• শিরোনাম

    মান্নান ভূঁইয়া আছেন মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসায় অনির্বাণ

    নূরুদ্দীন দরজী | বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ | পড়া হয়েছে 76 বার

    মান্নান ভূঁইয়া আছেন মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসায় অনির্বাণ
    apps

    গণ মানুষের প্রিয় নেতা আবদুল মান্নান ভূইয়া। তাঁর শারীরিক উপস্থিতি এখন আর আমাদের মধ্যে নেই। তিনি চলে গেছেন মানুষের দৃষ্টি সীমা ছাড়িয়ে দূর বহুদূর।  কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয় আসনে তিনি ভালোবাসায় প্রতিষ্টিত।  মানুষের হৃদয় মনে তিনি অক্ষয় ও অমলিন। সাতষট্রি বছরের জীবনাবসানে  মান্নান ভূইঁয়া ক্ষণস্থায়ী এ ধরাধাম থেকে চলে যান ২০১০ সালের ২৮ জুলাই। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে মান্নান ভূঁইয়ার দেহের অবসান হয়েছে বটে -কিন্তু তিনি হয়ে রয়েছেন চির স্মরণীয়।

    সারা বাংলাদেশ এবং নরসিংদী আর শিবপুরে মানুষের মনে রয়েছে তাঁর অমর আসন। এ আসন তিনি পেয়েছিলেন একান্তই ব্যক্তিগত ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হিসেবে। আলাদা ইমেজের কারণে। সদা সর্বদাই মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিল তাঁর দেহমন। মানুষের মন থেকে মুছে যাওয়ার মত ব্যক্তি তিনি ছিলেন না। সমগ্ৰ জন মানুষ তাঁর নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্বাসী এবং দারুনভাবে মুগ্ধ। তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন মনপ্রাণ উজার করে। তাঁর সমস্ত কর্মকান্ডই ছিল জনগণ মঙ্গল কেন্দ্রিক। জীবনের বিভিন্ন ক্ষণে যখনই নরসিংদী ও শিবপুরে আসতেন হয়ে উঠতেন সর্বস্তরের মানুষের একান্ত আপণজন। পরিনত হতেন কল্যাণের কেন্দ্র বিন্দুতে ।মানুষজন একান্ত সান্নিধ্যে মিলিত হতো তাঁর সাথে। তারা কথা বলতো অকপটে মন উজার করে। এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতো খোলামেলা। সাধ্যমত তিনি  সবার উপকার করতে চেষ্টা করতেন।  মান্নান ভূইঁয়া একান্তভাবে মিশে যেতেন শিবপুরের মাটি ও মানুষের সাথে। জীবনের মাহেন্দ্র ক্ষণে শিবপুর তথা নরসিংদীর উন্নয়ণে ছিল একান্ত প্রচেষ্টা। তাঁর উন্নয়ন ছোঁয়ায় নরসিংদী আর শিবপুর হয়ে উঠেছিল আলোকিত।  জনগণের মুখে হাসি দেখতে থাকতেন উদগ্রীব। তিনি ছিলেন সকলের আনন্দ-বেদনা ও সুখ দুঃখের সাথী।

    ২৮ জুলাই ২০১০ সাল সকল বন্ধন ছিন্ন করে তিনি চলে আসেন জন্মস্থানের মাটিতে নিজের মানুষদের কাছে। সেদিন তিনি নিরব ছিলেন কফিনে ঢাকা ছিল নিথর দেহ। আর কান্নার বন্যায় নহর বয়ে ছিল শিবপুরে। কান্নার শ্লোগান এসেছিল চতুরদিক ও আসমান জমিন বির্দীন করে। সেই কান্নার স্রোতধারা আজ ও বহে মানুষের অন্তরের গভীরে মহা সায়র হয়ে। মানুষ কেঁদে কেঁদে ফিরে তাদের প্রিয় নেতার সন্ধ্যানে। শিবপুরের ধানুয়ার মাটিতে তিনি শুয়ে আছেন “আকাশ প্রদীপ” হয়ে। এ প্রদীপ শিখা অনিমেষ ভালোবাসার পুস্প ছড়ায় আপণ মানুষের মাঝে।

    শিবপুরের যেদিকে তাকাই শুধু মান্নান ভূইঁয়া। যতদূর চোখ যায় মান্নান ভূঁইয়ার কর্মকাণ্ড। সুন্দর সুপ্রশস্ত রাস্তা, খালবিল,সুরম্য অট্টালিকা পূর্ণ  বিভিন্ন স্থাপনা  মান্নান ভূঁইয়ার স্মৃতি বহন করে। দলীয় বলয় থেকে বেরিয়ে তিনি কাজ করতেন সাধারণ মানুষের জন্যে। দেশের বৃহত্তম একটি দলের মহাসচিব হয়েও তাঁর ব্যবহার ছিল নির্দলীয়।ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাঁর সহানুভূতি ছিল সকলের জন্য সকলের তরে। ভালো কাজ করলে মানুষ যে ভুলে যায়না মান্নান ভূইঁয়া তার জ্বলন্ত প্রমাণ। শিবপুরের কথা যদি বলি ,প্রতিটি বাড়ি ছিল তাঁর আপণ নিবাস। বাড়িঘর মানুষজন তাঁকে অভিনন্দিত করতো সব উজার করে। যে কোন মুহুর্তে তাঁর আগমণে মানুষ হতো উৎফুল্ল এবং খুশির জোয়ার যেতো বয়ে। এখন মান্নান ভূইঁয়া বিহীন শিবপুরের মানুষ বড়ই একাকিত্ব বোধ করে। তাঁর স্মরণে ও তাঁর বিহনে আপণজনদের হৃদয়তন্ত্রীগুলো ছিড়ে ছিড়ে যায়। যে কোন প্রয়োজনে,আন্দোলন সংগ্ৰামে এবং দেশের মঙ্গলে তিনি থাকতেন জনগণের পাশে। উনসত্তরের গণ অভুল্থানে ,আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল প্রয়োজনে  তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে জীবন বাজি রেখে।  মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁর সুপরিকল্পিত যুদ্ধের কথা সর্বজন বিদিত। তিনি ছিলেন মেহনতী মানুষের সহচর, কৃষকের বন্ধু এবং দেশের উন্নয়নের রুপকার।

    আজ মান্নান ভূইঁয়া আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি রেখে গেছেন মহামানবের ন্যায় নন্দিত ও বাঞ্চিত আদর্শ। তিনি আর সশরীরে ফিরে আসবেন না আমাদের মাঝে কোনদিন, গ্ৰাম ও শহরের জনতার ভীড়ে। তার রেখে যাওয়া আদর্শ থেকে সবাই শিক্ষা নিতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে আগামীর পথে সে আদর্শের সিঁড়ি বেয়ে। বেঁচে থাকতে  হবে তাঁর যোগ্য সতীর্থ ও আদর্শের সৈনিক হয়ে। কাজ করে যেতে তাঁকে অনুস্মরণ করে।‌

    (-২৮ জুলাই মান্নান ভূঁইয়ার একাদশতম মৃত্যু বার্ষিকীর স্মরণে পরম শ্রদ্ধা ভরে)
    লেখক: কলামিস্ট, গল্প ও প্রবন্ধকার এবং সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টিইও)

    বাংলাদেশ সময়: ১২:৩১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রূপা

    ২৪ অক্টোবর ২০২০

    নায়িকা হয়েও কবি ছিলেন

    ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

    কৃষি ব্যাংক নিয়ে গান

    ৩০ নভেম্বর ২০২০

    অসভ্যতার বিজয় কেতন

    ০৯ অক্টোবর ২০২০

    ছোটগল্প (দেনা)

    ২৫ জুলাই ২০২১

    আর্কাইভ