• শিরোনাম

    ‘মেগা প্রকল্পসমূহের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী’ -উপাচার্য ড. মশিউর রহমান

    আব্দুর রহমান,গাজীপুর: | শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২ | পড়া হয়েছে 23 বার

    ‘মেগা প্রকল্পসমূহের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী’     -উপাচার্য ড. মশিউর রহমান
    apps

    মেগা প্রকল্পসমূহের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী বলে মনে করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘মেগা প্রকল্পসমূহ শুধু সাময়িক অবকাঠামোগত উন্নয়ন তা নয়, এসব বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়েছে। শক্তিশালী হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিও।’ আজ শনিবার (১৯ নভেম্বর) সাভারের বিরুলিয়ায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ‘পদ্মা সেতু: উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য।
    দেশের প্রথিতযশা এই সমাজবিজ্ঞানী বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে এক সময় মঙ্গা ছিল। কিন্তু যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ করার কারণে উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন এসেছে। অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ হয়েছে ওই অঞ্চলের মানুষ। দূর হয়েছে মঙ্গা। একইভাবে পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে যাতায়াতের সংযোগ সৃষ্টি করেছে তা নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনেও এর ভূমিকা অপরিসীম। এই সেতুর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবেন। তাদের আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’
    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘যেই স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত বাংলাদেশ। একাত্তরে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাসের যে সশস্ত্র যুদ্ধ হয়েছে, যেটিকে আমরা গেরিলা যুদ্ধ বলি। সেই যুদ্ধে মূলত বাংলাদেশের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়লাভের মধ্য দিয়ে আত্মপরিচয় নিশ্চিত করেছে। হাজার বছরের বঞ্চনা, নিগ্রহের শিকার সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বাঙালিকে যদি স্বাধীনতা দেয়া না যায়, তাহলে আরও হাজার বছর তারা বঞ্চিত থাকবে। তিনি ওই সময়ে পাকিস্তানের পক্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ পরাশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। জয়লাভ করেছেন। তিনি স্বাধীনতার জন্য কোটি কোটি মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন, কিন্তু বঞ্চিত করেছেন নিজের সন্তান, স্ত্রীসহ পরিবারকে। তারপরেও একের পর এক সংগ্রাম করে বাঙালিকে বীর বানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।’
    তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সাড়ে সাতকোটি মানুষ এখন সতের কোটি। আমরা বিশ^কে নেতৃত্ব দেবো। আমরা পৃথিবীর অন্য দেশে মানবিক উচ্চতায় নেতৃত্ব দেবো। তরুণ প্রজন্ম আগামীর যে বাংলাদেশ গড়বে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অগ্রসর ভাবনা, অসাম্প্রদায়িকতা যেন স্থান পায়। পৃথিবীর যেখানেই যাবে সেখানে দেখবে অন্যহীন, বস্ত্রহীন মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মন-মানসিকতা নিয়ে যদি বড় হতে পারি তাহলেই আগামীর পৃথিবী আরও বেশি সুন্দর হবে। ভাবনা এবং সৃজনশীলতা মানুষের মননশীলতাকে বাড়ায়। সুন্দরের চর্চা সুন্দরকে আরও অগ্রসর করে।’ সবাইকে দেশমাতৃকা গড়ে তোলায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান উপাচার্য। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আকন্দের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. সহিদ আখতার হুসাইন। এছাড়া রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শতাধিক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে সনদ, বই ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপাচার্য ড. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

    বিষয় :

    বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ