• শিরোনাম

    বিখ্যাত ‘মঙ্গলবাড়িয়া লিচু’র স্বাদ ছড়াচ্ছে বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে

    এ. এম. উবায়েদ, নিজস্ব প্রতিনিধি | বুধবার, ১১ মে ২০২২ | পড়া হয়েছে 13 বার

    বিখ্যাত ‘মঙ্গলবাড়িয়া লিচু’র স্বাদ ছড়াচ্ছে বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে

    বিখ্যাত ‘মঙ্গলবাড়িয়া লিচু’র স্বাদ ছড়াচ্ছে বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে

    apps

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম মঙ্গলবাড়িয়া। এ গ্রামে এ লিচুর স্বাদ নেওয়ার জন্য মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে ভিড় করেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লিচুরসিক ক্রেতারা। সাধারণত মঙ্গলবাড়িয়া লিচু রপ্তানি হয় ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাশাপাশি ক্রমেই দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে এ লিচুর খ্যাতি। গ্রামের নামেই লিচুর নাম রাখা হয়েছে ‘মঙ্গলবাড়িয়া লিচু’। রসালো, সুমিষ্ট, সুগন্ধ ও গাঢ় লাল রঙের কারণে এ লিচুর খ্যাতি ছড়িয়ে গেছে দেশের বাহিরেও। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার এ লিচুর ফলনও হয়েছে বাম্পার। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক লিচু-বাগান আছে। বাগানেই এ লিচু বিক্রি হয়। প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এ বছর চাষিরা বাগানগুলো থেকে আনুমানিক ১০ কোটি টাকার অধিক লিচু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। মঙ্গলবাড়িয়ার প্রতিটি বাড়ির বসতভিটার বা আঙিনায় গাছে গাছে থোকায় থোকায় লাল রং এর ক্ষুদ্রাকৃতির বিচি, পাতলা চামড়া ও বড় আকৃতির লিচু সবার নজর কাড়ছে। সুস্বাদু ও উন্নত জাতের লিচুর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।শাঁস মোটা ও রসে ভরপুর এ লিচুর মূল জনপ্রিয়তা তার ঘ্রাণে। মঙ্গলবাড়িয়ার সুস্বাদু লিচুর উৎপত্তি নিয়ে প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, ওই গ্রামের আ. হাসিম মুন্সী নামের এক স্কুল শিক্ষক বহু বছর আগে ভারতীয় একটি গোলাপী জাতের লিচুর চারা এনে বাড়ির সামনে রোপন করেছিলেন। ৫ থেকে ৭ বছর পর চারা গাছে লিচুর ফলন হয়। তার গাছের লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় উক্ত গ্রামের কৃষক বশির উদ্দিন এই গাছের কলম চারা তৈরি করে লিচুর চাষ শুরু করেন। পর্যক্রমে সম্প্রসারিত হতে থাকে এই লিচুর চাষ। বর্তমানে মঙ্গলবাড়িয়া, কুমারপুর, হোসেন্দী, নারান্দী, তারাকান্দি, জাঙ্গালীয়া, সুখিয়া, ও চন্ডিপাশাসহ উপজেলার সর্বত্রই অধিকাংশ বাড়িতে লিচুর বাগান রয়েছে। তার মধ্যে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামেই ৭-৮শ’ লিচুর বাগান রয়েছে। প্রতি বছর গাছে মুকুল আসার আগেই বেপারীরা অনেক লিচু গাছ আগাম কিনে নেয়। পাইকাররা এখান থেকে লিচু কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। এছাড়াও আমেরিকা, জার্মান, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদিআরব, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও লন্ডনে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে যাচ্ছে মঙ্গলবাড়িয়ার এ সুস্বাদু লিচু। মঙ্গলবাড়িয়ার অধিকাংশ লিচু-বাগানই আগাম বিক্রি হয়ে যায়। পাইকাররা অগ্রিম গাছ কিনে অতিরিক্ত দামে লিচু বিক্রি করে থাকেন। এবারও ভালো দাম পাবেন বলে আশা করেন চাষি ও পাইকাররা। এ জন্য সবার মুখে হাসি। লিচু চাষী আমিনুল ইসলাম জানান, আমার বাগানে ৫০ থেকে ৬০টি লিচু গাছ রয়েছে। এ বাগান থেকে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। প্রতিবছর বাগানের লিচু বিক্রি করে লাখ টাকার উপরে আয় করেন। পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের উৎপাদিত লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু। শাঁস মোটা, রসে ভরপুর, গন্ধও অতুলনীয়। পরিবেশ অনুকুল হওয়াতে চলতি বছর বাগানগুলো থেকে লিচু বিক্রি করে চাষীরা ভালো লাভবান হতে পারবেন।

    বাংলাদেশ সময়: ১২:২০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১১ মে ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ