• শিরোনাম

    সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পরীক্ষা নিচ্ছে শহীদ মডেল স্কুল

     টি,এম,এ হাসান, সিরাজগঞ্জ: | মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 19 বার

    সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পরীক্ষা নিচ্ছে শহীদ মডেল স্কুল

    সরকারি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে কঠোর বিধিনিষেধের মাঝেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিচ্ছেন শহীদ মডেল স্কুল বেলকুচি শাখা। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে পরীক্ষার্থীদের রেখেই কৌশলে পালিয়ে যায় প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ ও শিক্ষকরা। আর নির্দেশনা অমান্য করে বার বার অভিভাবকদের ফোন দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করায় হতবাক অভিভাবকরাও। তবে সন্তানের পড়াশোনার কথা চিন্তা করে চুপ আছেন বেশিরভাগ অভিভাবক। অত্র প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নানা অপকর্মের অভিযোগে উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুল থেকেও বহিষ্কৃত হন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে শহীদ মডেল স্কুলে গিয়ে দেখা যায় ৬টি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিচ্ছেন স্কুল কতৃপক্ষ। তাদের বেশিরভাগই শিশু ও প্রায় শিক্ষার্থীদের মুখেই নেই মাস্ক পর্যন্তও। এবং বাকিদের সকাল ১০টায় পরীক্ষার সময় দেয়া হয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক ও কতৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হলে রেখেই পালিয়ে গেলে বাকি ৪টি পরীক্ষা তখন আর নিতে দেখা যায়নি। অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির ছাত্র এক পরীক্ষার্থী বলে, আমি মাত্র পরীক্ষা দিয়ে বের হলাম। আজ বাংলা পরীক্ষা দিলাম। আম্মুর সঙ্গে পরীক্ষা দিতে এসেছি জানিয়ে সে বলে, স্যাররা ফোন দিয়ে বলেছে পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষার ফি ও নেয়া হয়েছে জানিয়ে সে বলে কিন্তু কত টাকা নেয়া হয়েছে তা আম্মু জানে। স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান তার ছেলেকে পরীক্ষা দিতে এনেছেন জানিয়ে বলেন, আমাকে কয়েকদিন আগেও এই প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন দিয়ে পরীক্ষার কথা জানান। কিন্তু আই একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে এটাকে মেনে নিতে না পারায় আমি বিষয়টি গুরুত্ব দেইনা। কিন্তু আজ সকাল সাড়ে ৮টায় আবারও ফোন দিয়ে বলা হয় পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে আপনি এখনো কেন শিক্ষার্থী নিয়ে আসেননি? দ্রুত চলে আসেন। পাশেই আমার বাড়ি হওয়ায় আমি অনেকটা বাধ্য হয়েই আমার ছেলেকে নিয়ে আসি। পরীক্ষার ফি হিসাবে ৪শত টাকা করে নেয়া হচ্ছেও বলে জানান তিনি। তবে এভাবে নির্দেশনা অমান্য করে পরীক্ষা নেয়াটা ঠিক না বলেও জানান তিনি। শহীদ মডেল স্কুল বেলকুচি শাখার পরিচালক ও উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলের বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, আমার দীর্ঘ ১৭মাস হলো ভবনের ভাড়া বাকি। শিক্ষকদেরও বেতন দিতে পারছিনা। ঈদের আগে তাদের কিছু দেয়া উচিৎ তাই আমি এর নির্দেশনা দিয়েছি। তবে প্রথমে তিনি অ্যাসাইনমেন্ট নেয়া হচ্ছে বললেও পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে মর্মে প্রতিবেদকের নিকট প্রমান আছে বললে তিনি বলেন, আসলে এভাবে পরীক্ষা নেয়াটা ঠিক হয়নি স্বীকার করে বলেন, আসলে এখন কতজন শিক্ষার্থী আছে তা দেখার জন্যই এই আয়োজন। এই শাখাটি সিরাজগঞ্জ শাখা হতে পরিচালিত হয় বলেও জানান তিনি। তবে সিরাজগঞ্জ শহীদ মডেল স্কুল এর পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান তালুকদার রঞ্জু মুঠো ফোনে বলেন, ওই শাখার পরিচালকই ওটা পরিচালনা করেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রতিষ্ঠানই বন্ধ রাখার কথা। কেও যদি সেই নির্দেশনা অমান্য করেন সেই দ্বায়ভার তাকেই নিতে হবে। ওখানকার পরিচালক আব্দুল মজিদই এর সকল দ্বায় ভার বহন করবেন বলেও জানান তিনি। বেলকুচি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস.এম গোলাম রেজা সরওয়ার বলেন, এমনটা হবার কথা নয় এমনকি তারা আমাদের আওতাভুক্তও নয়। তবুও যেহেতু নিষেধাজ্ঞা আছে ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে তাই আমি বিষয়টি নিয়ে আমার উর্ধতন কতৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিসুর রহমান বলেন, এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। যেহেতু স্কুল কলেজ সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন এর মধ্যে পরীক্ষা নেয়া অন্যায়। আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম এখন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

    বাংলাদেশ সময়: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ