• শিরোনাম

    শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা, ধমক দিয়েই সমাধান!

    টি.এম,এ হাসান, সিরাজগঞ্জ: | সোমবার, ২৮ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 101 বার

    apps

    সিরাজগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির ৮বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ফরিদুল (৪০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এমন একটি ঘটনার দ্বায়ে ধমক দিয়ে সমাধান করার অভিযোগ উঠেছে এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা মো. আব্দুল মান্নান সহ এলাকার মাতবর, রমজান, বারিক, লোকমান সহ স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মামলা ও সাংবাদিকদের কাছে ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য ভয়ভীতিও দেখানো হয়েছে। এখন মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার। এদিকে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও সাংবাদিকদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যান ধর্ষণের চেষ্টাকারী মো. ফরিদুল ইসলাম (৪০)। এঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা সমালোচনা চললেও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও মাতবরগণ শালিষ করার কারণে ভয়ে মুখ খুলছেন না কেও। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের নওদা ফুলকোচা গ্রামে। অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলাম (৪০) একই গ্রামের সামাদ আলীর ছেলে। শিশুর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম ও খালা হামিদা বেগম বলেন, গত শুক্রবার (২৫ জুন) দুপুরে শিশুটির বাবা-মা দুজনেই বাইরে থাকার সুবাদে প্রতিবেশী ফরিদুল সবার অজান্তে দুপুর দুইটার দিকে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে এই জঘন্য কাজটি করেন। পরবর্তীতে ধর্ষণের চেষ্টা কালে মেয়েটি চিৎকার করলে ফরিদুল তার মুখ চেপে ধরে তবুও ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যান।

    পরবর্তীতে মেয়েটি আবারও চিৎকার করতে থাকলে ভিতর থেকে তার ভাবি বের হয়ে আসলে ফরিদুল শিশুটিকে রেখে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সেদিনই রাত ১১টার দিকে উল্লেখিত নেতা ও মাতবরগণ শিশুটির বাড়িতে বসেই ফরিদুলকে ধমক দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে দেন। তারা ভয়ে এবিষয়ে মুখ খুলতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, শালিষে ফরিদুলকে মাতব্বররা ধমক দিয়ে ও ৫০টি জুতার বাড়ি দেওয়ার রায় দেয়। কিন্তু আমি ভয়ে বলেছি আমার বাড়ির মধ্যে কাহুকে মারধোর করা যাবেনা। পরে তাকে দিয়ে শুধু মাফ চাওয়ানো হয়। আমরা এটা নিয়ে কিভাবে প্রতিবাদ করবো আমাদের তো তাদের সাথে এই সমাজে বসবাস করতে হবে। আবার এগুলো বাইরের মানুষ জানলে মেয়ে বড় হলে বিয়ে হতে সমস্যা হবে বলেও আমাদেরকে বলা হয়েছে। তাছাড়া শালিষের মধ্যেই অভিযুক্ত ফরিদুলের চাচাতো ভাই লোকমান হুমকি দিয়ে বলেন, যদি তোমাদের জরিমানা হিসাবে ঘর ভর্তি টাকাও দেই তাও এই ঘরে কিন্তু এক টাকাও থাকবেনা। ভুক্তভোগী শিশু (৮) বলে, ফরিদুল আমাকে দুদিন আগেও জোর করে কুশালের (আখ) ক্ষেতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। বলেছিল ১০হাজার টাকা দিবে ও টাঙ্গাইল নিয়ে যাবে। তার দুদিন পরেই আমাকে সে তার মোবাইলে খারাপ ভিডিও দেখায় ও আমার জামা প্যান্ট খুলে খারাপ কিছু করার চেষ্টা করে।

    আমি চিৎকার করলে প্রথমে মুখ চেপে ধরে। পরে আমি আবার চিৎকার করলে ভাবি বের হয়ে এসে সবকিছু দেখে। পরে ভাবি টিনের বেড়ায় শব্দ করলে সে পালিয়ে যায়। এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর ভাবি বলেন, আমি তার চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখি বারান্দায় পাতা চৌকিতে ফরিদুল তাকে উলঙ্গ অবস্থায় জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। আমি একা থাকায় সবকিছু দেখেও ভয়ে প্রতিবাদ না করে টিনে শব্দ করলে ফরিদুল দৌড়ে পালিয়ে যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিশুর পরিবারটি অন্য এলাকা থেকে এসে এখানে কয়েকবছর হলো বসবাস করছেন। এমনকি এলাকাটি মেয়ের নানার বাড়ির এলাকা। এমন একটি জঘন্য ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদেরই বাড়িতে ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের, সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, বারিক, লোকমান, রমজান সহ এলাকার কিছু মাতবর ও ছেলের পরিবারের সদস্যরা বসে অভিযুক্তকে ধমক দিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার বিচার সম্পন্ন করেন। এখন শিশুটির পরিবারের অনেকেই প্রতিবেদককে তথ্য নিশ্চিত করলেও নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন বলেও জানান। এমনকি শালিষে উলটো শিশুটিকেই মোবাইল চুরির অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও এমন ঘটনার বিচার না হয়ে ধামাচাপা দিলে ভবিষ্যতে এমন আরও অপরাধের প্রবনতা বাড়াবে বলেও জানান সচেতন এলাকাবাসী। শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযুক্তকে কিভাবে ধমক দিয়ে মীমাংসা করে দিলেন, জানতে চাইলে ছোনগাছা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান শালিষ করার বিষয়টি স্বীকার করে আমার সংবাদকে বলেন, কেও আমাকে সেভাবে ধর্ষণ চেষ্টা হয়েছে এমন ঘটনার বিবরণ দেয়নি, আমরাও বুঝতে পারিনি। হয়তো ভুক্তভোগীর পরিবার ভয়ে বলেনি। আমি জানতামনা শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তাহলে শালিষ কি কারণে করলেন এবং ফরিদুলকে কেন ৫০টি জুতার বাড়ি দেবার রায় দিয়েছিলেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তার এই ঘটনার শালিষ করার এখতিয়ার নেই বলেও স্বীকার করেন তিনি। অভিযুক্ত ফরিদুলের বর্তমান বাড়িতে গিয়ে তার বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। তার পৈত্রিক বাড়িতে গেলেও কেও কথা বলতে চাননি। খুঁজে পাওয়া যায়নি শালিষে হুমকি দেওয়া লোকমানকেও। শালিষকারী অন্যান্য মাতবরদের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ছোনগাছা ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আমাকে কেও বিষয়টি জানায়নি তবে লোক মারফত আমি বিষয়টি জেনেও না জানার মতো আছি।

    এমন ঘটনা ঘটেছে এটা সত্য। ঘটনাটি কাহুকে না জানতে দিয়ে রাত ১২টা ১টার দিকে কিছু মাতব্বরগণ বসে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছেন। যেহেতু এই ঘটনার বিচার করার এখতিয়ার আমাদের নেই কিন্তু তারা যদি আমার কোনও সহযোগিতা চায় আমি অবশ্যই তাদের সর্বাত্বক সহযোগিতা করবো। এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। ৬নং ছোনগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সহিদুল আলম বলেন, আমি এবিষয়ে কিছুই জানিনা এবং আমাকে বিষয়টি কেও অবগত করেনি। আমার কাছে কোনও অভিযোগ আসলে আমি সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবো। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী বলেন, এধরনের যেকোনও অভিযোগ পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যাবস্থা নেই। বিষয়টি আমাদের কেও জানাননি বা কোনও অভিযোগও আসেনি।

    বাংলাদেশ সময়: ১:৪৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৮ জুন ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ