• শিরোনাম

    শিক্ষার আনন্দ এবং ড. মোয়াজ্জেম হোসেন

    অনলাইন ডেস্ক | রবিবার, ২৮ আগস্ট ২০২২ | পড়া হয়েছে 14 বার

    শিক্ষার আনন্দ এবং ড. মোয়াজ্জেম হোসেন
    apps

    নূরুদ্দীন দরজী:

    বিশ্বখ্যাত প্রবন্ধকার, বিজ্ঞানী, কবি ও দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন, “শিক্ষা মানুষকে তিনটি জিনিস দেয়,-(১) আনন্দ, (২) সম্মান (৩) জীবিকা অর্জনের ক্ষমতা। (Studies serve, for delight, for ornament and for ability.) মনীষী কথাগুলো বলেছেন প্রায় সাড়ে চারশ বছর পূর্বে। কিন্তু এ কথার তাৎপর্য এখনো যেন বহুগুনে প্রবহমান, বৃদ্ধি পেয়েছে এবং থাকবে অনন্তকাল ধরে।

    শিক্ষা মানুষকে প্রধানতঃ যে তিনটি জিনিস দেয় তার কোনটির‌ই গুরুত্ব‌ই কম নয়। তবে আমার দৃষ্টিতে প্রথম পাওয়া অর্থাৎ “আনন্দ,কথাটি সর্বাধিক বিবেচ্য বিষয়। কারণ শিক্ষার আনন্দ নির্মল, অনন্ত ও অসীম আনন্দ। শিক্ষার আনন্দের কমতি বা ঘাটতি থাকে না। মানুষের জীবনে সম্মান ও অর্থ কখনো হয়তো বা অসম্মান এবং অনর্থের কারণ হতে পারে। কিন্তু শিক্ষার আনন্দ সার্বজনীন আনন্দ। এ আনন্দ দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে। যারা শিক্ষার আনন্দ আস্বাদন করতে পেরেছেন শুধু তারাই বুঝেন এ এক অমৃত সুধা যা শেষ হয়না কোনদিনও। শিক্ষা মানেই হচ্ছে নতুন কিছু জানা বা আবিস্কার করা। নতুনকে জানার আগ্ৰহ মানুষের চিরদিন‌ই ছিল এবং থাকবে অনাদীকাল ধরে।

    নতুনের আনন্দের স্বাদ যারা একবার পেয়ে গেছেন সে আনন্দের পথ থেকে তারা আর ফিরে আসতে পারেন না, ফিরে আসা যায়না। শিক্ষার এ মহা আনন্দ সাগরে যারা প্রতিনিয়ত হাবুডুবু খান তাঁদের‌ই একজন শ্রদ্ধেয় ড.মোয়াজ্জেম হোসেন স্যার- যার যৎসামান্য কিছু কথা বলতে আজকে আমার ইচ্ছে হলো। আশাকরি সুহৃদ পাঠক মহোদয়গণ দয়া করে একটু শুনবেন।।

    নরসিংদীর শিবপুরের অমূল্য সম্পদ আমার আলোচনার এই ব্যক্তিটি। শিবপুরের সুন্দর একটি গ্ৰাম কুন্দারপাড়ার খৈনকুটে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মোঃ সামসুদ্দিন এবং মা খোদেজা খাতুন। প্রথম জীবনে লেখাপড়া করেছেন গ্রামের খৈনকুট প্রাইমারি ও হাই স্কুলে। নরসিংদী সরকারি কলেজে মাধ্যমিক পর্যায় শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সর্বশেষ আমেরিকান ওয়াল্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা সমাপ্ত করেন।

    কর্ম জীবনে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি শিক্ষায় বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে জড়িয়ে আছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ শিক্ষার উন্নয়নমূলক নানা প্রতিষ্ঠান। নরসিংদীর স্বনামধন্য ,’প্রেসিডেন্সি কলেজ’টি তাঁর‌ই হাতে গড়া। দেশের ভিতরে তাঁর হাতে গড়ে উঠেছে আর ও অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান।

    তিনি একজন সুলেখক ও শিক্ষা গবেষক। তাঁর গবেষনা ধর্মী লেখাগুলো দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে ও সমাদৃত। ইংরেজি ভাষায় তাঁর অনেক ব‌ই প্রভূত দক্ষতার পরিচায়ক। তিনি প্রকাশনা শিল্প ও গড়ে তুলেছেন। শিক্ষামূলক সংগঠনের মাধ্যমে দেশের কবি সাহিত্যিকগণকে উৎসাহ দিয়ে থাকেন সদা সর্বদা।

    নরসিংদীর মাটি, মানুষ, কৃষ্টি, সভ্যতা ও ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর বহুবিধ লেখা রয়েছে। ”নরসিংদী পিডিয়া’র মত দূর্লভ কোষ সৃষ্টি করে নরসিংদীর মানুষকে উপহার দেওয়ার সাধনায় তিনি মগ্ন রয়েছেন। ড. মোয়াজ্জেম হোসেন মানুষের মেধা বিকাশে বই পড়ার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এ তাগিদ আন্দোলনে রুপ নিয়েছে। নাম “বই পড়া আন্দোলন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যা নিতান্তই প্রয়োজন। তাঁর কাছে কোন ব্যক্তি/অতিথি বেড়াতে এলে তিনি মহা মূল্যবান উপহার দিয়ে অতিথিকে সংবর্ধিত করেন। তিনি জানেন বর্তমান বিশ্বে মেধার কোন বিকল্প নেই। যে ব্যক্তি, সমাজ, দেশ ও জাতি মেধায় এগিয় থাকবে তাঁরাই পৃথিবীর সর্বোচ্চ উন্নতির সোপানে পৌছবে আগে আগে। তিনি নিজে ও প্রচুর পড়াশোনা করেন। মানুষকে বই উপহার দেন।

    এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়- বিগত মাত্র কয়েক বছরে বিনামূল্যে বারো হাজারের বেশি বই মানুষকে উপহার দিয়েছেন। নরসিংদী শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করেছেন ” নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরী, এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ পড়াশোনা করে থাকেন। রাত জেগে তাঁর পড়ার অভ্যাস আছে। কিছু দিন আগে এক রাতে প্রায় বারোটায় কোন একটি বিশেষ প্রয়োজনে তাঁকে ফোন দিয়ে জানতে পারি-পড়াশোনা করছেন। আরও জানতে পারি তখন তিনি বিখ্যাত আমেরিকান লেখক Dr Murphy Joseph রচিত Your Infinite Power to be Rich গ্রন্থটি পড়ছেন।

    এ গ্ৰন্থের প্রধান বিষয় হচ্ছে মানুষের মনের লুকায়িত সম্ভাবনাকে জাগ্ৰত করে তাঁকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সত্যিই আশ্চর্য হলাম গভীর রাতে তাঁর কর্মযজ্ঞ দেখে। গভীর রাত জেগে চিন্তা করছেন তাঁর জাতিকে, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার। এমন সকল প্রচেষ্টায় তিনি শিল্প, সাহিত্য, ও সমাজ সচেতনতামূলক পড়াশোনায় মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রতি নিয়ত।

    ড. মোয়াজ্জেম হোসেন স্যার এর কথা সংক্ষিপ্ত পরিসরে লিখে শেষ করা যাবে না। তিনি আমাদের শিবপুরের গর্ব, নরসিংদীর অহংকার এবং দেশের সম্পদ। তাঁর কিছুটা সান্নিধ্যের সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। দোয়া করি মনপ্রাণ ভরে করুনাময় তাঁকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুন দশের, দেশের, জাতির এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণে। তাঁর সাথে কথা বললে ভালো লাগে,আনন্দের ঢল নামে হৃদয় গহনে, পুলকিত আনন্দ ঢেউ নির্ঝরিত হয় প্রকৃতির মাঝে। বুঝা যায় শিক্ষার চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছুতেই নেই। তাই বলা যায় – তিনি আনন্দের দিশারী। আমরা শিবপুরবাসী তাঁকে নিয়ে অবশ্যই গর্ব করতে পারি।

    লেখক: সাবেক শিক্ষা অফিসার

    বাংলাদেশ সময়: ৮:২০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৮ আগস্ট ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রূপা

    ২৪ অক্টোবর ২০২০

    নায়িকা হয়েও কবি ছিলেন

    ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ছোটগল্প (দেনা)

    ২৫ জুলাই ২০২১

    কৃষি ব্যাংক নিয়ে গান

    ৩০ নভেম্বর ২০২০

    অসভ্যতার বিজয় কেতন

    ০৯ অক্টোবর ২০২০

    আর্কাইভ