• শিরোনাম

    শত দুঃখ কষ্টের মাঝেও রাবিয়া খাতুনের হাসিমাখা মুখ

    মোঃ নিজাম উদ্দিন নবীনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 320 বার

    শত দুঃখ কষ্টের মাঝেও রাবিয়া খাতুনের হাসিমাখা মুখ
    apps

     

     

    ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি মূলভাব ক্ষুধার অনুভূতি তীব্র ও প্রচণ্ড। দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাত মানুষের দৃষ্টি ও হৃদয় থেকে রূপ-সৌন্দর্য ও প্রেমের নান্দনিক বোধগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। তাই ক্ষুধার নিবৃত্তি অত্যাবশ্যক। তেমনি একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন নাসিরাবাদ পশ্চিম পাড়ার রাবিয়া খাতুন উনার স্বামীর নাম কানু মিয়া যার ডাকনাম ছিল শিশু মিয়া অথবা কাসেমের বাপ বলে যাকে চিনতেন সবাই তিনি গত পাঁচ বছর আগে মারা যান তিনি থাকা অবস্থায় সংসারের অভাব অনটনের যেন শেষ ছিল না কোনদিন খেয়ে কোন দিন না খেয়ে শেষ পর্যায়ে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে তারপর শুরু হয় আরো এক ভয়াবহ যুদ্ধ-যুদ্ধের সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন রাবিয়া খাতুন তিনি এক পর্যায়ে প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়াতেন এক ঘর থেকে আরেক ঘরে হাতে একটি বল নিয়ে ছুঁটে যেতেন কিছু খাবারের জন্য অন্যদিকে বাড়িতে অপেক্ষার প্রহর গুনতেন দুই ছেলে ও চার মেয়ে কখন মা বাড়িতে আসবে তারপর খাবার খাবো। এভাবেই চলছে প্রতিদিন প্রতি বছর আস্তে আস্তে সংসার বড় হতে থাকে কিন্তু সংসারের হাল ধরার মত কেউ ছিলনা। সংসারের বড় ছেলে তার নাম কাশেম সেও মানসিক প্রতিবন্ধী আর ছোট ছেলেটার নাম হোসেন সেও মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে যা কিছু টাকা পেতেন কোনো রকম সংসার চলত বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় তিনিও একদিন সংসার থেকে আলাদা হয়ে গেলেন। রাবেয়া খাতুনের আরো দুঃখ কষ্ট নেমে আসে সংসারে তার মধ্যে রয়েছে মেয়েগুলোর চিন্তাভাবনা যেভাবেই হোক বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় মেয়েগুলোকে বিয়ে দিয়েছেন কিন্তু তারাও এখন রাবিয়া খাতুনের উপর বসে খাচ্ছেন রাবেয়া খাতুনের দুঃখের আর শেষ হলো না সুখের মুখ কোনদিন দেখেছেন কিনা জানা নাই শেষ বয়সে এসে এখনো একই অবস্থা হঠাৎ একদিন রাস্তায় উনার সাথে দেখা হয় দেখে বললাম কেমন আছেন জবাবে বলল বেশি ভালো নাইরে আমি বললাম কেন আজকে বয়স্ক ভাতার জন্য চেয়ারম্যান অফিসে অনেক কান্নাকাটি করে আসলাম আমার নাকি কার্ড হয় নাই আপনার ওয়ার্ড মেম্বার আপনার নাম নেই নাই জবাবে বলল নিয়েছিল আমি বললাম উনার সাথে আবার দেখা করেন। উনার এই করুণ অবস্থা দেখে একদিন উনার বাড়িতে যাই উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কি তিনবেলা খাবার খেতে পারেন জবাবে মুচকি হাসি দিয়ে বলল না আজকে দুপুর প্রায় শেষ বিকাল হয়ে যাচ্ছে কিছু খেয়েছেন জবাবে বলল না আমি বললাম আপনার ঘরে একটু ঢুকি বলল যাও আমি হাড়ি পাতিল গুলো দেখতে থাকি পাতিল আছে তাতে খাবার নেই আমি একটি পাত্রে পানি ও কিছু বেগুন দেখতে পাই আমি উনাকে বললাম এখনোতো রান্না করেন নাই কি খাবেন দেখি পাশের বাড়ি থেকে কিছু ডেংগা এনে তারপর পাক বসাবেন আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। আমাকে দেখে পাশের বাড়ির কয়েকজন ভদ্রমহিলা আসেন আমি উনাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম উনি কি তিন বেলা খেতে পারে ভদ্রমহিলা এক সুরে বলল না প্রায় সময় এক বেলা খাবার জুটে না এভাবেই অনেক বছর যাবত দেখে আসছেন উনার এই করুণ কাহিনী আরো অনেক কিছু বলেছেন যা শুনে যে কোন মানুষের হৃদয়ের কান্না এসে যাবে যাইহোক উনাকে ডেকে বললাম আপনার পায়ে সমস্যা এমন ভাবে হাঁটছেন উনি বললেন বিশ বছর যাবত ভুগছি ওষুধ খান নাই ওষুধের টাকা পাব কোথায় আমিতো ঠিক মত খাইতে পাইনা আমি বললাম আপনার সংসার চলে কি ভাবে আমি মানিকনগর বাজারে সাপ্তাহ একদিন দোকানে দোকানে কিছু টাকা উঠানো হয় তাতে কোনো রকম সংসার চলে। এখন চলছে লকডাউন কিভাবে চলবে রাবিয়া খাতুনের সংসার? উনাকে ডেকে বললাম আমি তো আপনার জন্য সি টিভি পক্ষ থেকে কিছু টাকা এবং শ্যামগ্ৰাম বিসমিল্লা একতা সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু চাল ডাল তেল খেজুর নিয়ে এসেছি শুনে অনেক খুশি হলেন সংসারের সেনাপতি রাবিয়া খাতুন এখনো একই অবস্থায় জীবনযাপন করছেন পবিত্র মাহে রমজানে অনেকেই বাড়িতে অনেক ভালো ভালো খাবার খাবেন কিন্তু রাবিয়া খাতুন এক বেলাও কি আমাদের সমাজে আমাদের মহল্লায় খাবারের দাবি রাখতে পারেন না? আমাদের সমাজে অনেক উচ্চবিত্ত মানুষ রয়েছেন যারা পারেন রাবেয়া খাতুনের মুখে হাসি ফোটাতে সকলের নিকট একটি মানবিক দাবি আপনাদের যদি উনার দুঃখের কথা গুলো শুনে একটু কষ্ট হয় তাহলে উনাকে কিছুটা হলেও সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

    বাংলাদেশ সময়: ৩:১৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ