• শিরোনাম

    বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে যমুনায় পানি, অসহায় নদী পাড়ের মানুষ

    টি,এম,এ হাসান, সিরাজগঞ্জ : | সোমবার, ২৩ আগস্ট ২০২১ | পড়া হয়েছে 91 বার

    বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে যমুনায় পানি, অসহায় নদী পাড়ের মানুষ
    apps

    ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অভ্যন্তরীণ নদ-নদী ও চলনবিলের পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ছে নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন যমুনার পানি আরও দু-একদিন বাড়বে। এতে অতিক্রম করতে পারে বিপদ সীমাও। আর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙ্গণ অব্যাহত থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষ, ভীতিও কাজ করছে নদী তীরবর্তী এলাকা গুলোতে। অন্যদিকে পানি বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন জেলার গো-খামারিরাও। রবিবার (২২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ ও কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টের ওমর ফারুক জানান, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ১২সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার ও কাজিপুরে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত শনিবার (১৪ আগস্ট) থেকে শুরু করে আজ রবিবার (২২ আগস্ট) পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল ইতোমধ্যেই বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এ সকল এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি উঠে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন বন্যা দুর্গতরা।

    বন্যা কবলিত এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে রোপা আমন ক্ষেত, বীজতলা, আখ, পাট, তিল ও সবজিবাগানসহ বিভিন্ন ফসল। এদিকে পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ গো-চারণভূমি ও সবুজ ঘাস। ফলে ২লক্ষাধিক গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গো-খামারিরা। খামারিদের বাড়ির ছোট ছোট খামারগুলোতে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে গবাদি পশুগুলো। এতে নানান রোগ দেখা দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। বর্ষাকালে সবুজ ঘাস না থাকায় খড়, ভুসি, খৈলসহ প্যাকেটজাত খাবারে নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ব্যয়, কমেছে দুগ্ধ উৎপাদন। অপরদিকে জেলার কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, তেকানি, মুনসুরনগর ও খাসরাজবাড়ি ইউনিয়ন এবং চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা। নদীর পার থেকে ঘড়-বাড়ি সড়িয়ে নিচ্ছেন ভাঙন কবলিতরা। এলাকার বর্ননা দিতে গিয়ে নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, এই ইউনিয়নের ডিক্রীদোরতা গ্রাম ও জিআরডিপি নৌকাঘাট পয়েন্টে ব্যাপক আকারে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিলীন হচ্ছে আবাদী জমি ও নতুন স্থাপন করা বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পূর্ভাবাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে যমুনা নদীর পানি আরও দু-একদিন বাড়তে পারে। এ সময়ের মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রমও করতে পারে। সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর রাখছি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো বিতরণ করা হবে।

    বাংলাদেশ সময়: ১:৩০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৩ আগস্ট ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ