• শিরোনাম

    রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ

    সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, | বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 30 বার

    রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ
    apps

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪জন ছাত্রের কাচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে তা মূহুর্তে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে পড়ে। এছাড়াও এঘটনায় সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমুল নামে ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থী লজ্জায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলেও জানা গেছে। বর্তমানে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্র বিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের কফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময়। বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন ঘটনাটি ঘটানোর সময় একই বিভাগের সহকারী প্রক্টর রাজিব অধিকারি ও জান্নাতুল ফেরদৌস মুনি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা গেছে। এসময় তারা এ ঘটনার প্রতিবাদ না করে সেখানে নিরব দর্শকের মত দাড়িয়ে ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে ওই বিভাগের বাংলাদেশের ইতিহাস বিষয়ে পরীক্ষা শুরুর আগে লাঞ্ছিত পরীক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠিরা এ ঘটনার প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করার জন্য বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১ এর ফটকে জমায়েত হলে একটি পক্ষ তাদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে ও চাপ দিয়ে সবাইকে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করে। এ ঘটনার পর থেকে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবারও হুমকি ধামকির আশংকায় আতংকিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই এ বিষয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে। জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষক চুল বড় রাখার বিষয়ে ছাত্রদের বকাঝকা করেন। তার ভয়ে সবাই পরদিনই চুল ছোট করে। তারা আরও জানায়, পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় আগে থেকেই দরজার সামনে ওই শিক্ষক কাচি হাতে দাড়িয়ে ছিলেন। যাদের চুল মুঠোর মধ্যে ধরা গেছে, তাদের মাথার সামনের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন। আরও জানা গেছে, সবার সামনে এভাবে তাদের লাঞ্ছিত করার পর ওই শিক্ষক জোর করে তাদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন অত্যন্ত বদরাগী ব্যক্তি। কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বকাঝকা করে থাকেন। এদিকে এ ঘটনাটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে তা মূহুর্তে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায়। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, ঘটনাটি গতকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) ঘটেছিল। তারপরে আবার সমাধানও নাকি করা হয়েছিল। কিন্তু ওই শিক্ষক ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীদের নাকি আবারও বকাঝকা করেন। এঘটনায় আজ রাতে একজন শিক্ষার্থী লজ্জা মেনে নিতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিতসাধীন আছে বলে শুনেছি। এবিষয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও সাড়া মেলেনি। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (ভিসির অতিরিক্ত দায়ীত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল লতিফ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই এবং এধরণের কোনও লিখিত অভিযোগও পাইনি। তবে এবিষয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ সময়: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ