• শিরোনাম

    রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনা আজও আসেননি রবি’র অভিযুক্ত শিক্ষক, আরও ২সপ্তাহ সময়ের আবেদন

     টি এম এ হাসান , সিরাজগঞ্জ: | শুক্রবার, ০৮ অক্টোবর ২০২১ | পড়া হয়েছে 32 বার

    রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনা আজও আসেননি রবি’র অভিযুক্ত শিক্ষক, আরও ২সপ্তাহ সময়ের আবেদন
    apps

     সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় আজ দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় দফায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কমিটির নিকট তার বক্তব্য উপস্থাপন করার কথা বলা হলেও তদন্ত কমিটি বিকাল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তিনি আজও আসেননি। তিনি না এসে আবারও সেই আগের মতোই ই-মেইলের মাধ্যমে নিজেকে অসুস্থ দাবি করে আরও ১৪দিনের সময় প্রার্থনা করেছেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে নিশ্চিত করেছেন রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ৫সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল। এর আগে গত ৩অক্টোবর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরাসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ৫সদস্যের গঠিত তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে গত রবিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলে। কিন্তু সেদিন দুপুর ১২টায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন উপস্থিত না হয়ে ১৪দিনের সময় প্রার্থনা করেন। এর প্রেক্ষিতে তাকে ৩দিনের সময় দেন তদন্ত কমিটি। যার প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় তাকে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কমিটির নিকট তার বক্তব্য উপস্থাপন করার কথা বলা হয়েছিল।

    অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ৫সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে গত ৩ অক্টোবর দুপুর ১২টায় তদন্ত কমিটির নিকট এসে তার বক্তব্য উপস্থাপন করার সময় দেয়া হলেও তিনি মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে উপস্থিত না হয়ে একটি মেইলে আরও ১৪ দিনের সময় দরকার বলে জানিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি তাকে ৩দিনের সময় দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আসার জন্য নতুন সময় বেধে দিয়েছিলেন। কিন্তু উনি উপস্থিত না হয়ে আবারও সেই একই কারন দেখিয়ে পূনরায় আবারও ১৪ দিনের সময় দরকার বলে একটি ই-মেইল করেছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি যেহেতু গতকাল পর্যন্ত আসবেননা এমন কিছু আমাদের জানাননি তাই আমরা স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছিলাম তিনি আসবেন। তবে তিনি অভিযুক্তের অসুস্থতার ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, যদি তেমন কিছু হয় তাহলে উনার অসুস্থতার নথি তদন্ত কমিটির নিকট পাঠানো উচিৎ ছিল কিন্তু উনি তা করেননি। এখন তাহলে কি করা হবে বা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে বলেন, আজ রাতে আমাদের ভার্চ্যুয়াল মিটিং আছে। এখানেই পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিধতান্ত নেয়া হবে। এবং এছাড়াও নানান বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    এব্যাপারে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, যদি অভিযুক্ত শিক্ষক বার বার না আসে তাহলেতো আর এই কারনে সবকিছু ঝুলিয়ে রাখা যাবেনা। এঘটনার সত্য উম্মোচনে যেহেতু রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সিনেট সদস্য লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে এবং তারা কাজ করছেন সেহেতু তারা সবকিছু বিবেচনা করেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন। এবং কমিটির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ওপরে ভিত্তি করে সিনেট সভায় সিধ্যান্ত নেয়া হবে করনীয়। যদি এতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা নেয়া হবে এটাও সুপারিশ করা হবে এই সিনেট সভা থেকেই। এবং সেই সুপারিশ অনুযায়ীই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। এবিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক বরীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।

    বাংলাদেশ সময়: ৫:৫১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৮ অক্টোবর ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ