আজমিরী সুলতানা, মনোহরদী | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট
মনোহরদী সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। হাসপাতালে প্রতিদিন সকাল ৯ ঘটিকা হতে কর্তব্যরত সকল চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা উপস্থিত হয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন এবং যথাযথ সময়ে হাসপাতাল ত্যাগ করছেন। সর্বক্ষণ তদারকি করছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ। এতে করে চিকিৎসা ও সেবার মানোন্নয়নে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। রোগীরাও সেবা নিতে এসে তাদের কাঙ্খিত সেবা পেয়ে খুশি হয়ে বাড়ি ফিরছেন।পাল্টে গেছে হাসপাতালের চিত্র। সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত লোকজন চিকিৎসা সেবা নিতে হাসপাতালে ভিড় করতে দেখা গেছে। সকাল ৯ টা থেকে লাইন ধরে স্বল্প খরচে টিকিট কেটে নারী পুরুষ ও শিশুদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। এ ছাড়াও রোগীদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতালের ফার্মেসী থেকে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
চাহিদামতো ওষুধ পেয়ে রোগীরাও খুশি হয়ে বাড়ি ফিরছেন। রোগীদের মাঝে নেই কোন অভাব অভিযোগ। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাত-দিন ২৪ ঘন্টায় নিরলসভাবে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম নামে এক রোগী জানান আগের তুলনায় বর্তমানে চিকিৎসার ধরণ মান যত্নে অনেকটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে চিকিৎসার আমুল পরিবর্তন হবে এবং রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে স্বস্তি বোধ করবে। হাসপাতাল চত্বরে নেই কোন দালালদের আনাগোনা। সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানির কোন প্রতিনিধিকে হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায় না। হাসপাতালের ভিতরে ও বাহিরের পরিবেশ অনেকটাই পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন রয়েছে। পুরুষ ও নারী রোগীদের ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় ডাক্তার ও নার্সরা রোগিদের ভিজিট করছেন। হাসপাতাল কতৃপক্ষ রোগিদের মাঝে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করছেন। রিয়াজ নামে পুরুষ ওয়ার্ডের একজন রোগী জানান সর্বক্ষণ ডাক্তার ও নার্সরা এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং দ্রুত আরোগ্যলাভে নানাবিধ পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রায় সব ধরনের রোগের পরিক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে এ হাসপাতালটিতে। অল্প টাকায় বিভিন্ন ধরনের রোগের টেস্ট করতে পেরে রোগীরাও অনেক খুশি। গুরুত্বপূর্ণ রোগীদের ঢাকা প্রেরণে স্বল্প টাকায় এ্যাম্বোল্যান্সের সুব্যবস্থা রয়েছে হাসপাতালে।
৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ এ হাসপাতালে রোগীদের চাহিদামতো ওষুধের ব্যবস্থাও রয়েছে। রোগীরা চাহিদামতো ওষুধ পেয়ে অনেকেই খুশি। মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.রাশেদুল হাসান জানান স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবার মানোন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি। আমরা হাসপাতাটিকে আরো সেবামুখি করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ইতিমধ্যে হাসপাতালটি স্বাস্থ্য বিভাগের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা পরিদর্শন করছেন।পরিদর্শনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় মেশিন,পানীয় জলের ব্যবস্থা অপ্রতুল এবং জরুরি ভিত্তিতে শৃন্যপদ পুরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
কিভাবে স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া যায় সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান ডা.রাশেদুল হাসান মাহমুদ । স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল আরো বলেন আমরা সেবা দাতা ও সেবা গ্রহিতার মাঝে একটা সেতু বন্ধন তৈরি করতে পেরেছি। সেতুবন্ধনের মধ্যে দিয়ে এলাকার স্বাস্থ্যসেবার গুনগতমান বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়াও তিনি হাসপাতালে সেবা বিষয়,সেবার মান বিষয়,সেবা গ্রহিতার দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়, স্বাস্থ্য সেবার সাথে জড়িতদের আচার-আচরণ বিষয়,বিনামূল্যে সরবরাহ করা ওষুধ বিষয়, রোগীদের খাবার বিষয়,পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়, হাসপাতালে পানি ব্যবস্থাপনা এ সকল বিষয়াদি নিয়ে প্রায় সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সাথে ব্রিফিং করে থাকেন তিনি।
ডা. রাশেদুল হাসান মাহমুদ আরও জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয় হাসপাতালের বিষয়ে সব সময় খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে তিনি আমাদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি জানান, সে জন্য তিনি মন্ত্রী মহোদয়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
Posted ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।