• শিরোনাম

    শেরপুর পল্লী বিদ‍্যুতের নিরব চাঁদাবাজিতে দিশেহারা স্থানীয় গ্রাহকগণ

    এনামুল হক,শেরপুরঃ | বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | পড়া হয়েছে 255 বার

    শেরপুর পল্লী বিদ‍্যুতের নিরব চাঁদাবাজিতে দিশেহারা স্থানীয় গ্রাহকগণ
    apps

    শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপর রাতের আধারে গ্রাহকের সেচ মিটার কেটে নিয়ে নিরব চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শেরপুর সদর উপজেলার ৯নং চরমোচারিয়া ইউনিয়নের হরিণধরা গ্রামের আলহাজ্ব নাদের হোসাইন এর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগে জানান গত ২৮/০৮/২০২২ ইং তারিখ দিবাগত মধ্যরাতে আমাকে বা আমার পরিবারের কাউকে কিংবা এলাকার অন্য কাউকে না জানিয়ে শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস আমার সেচের মিটারটি খুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৩০/০৮/২০২২ ইং তারিখে আমি শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে আমাকে জানানো হয় যে আপনার মিটারে সার্ভিস তাঁর কাটা ছিল। আমি নাকি বিদ্যুৎ চুরি করেছি। তাই আমাকে এক লক্ষ্য পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। আমি কোন বিদ্যুৎ চুরি বা কোন অনিয়ম করিনি চ্যালেঞ্জ করলে তারা ধারাবাহিকভাবে জরিমানার পরিমাণ কমাতে কমাতে পয়তাল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা দিতেই হবে বলে জানান। বিদ্যুৎ চুরির বিষয়ে আমি বা আমার পরিবার কেউ কিছুই জানিনা এই মর্মে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক আমার সেচ পূণরায় সংযোগের জন্য শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবর আবেদন করলেও তারা কোন প্রকার তদন্ত করে নাই। গত ৮ সেপ্টেম্বর তারা পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা উল্লেখ্য করে তারা লোক মারফত আমার বাড়িতে চিঠি পাঠিয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে ট্রান্সফর্মার থেকে মিটারে বিদ্যুৎ ইনপুট হওয়া বৈদ্যুতিক তাঁরে কোন প্রকার কাঁটা ছিড়া পাওয়া যায়নি। মিটার থেকে সেচ পাম্পে আউটপুট তাঁরের এক জায়গাই কালো টেপ প্যাচানো দেখা যায়। হরিণধরা এলাকার সেচ সংলগ্ন স্থানের একাধিক লোকের কাছে এ ব্যাপারে জিঙ্গাসা করলে কেউ বিদ্যুৎ চুরির কোন তথ্য না দিয়ে উল্টো তারা বলেন সেচ মৌসুমে এটা পল্লী বিদ্যিতের নিরব চাঁদাবাজি। শেরপুর পল্লী বিদ্যুতের অফিসারগণ ভালো ভাবেই জানেন কৃষক তাদের ধান রক্ষার ভয়ে যত টাকা চাঁদা নির্ধারণ করবো তাই দিতে বাধ্য। মিটার থেকে সেচ পাম্পে আউটপুট বিদ্যুতিক তাঁরে কালো টেপ প্যাচানো বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন ঐখান থেকে পাশের সেচের মালিক বিল্লাল হোসেন আর্থিং নিয়ে ছিল। তারা আরো বলেন প্রতিদিন আমরা জাহাঙ্গীর এর সেচ পাম্প থেকে ধানক্ষেতে পানি দেয় তার বিদ্যুৎ চুরির কোন আলামত আমরা দেখিনি। একদিকে বৃষ্টি নেই অপরদিকে সেচ মিটার কেটে নিয়ে গেছে আমণ ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন স্থানীয় কৃষকগণ। মাঝপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী হযরত আলীর ছেলে মোঃ শামীম মিয়া বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯/২/২০২২ইং সেচ স্থাপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষরিত ছাড়পত্র পাই। গত ২৭/২/২০২২ইং আমি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করি। তারা যাচাই-বাছাই শেষে আমাকে ট্রান্সফরমার সহ যাবতীয় মালামাল ক্রয় করান। রাস্তা ক্রসিংয়ের জন্য আমাকে আলাদা খুটি বানানো নির্দেশ নেন। আমি খুটিও বানিয়েছি,বডিং করেছি,আমাকে আশি হাজার টাকা খরচ করিয়ে আমার কাছ থেকে আরো অতিরিক্ত টাকা না পেয়ে এখন বলছে দূরত্ব বেশি আমার সেচ হবে না। অথচ দেখেন পাশেই মোঃ রহিম উদ্দিন এবং আব্দুলাহ’র কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে দুই হাজার ফিট দূরত্বে তাদের সেচ সংযোগ দিয়েছে। এত হয়রানির পর যখন সেচ পেলাম না এখন আমার টাকা ফেরত চাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষন করছি। স্থানীয় ফরহাদ আলী বলেন,খুটি ফ্রি দেওয়ার নিয়ম থাকতেও তিনটি খুটি দিয়ে আমাদের দশটি মিটার সংযোগ দিতে শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস মোট টাকা নিয়েছে এক লক্ষ পনের হাজার। পোড়াদোকানের আলমগীর বলেন কাক বসার কারনে আগুন লেগে ট্রান্সফরমার সহ আমার মিটার পুড়ে গিয়েছিল। শেরপুর পল্লী বিদ্যুতের জিএম আমার কাছ থেকে উনিশ হাজার চারশত দশ টাকা জরিমানা নেন। এটা নিরব চাঁদাবাজি ছাড়া আরকি। নন্দির জোত গ্রামের তজিমদ্দিন বলেন আমার মিটার কেটে নিয়ে প্রথমে আটচল্লিশ হাজার পরে কমাতে কমাতে এখন বিশ হাজার টাকা দাবি করছে। টাকিমারী গ্রামের শামীম মিয়া বলেন, শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম থেকে শুরু করে সবাই নিরব চাঁদাবাজ। মিটার রিডারকে ঘুষ না দিলেই আসে জরিমানা।মিটার রিডারের ঘুষের ভিডিও সহ প্রমাণ দিলেও শেরপুরের জিএম কোন ব্যবস্থা নেননি। উল্টো আমাদের মামলার ভয় দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক জাহাঙ্গীর এর সেচ মিটার প্রসঙ্গে শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কুসুমহাটি সাব-স্টেশনের ইনচার্জ,জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সুলতান আহমেদ বলেন, মিটারের দুই ফিট উপর থেকে চিকন তাঁরের অন্য একটি সেচ পাম্পে অবৈধ লাইন ছিল।অবৈধ সেচ পাম্পটি কেন আনা হলো না এর উত্তরে তিনি বলেন আমরা তা করিনি। এ ব্যাপারে এজিএম (অর্থ) অলি উদ্দিন আহমেদ বলেন,আমি তথ্য মোতাবেক টিম নিয়ে রাতে সরেজমিনে গিয়ে ভিডিও করার পর মিটারটি খুলে নিয়ে আসি। ঐ মিটারের উপর থেকে চিকন তাঁরে অন্য একটি সেচ মিটারে লাইন দেওয়া ছিল। অবৈধ ভাবে লাইন সংযোগ দেওয়া পাশের ঐ সেচ মিটার সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারেননি তিনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পাশের ঐ সেচের মালিক মোঃ বিল্লাল হোসেন। এ বিষয়ে বিল্লাল হোসেন কিছু বলতে রাজি হয়নি। অবৈধ লাইন সংযোগ ছিল বিল্লাল এর সেচ পাম্পে তাহলে জাহাঙ্গীর এর মিটার কেন খুলে আনা হলো জানতে চাইলে এজিএম (অর্থ) বলেন যেহেতু জাহাঙ্গীর এর মিটারের উপরে অবৈধ সংযোগ ছিল তাই কেটে আনা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীর বিচার হলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার ফিন্যান্সিয়াল বিষয় এখানে আমি খুবই দুর্বল পাচ হাজার সেচের মধ্যে ঐটা বের করা সম্ভব না। শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আলী হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীর এর বিষয়ে বোর্ড মিটিংয়ে পয়ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এখানে কিছু করার নাই। জাহাঙ্গীর এর দেওয়া আবেদনের তদন্ত বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। আমাকে অন্যায় ভাবে ফাঁসানো হযেছে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক বিষয়টির সঠিক সমাধান চেয়ে শেরপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম। বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

    বাংলাদেশ সময়: ৯:৪২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ