• শিরোনাম

    শীব নদীতে ঐতিহ্যবাহি পলো দিয়ে মাছ শিকার উৎসব

    মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, মোহনপুর, রাজশাহী: | বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১ | পড়া হয়েছে 182 বার

    শীব নদীতে ঐতিহ্যবাহি পলো দিয়ে মাছ শিকার উৎসব

    শীব নদীতে ঐতিহ্যবাহি পলো দিয়ে মাছ শিকার উৎসব

    apps

    পলো বাওয়া বা পলো দিয়ে দলবদ্ধভাবে মাছ ধরা বাংলার প্রচীন এক ঐতিহ্য। বাঁশ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ঝাঁপিকেই বলা হয় পলো। আর পলো বাওয়া উৎসবের বৈশিষ্ট্য  শুষ্ক মৌসুমে নদীতে দলবেঁধে পলো নিয়ে মাছ ধরা। একটা সময় মৌসুম এলেই শৌখিন মাছ শিকারিরা নদী নালার পানিতে দলবেঁধে নেমে পড়তেন মাছ শিকারে। নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিন তারিখ ঠিক করে পর্যায়ক্রমে ছোট ছোট সব নদী ও বিলে উৎসবমুখর পরিবেশে শিকার করা হতো ছোট বড় মাছ। শুকনো জলাশয়ে প্রতি বছরের মাঘ থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে সৌখিন মাছ শিকারিদের এই পলো বাওয়া উৎসব।

    দখল, দুষণ ও ভরাটসহ নদীর অ¯ি’ত সংকটের কারণে এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না ঐতিহ্যবাহি এই উৎসব। প্রতি বছর ন্যায় শীত মওসুমে মোহনপুর-তানোর উপজেলা সীমান্তঘেঁসে বয়ে যাওয়া শীবনদী ও বারনই নদীর পানি কমতে শুরু করলে বিভিন্ন গ্রামের মুরুব্বীয়ানদের পরামর্শক্রমে গতকাল বুধবার সকালে শীবনদীর বুরুজঘাট হতে কালিগঞ্জ ব্রীজ পর্যন্ত কয়েকটি গ্রামের প্রায় শতাদিক মানুষ পলো, জাল, দঁড়িসহ মাছ শিকারের বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে শীবনদীতে নদীতে হাজির হন। মাছ শিকার উৎসব দেখা উপলক্ষে আশপাশের লোকজনের উপস্থিতি বিরাজ করে উৎসবমূখর পরিবেশ। শিকারীদের অনেকেই বোয়াল, শোলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরেন। পলো দিয়ে পানিতে একের পর এক ঝাপ দেওয়া আর হৈহুল্লোর করে সামনের দিকে ছন্দের তালে তালে এগিয়ে যাওয়া চিরচেনা গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যময় এক দৃশ্য। মাছ শিকার উৎসবে পলো ছাড়াও ফার জাল, ছিটকি জাল, ঝাকি জাল, পেলুন ইত্যাদি দিয়েও মাছ শিকার করেন অনেকে। পলো সহ দেশীয় উপকরণ দিয়ে মাছ শিকার করলে যেমন খরচ কম তেমনি মাছের বংশ বিনাশ হয় না। রাজশাহী জেলার বারনই ও শীবনদীতে মাছ শিকারের জন্য পলোর ব্যবহার হয়ে আসছে বহু পুরনোকাল থেকে। বাঁশের তৈরি এই পলো মাছ শিকারসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন কৃষকরা।
    পলো দিয়ে মাছ শিকার বিষয়ে মাসিন্দা গ্রামের পৌরসভার কমিশনার শুম্ভুনাথ হাওদার বলেন, এই শীবনদীতে ছোট বেলা আমরা অনেক উৎসব মুখর পরিবেশে বাবার সাথে পলো দিয়ে বড় বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করেছি। কালের বিবর্তনে সেই নদীর নবতা হারিয়ে গেছে। সেই সাথে হারিয়ে গেছে নদীর মাছ। তাই আগের চেয়ে মাছ ধরা উৎসব অনেকটা কম হয়।

    বাংলাদেশ সময়: ৭:০৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিন

    ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

    কচু শাক চুরি

    ১৫ জুলাই ২০২১

    শূন্যতা

    ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ