ে সেখানে উপস্থিত হতে সাহস পাইন, কিন্তু একপর্যায়ে আমি সহ উপস্থিত স্বাক্ষী ও লোকজন দৌড়ে গিয়ে দেখি আমার ভাই সবুজ শেখকে মারাত্মক আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে আমি সহ স্বাক্ষী ও উপস্থিত লোকজন আমার ভাই সবুজ শেখকে সিরাজগঞ্জ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যায়, কর্তব্যরত চিকিৎসক সবুজ শেখ মারা গেছে বলে জানান। পরবর্তীতে ভাই সবুজ শেখের লাশ বাড়ীতে নিয়ে এসে সলঙ্গা থানা পুলিশকে জানালে তারা সবুজ শেখের মৃত্যু দেহ ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী হাসপাতাল মর্গে পাঠান। পরবর্তীতে নিহত সবুজের মৃত্যু দেহ কবর দেয়া হয়েছে।
অত্র মামলার বাদী নুরনবী শেখ (ফিরোজ) আরো বলেন, ০১ ও ০২ নং আসামী ও অন্যান্য আসামীরা আমি সহ আমার পরিবারের লোকজনকে যেখানে পাবে সেখানে হত্যা করবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করছে। বাদী সহ তার মা,বাবা ও পরিবারের লোকজন অত্যান্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় বিদারক ও কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, হত্যার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হতে চললেও সলঙ্গা থানা পুলিশ কোন আসামী গ্রেফতার করেনাই, যাতে করে আমাদের পরিবারের লোকজন হতাশার প্রহর গুনছে!
নিহত সবুজ শেখের চাচী লাভলী বেগম জানান, আসামীরা অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সবুজকে মারধর করছিল, ফিরোজ সহ স্বাক্ষীগন ভয়ে সেখানে উপস্থিত হওয়ার সাহস পাইনি কিন্তু সবুজের মারধরের ঘটনা স্বচক্ষে তারা দেখেছেন,যা বাদী ও স্বাক্ষীরা বলেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে নিহতের গর্ভধারিণী মা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, এজাহার নামীয় আসামীরা একই গ্রামের এবং এলাকায় বসবাস করে,আসামীরা অর্থশালী ও প্রভাবশালী হওয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। আসামীদের সাথে জমিজমার বিরোধের জের থাকায় মামলা মোকদ্দমা চলছিল এবং চলছে যে, কারণেই মাঝে মধ্যেই এক ও দুই নং আসামীর নেতৃত্বে আমাদের পরিবারের লোকজনকে শাসন গর্জন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলো এবং মাঝে মধ্যেই সবুজ শেখকে হত্যার পূর্বের দিন প্রকাশ্যে ০১ ও ০২ নং আসামী সহ অন্যান্য আসামীরা বলেন, তোর দুই ছেলের মধ্যে যাকে সুযোগে পাবো অথবা তোদের পরিবারের লোকজন যাকেই সুযোগে পাবো তাঁকেই হত্যা করা হবে, সেদিনই দিবাগত রাতে আমাদের সবুজকে হত্যা করেছে।
মামলার বাদী নুরনবী ফিরোজ ও নিহত সবুজ শেখের মা আরও জানান, আমার ছেলে সবুজ শেখকে হত্যার বিষয়ে সলঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে থানার তৎকালীন ও বর্তমান অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল ইসলাম আমাদের মামলা নেননি, পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে আমার বড় ছেলে,নুরনবী (ফিরোজ) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন এবং মাননীয় আদালত মামলা আমলে নিয়ে অফিসার ইনচার্জ সলঙ্গা থানাকে দায়িত্ব দেন,কিন্তু আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আসামীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। নিহত সবুজ শেখের পরিবারের লোকজন আরও জানান, সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম সহ তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের নিকট থেকে বড় ধরনের উৎকোচ নিয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট রিপোর্ট পরিবর্তন সহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সবুজ শেখ হত্যা মামলাকে অন্য খাতে প্রভাবিত করার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন, যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মামলার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাদী ফিরোজ মোবাইলে বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করাই তারা প্রকাশ্যে আমি ও আমার পরিবারের লোকজনকে হত্যা সহ প্রকাশ্যে বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করছে।
নিহত সবুজের অনার্স পড়ুয়া বোন ফাতেমা জানাই, আমাকে পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন সহ অকথ্য ভাষায় ও আমার বাবাকে বিভিন্ন সময় মারধর করার জন্য লাঠি সোটা নিয়ে তেড়ে মারতে আসছে, আমরা বর্তমানে ব্যাপক আতঙ্কিত ও বিপদগ্রস্ত।
নিহত সবুজ শেখের মা, বাবা,তার ভাই বাদী ফিরোজ, তার ছোট বোন ফাতেমা সহ সকলেই আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিচারের পাশাপাশি সঠিক শাস্তির দাবী জানিয়ে আসামীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষার দাবী জানিয়েছেন।
সবুজ শেখ হত্যার ঘটনা সম্পর্কে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি মামলা বিষয়ে জানেন এবং আসামীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে মামলাটিকে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বলে মনে করছেন।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বাদী এবং আসামীদের বিষয়ে অনেক কিছু জানি,তারপরও আসামিরা বাড়াবাড়ি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জনাব, মোঃ ফারুক হোসেনের সাথে কথা বলা হলে তিনি আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
Posted ৫:১৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।