• শিরোনাম

    বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ত্রাণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ধ্বংসের চক্রান্ত।

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ | বুধবার, ২৩ মার্চ ২০২২ | পড়া হয়েছে 57 বার

    বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ত্রাণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ধ্বংসের চক্রান্ত।

    বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ত্রাণ / দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ধ্বংসের চক্রান্ত।

    apps

    ডিজি আতিকের কোটি টাকার নিয়োগ ও ট্রেনিং বানিজ্য… মন্ত্রী – সচিব অসহায় ডিজি আতিকের কাছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কে সুপরিকল্পিত ভাবে ধ্বংসের চক্রান্তে নেমেছেন উক্ত প্রতিষ্ঠানেরই মহাপরিচালক জনাব আতিকুল হক। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ কে দেশের ক্ষুধার্ত মানুষ বাঁচাতে গঠন করেন ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর। কালক্রমে কয়েক বার অধিদপ্তরের নাম পরিবর্তন হয়৷ সর্বশেষ ২০১২ সালে আঃলীগ সরকারের আমলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কে একত্রিত করে গঠন করা হয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জনবল সংকট শুরুতে ছিল। উপজেলা কাঠামোতে মাত্র একজন কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারী দিয়ে চালানো হচ্ছে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচি। জনবল সংকট আরও সংকটময় করে তুলে শত শত শূন্য পদ। আর এই শূন্যপদ সমূহ ই আশীর্বাদ হয় ডিজি আতিকুল হক। তিনি সরকারের এজেন্ডা তথা মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিবর্তে নিয়োগ ও ট্রেণিং অতি উৎসাহী। তিনি দেড় বছরে চার দফা নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নেন।প্রথম ১০০ জন অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট নিয়োগ দেন,এর পর তৃতীয় শ্রেণির আরও একশ দশ জন কর্মচারী নিয়োগ ব্যাপক দূর্নীতি করেন খুব সূক্ষ্ম ভাবে যা অনেকেই বুঝার আগেই তাড়াহুড়া করে রাতে রাতে নিয়োগ প্রদান করা হয়। জানা এ কাজে ডিজি আতিক কে সহযোগিতা করেন উপ পরিচালক হাবিব উল্লাহ বাহার। অফিস সহকারী নিয়োগের প্রশ্ন পত্র প্রনয়ণ করা হয় পরীক্ষার আগের মধ্য রাতে এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন ডিজি আতিক ও ডিডি বাহার। ডিজি আতিক তার বিশস্ত কয়েকজন লোকের মাধ্যমে প্রনীত প্রশ্ন পত্র ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রতি জনের কাছ থেকে দশ থেকে বার লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রেরণ করেন। নিয়োগ পরীক্ষার তদারকিতে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মকর্তা ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন ৭৫ নং এর মধ্যে কয়েকজন যে ৭০,৭২,৬৮ পেয়েছে যা সত্যিকার ভাবে প্রশ্ন না পেলে পাওয়া সম্ভব নয়। ডিজি আতিকের একজন বিশস্ত প্রকৌশলী আছেন যারা মাধ্যমে তিনি এ পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র বিক্রি করেছেন মধ্যরাতে। নিয়োগ পাওয়াদের তালিকা পর্যালোচনা করেও এর প্রমান পাওয়া যায়। দেখা যায় উক্ত প্রকৌশলীর এলাকার এবং আত্মীয় স্বজনই আছে ১৭ জন। জানা যায় তিনি দুই দফায় ৩৭ জনের কাছ থেকে গড়ে দশ লক্ষ টাকা করে তিনি কামিয়েছেন তিন কোটি টাকারও অধিক। এর পর আগে ডিজি আতিক নিয়োগ দেন ব্রীজ কালভার্ট প্রকল্পে কার্য সহকারী। আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগের কথা থাকলেও ডিজি আতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছে মতো নিয়োগ কার্যক্রম করেন। তিনি একাই দেন প্রায় ৪৫ জন প্রার্থী এর মধ্যে তার ডিজি আতিকের আত্মীয় স্বজন গ্রামের লোকেরসংখ্যাই বেশি। তিনি আরেক টি প্রকল্পে তার নিজের কথিত আত্মীয় কে ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট না থাকা সত্বেও উপসহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরী প্রদান করেন। উপ সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরির যোগ্যতা হিসেবে নিয়োগ বিঞ্জপ্তিতে ডিপ্লোমা পাশের কথা উল্লেখ থাকলেও উক্ত নারী প্রকৌশলীর এ ধরনের সার্টিফিকেট নেই অথচ ডিজি আইন লংঘন করে এ নিয়োগ প্রদান করেন। এতে এ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উক্ত প্রকল্পের তৎকালীন পিডি তাকে নিয়োগ দিতে বাধ্য হোন বলে জানা যায়। এছাড়া একই প্রকল্পের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী আঃলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় তাকে চাকরী হতে বরাখাস্ত করে ডিজি আতিক আবারও কথিত আত্মীয় পরিচয়ে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের জেলায় একজন উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দেন। নিয়োগে তিনি ভয়াবহ দূর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এর পর শুরু হয় ডিজি আতিকের ট্রেনিং বানিজ্য। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে অধিদপ্তরের একজন উপ পরিচালক জনাব নিতাই চন্দ্র দে।তাকে নিয়ে তিনি এখনও দেদারসে ট্রেনিং এর নামে লাখ লাখ টাকা অবৈধ ভাবে আয় করছেন।বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলেও সকল প্রশিক্ষণে অধিকাংশ ক্লাসের বক্তা তিনি নিজেই। প্রশিক্ষণের বিষয়ের উপর তিনি কোন ক্লাসও নেন না বা কোন আলোচনাও হয় না। তিনি সকল ক্লাসেই আগের কর্মস্থলের গল্প এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মিথ্যাচার কাহিনি বর্ননা করেন এমন কি মন্ত্রনালয়ের সচিব তার জুনিয়র হওয়া এমন কি উক্ত মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কে নিয়ে উপহাস করতেও দ্বিধা করেন না। অধিকাংশ ক্লাসেও তিনি সরকারের গৃহিত কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করে থাকেন যা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে। প্রতি ক্লাসে অন্য কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে তিনি ঘন্টায় ৫ হাজার করে সম্মানী নিয়ে থাকেন। গড়ে সপ্তাহে চার দিন করে দিনে চার টা করে ক্লাস এর অজুহাতে মাসে প্রায় চার লক্ষ করে এ যাবত প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। অথচ দূর দূরান্ত হতে আগত কর্মকর্তা দের বেশির ভাগ সময় কোন যাতায়াত ভাতা এবং সম্মানী দেয়া হয় না। বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল মাত্র ডিজি আতিকের সময় ই অসহায় দরিদ্র দের বিতরনের জন্য কম্বল ক্রয় করতে ব্যর্থ হয়। প্রতি বছর শীত কালে সারাদেশে অসহায় দরিদ্র পীড়িত জনগনের জন্য সরকার শীত বস্ত্র হিসেবে কম্বল ও চাদর বিতরণ করে থাকে। কিন্তু ডিজি আতিক যোগদানের পর গত ২০২০ এবং ২০২১ সালে বার বার টেন্ডার আহ্বান করেও কম্বল কেনা হয়নি। মূলত সরকারকে বিব্রত করতেই আতিক কম্বল কিনতে অনাগ্রহ ছিলেন। কম্বল কেনার নাটক করে শেষমেস জেলাপ্রশাসকদের অনুকূলে তাড়া হুড়া করে শেষ সময়ে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে অধিকাংশ জেলার উপজেলা প্রশাসন সঠিক সময়ে কম্বল কিনতে পারেনি।এতে অসহায় দুঃস্থ মানুষ প্রয়োজনের সময় শীতের কম্বল পায়নি। ডিজি আতিকের আরেকটি বড় পরিকল্পনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কে ধ্বংসের পায়তারা করা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাতি অর্জন করলেও আতিক সাহেব বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া একটা বিভাগ কে ব্যর্থ প্রমান করতে তৎপর। এ ব্যাপারে ডিজি আতিক‍ুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নাই ।

    বাংলাদেশ সময়: ৬:২৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৩ মার্চ ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আজ বিজয়া দশমী

    ২৬ অক্টোবর ২০২০

    আর্কাইভ