• শিরোনাম

    বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য বিদেশী নাগরিকের সমস্যার সমাধান করে দিলেন

     স্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 75 বার

    বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য বিদেশী নাগরিকের সমস্যার সমাধান করে দিলেন
    apps

    বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য আলমগীর হোসেন , এক বিদেশী ফিলিপাই নাগরিকের আর্থিক লেনদেনের বিষয় সমাধান করে দিলেন।এই বিষয়ে পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেন তার বক্তব্য তুলে ধরনে প্রতিবেদকের কাছে, সেটা হুবহু তুলে ধরা হলো। ফিলিপাইনি এক বন্ধুর ১,৭৫,০০০ (এক লক্ষ পঁচাত্তর) হাজার টাকা বুঝিয়ে দিলাম এবং উভয়ের মধ্যকার ভূল বোঝাবুঝির অবসান করলাম। কিছুদিন আগে সে নারী আমাকে নক করে হেল্প চায়। আমি দুইতিন দিন পর মেসেজ চেক করতে গিয়ে দেখি টেক্সট। পরে বিস্তারিত বলতে বলি। সে বলে গতবছর করোনা কালীন সময়ে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীকে ২,৪৮,০০০ টাকার কিছু গার্মেন্টসের প্রোডাক্ট অর্ডার করে। কিন্তু উক্ত প্রোডাক্ট ছয় সাত মাসেও সে পায়নি। সে একজন ব্যবসায়ী তার অনেকগুলো টাকা আটকা পড়াতে সে ব্যবসায়ীক ভাবে খুব ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়াতে সে প্রোডাক্ট আর নিতে চায়না, টাকাগুলো রিফান্ড এ ব্যাপারে আমার সহযোগিতা চায়। এদিকে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী করোনা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারনে তার প্রোডাক্ট গুলো পৌছে দিতে পারেনি মর্মে তাকে বুঝিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রোডাক্ত সে দেবে সেটা সে প্রতিনিয়ত বলেই যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও প্রোডাক্ট না পাওয়া এবং টাকা রিফান্ড না করাতে তিনি একরকম হতাশ ছিলেন। উক্ত প্রোডাক্ট প্রায় সাত আট মাস পরে পৌছেছিল কিন্তু তখন ফিলিপাইন নারী প্রোডাক্ট নিতে নারাজ। তিনি তখন তার টাকা রিফান্ড চাচ্ছিলেন। এখানকার ব্যবসায়ী ভাই কিছু ভেবে না পেয়ে টাকা রিফান্ড করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবং ৭৮,০০০ হাজার টাকা তিনি রিফান্ড করেছেনও। আর বাকি টাকা কিন্তু তিন চার মাস ধরে দিবেন দিবেন বলে দিতে পারছিলেন না। -প্রথমত তার পাঠানো প্রোডাক্টগুলো ফিলিপাইনে গিয়ে আটকা পড়েছিল যেকারনে অনেক গুলো টাকা সেখানে তার আটকে ছিল। এবং ব্যবসার জন্য আরো প্রোডাক্ট যেগুলো ফিলিপাইনে পাঠিয়েছিলেন কিন্তু কাস্টমার সেগুলোও রিসিভ করতে পারছিলেন না করোনা এবং অন্যান্য কারনে। এমনটাই তার বক্তব্য ছিল সত্য মিথ্যা তিনি জানেন। যার কারনে হয়তো টাকাগুলো তিনি দিতে পারছিলেন না। কিন্তু ওই নারী ভেবেছিলেন হয়তো টাকাটা ফিরে পাবেনা আর। কারন তিন চার মাস হয়ে গেছে রিফান্ড করবেন বলে করছেন না, তাই উক্ত নারী তিনি খুব অসহায় বোধ করছিলেন। নারী প্রতিনিয়ত বিডির সেই ভাইয়ের ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো ফলো করতেন তার প্রোডাক্ট পৌছাচ্ছে কিছু কাস্টমারে রিসিভ করছে। এসব দেখে তিনি হতাশ ছিলেন। প্রোডাক্ট পৌছাচ্ছে বাট তিনি টাকা রিফান্ড পাচ্ছেন না কেন? আমাকে কোথায় কিভাবে পেয়েছে আমি জানিনা। সব বিস্তারিত আমাকে বলার পর আমি প্রমাণ দেখতে চাইলাম সবকিছুর। তো যথেষ্ট প্রমাণ সে আমাকে দিয়েছে। সব দেখে আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম অবশ্যই আপনি আপনার টাকা ফেরৎ পাবেন যদি আপনি লিগ্যাল থাকেন। আমি এখানকার ব্যবসায়ী ভাইকে কল দিলাম। সালাম দিয়ে পরিচয় দিয়ে খুব বিনয়ের সাথে জিঙ্গেস করলাম ভাই অমুক নামে কাউকে চিনেন কিনা তার সাথে ব্যবসায়ীক কোন লেনদেন আছে কিনা? তিনি প্রথমে একটু উত্তেজিত ছিলেন হয়তো বিশ্বাস করছিলেন না আমাকে এবং পরিচয়কে। ভূয়া কোন লোক ভেবেছিলেন হয়তো। তিনি পরে ডিরেক্ট বলেছেনই আমি অন্য কোন ব্যবসায়ী। শেষমেষ একদিন ভিডিও কল দিলেন তখন অফিসে ছিলাম আমি, পরে বিশ্বাস করেছেন আমাকে। কিন্তু প্রথমেই ব্যবসায়ী ভাই তসব অকপটে স্বীকার করেছেন ঘটনা গুলো। বেশ অনেক কথা হলো এবং এক পর্যায়ে তিনি বললেন তিনি টাকাগুলো রিফান্ড করবেন তবে মাস খানেক সময় লাগবে। আমি বললাম সমস্যা নাই ভাই যেহেতু সে বিদেশী নাগরিক যদি আপনি টাকাগুলো রিফান্ড না করেন তাহলে দেশের এবং দেশের মানুষের প্রচুর বদনাম তিনি করবেন। আপনাদের লেনদের বাকিটা কাজ আমি দায়িত্ব নিয়ে শেষ করতে চাই। আমি ফিলিপাইনি নারীকেও বলি যে একটু সময় লাগবে তবে নিশ্চিত থাকুন আপনার সব টাকা পাবেন। কিন্তু একমাস তিনি অপেক্ষা করতে নারাজ। আমি তাকে প্রচুর বোঝালাম দেখুন, ও একজন ছোট ব্যবসায়ী যেমনটা আপনিও। সূতরায় উভয়কে স্যাক্রিফাইস করতে হবে। আমি যেহেতু দায়িত্বটা নিয়েছি তাই আপনারা সমাধানটা আমার উপর ছেড়ে দিন। পরে মেয়েটি রাজি হলেও দুইতিন পরপর মেসেজ দিতো, বিডির ওই ব্যবসায়ীর শিপমেন্ট পৌছানোর ব্যাপারে কথা বলতো। আমি বিভিন্ন রকম কথা বলে বুঝিয়ে রাখতাম। তো মাস খানেক যাওয়ার পর তিনি প্রথম ধামে ৬০,০০০ হাজার টাকা রিফান্ড করে এবং পরবর্তীতে প্রায় পনের বিশ দিনের মত একটা গ্যাপ নেয়। যখন তার শিপমেন্ট ফিলিপাইনে পৌছায় কাস্টমার রিসিভ করে তিনি টাকা পান ঠিক তখনি তিনি টাকাগুলো রিফান্ড করছিলেন। আমিও ওনাকে জোর করছিলাম না, আমিও চাচ্ছিলাম তিনি আস্তে ধীরে উনার সুবিধা বুঝে রিফান্ড করুক বাট টাকাটা তাকে দিতেই হবে সে ব্যাপারে কঠোর ছিলাম। তারও নাকি ব্যবসা খারাপ যাচ্ছিল এবং অনেকগুলো টাকা তার ফিলিপাইনে আটকা। তো পরবর্তীতে প্রায় তিন মাস সময় লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে টাকাগুলো রিফান্ড করেছে। সর্বশেষ টাকাটা ২০ (বিশ) ই এপ্রিল রিফান্ড করে আমাকে জানালো। অবশ্য উনি আমাকে বলেছে আমি দায়িত্ব না নিলেও তিনি টাকা রিফান্ড করতেন। কিন্তু সময়টা লম্বা হওয়াতে একটা অনাস্থা সবারই আসতেই পারে। আমি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ভাইকে ধন্যবাদ দেই যে সে আমার কথা শুনেছে এবং সুন্দর ব্যবহার করে দেরীতে হলেও টাকাটা রিফান্ড করেছে। ফিলিপাইনি নারীকেও ধন্যবাদ, কারন তিনিও ধৈর্য্য সহকারে যথেষ্ট সময় দিয়েছে। ব্যবসা হোক সুন্দর ভাবে। এরকম ভূল বোঝাবুঝি যেন কারো না হয়। সর্বশেষ এটা বলতে চাই যে আমি ইচ্ছা করলে বিষয়টা সুরাহা না করেও পারতাম। এখানে আমার এক টাকা লাভ হয়নি উল্টা ওই লোককে কল করতে টাকা ও সময় নস্ট হয়েছে দুজনের সাথেই কথা বলতে তবু চেয়েছিলাম দেশ বিদেশের দুজনেরই সুনামটা অক্ষুন্ন থাকুক। কারন ব্যবসায়ী ভাই বলেছিলেন ওনার অনেক ক্লাইন্ট আছে ফিলিপাইনে। তাই একটু আন্তরিক ছিলাম বিষয়টা নিয়ে।

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    পরম শ্রদ্ধেয় বাবার স্মরণে

    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আজ বিজয়া দশমী

    ২৬ অক্টোবর ২০২০

    আর্কাইভ