• শিরোনাম

    জাজিরায় ইউপি নির্বাচন

    প্রতিপক্ষের নির্বাচনী ক্লাব, বাড়ী-ঘর ভাংচুরসহ সাবেক এমপির বাড়ীতে হামলা, গুলিবৃদ্ধসহ আহত ৩০ জন

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি | সোমবার, ১৩ জুন ২০২২ | পড়া হয়েছে 33 বার

    প্রতিপক্ষের নির্বাচনী ক্লাব, বাড়ী-ঘর ভাংচুরসহ সাবেক এমপির বাড়ীতে হামলা, গুলিবৃদ্ধসহ আহত ৩০ জন
    apps

    শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার রাতে প্রতিপক্ষের নির্বাচনী ক্লাব, বাড়ী-ঘর ভাংচুর, সাবেক এমপি বাড়ী হামলাসহ গুলি, বোমা বিস্ফোরন ও সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উভয় গ্রুপের হামলায় গুলিবৃদ্ধ সহ অন্তত ৩০ জন মারাত্নক আহত হয়েছে। আহতদের জাজিরা উপজেলা হাসপাতাল, শরীয়তপুর সদর হাসপতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে দু গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উভয় গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখনো পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
    আহত জোনায়েত মাদবর, সাগরী বেগম ও জাজিরা থানা সুত্রে জানাযায়, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার রড় গোপালপুর ইউনিয়নে আগামী ১৫ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কে এম জামিল হোসেন ( মোটর সাইকেল) ও অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী, সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার (আনারস) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। গতকাল রোববার রাতে বড় গোপালপুর ইউনিয়নের টেকের কান্দি গ্রামে উভয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ভোট চাইতে যায়। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে প্রথমে কথা কাটা কাটি হয়। পরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় গ্রুপের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র.সস্ত্র রাম দা, টেটা, বল্লম ও শত শত হাত বোমা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ২ ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে জাকিয়া বেগম (৫০), সুর্য বেগম (৬৫), সাগরি বেগম (৩৫), রুবেল কবিরাজ (৩০), আক্কাস কবিরাজ (৪০), মিঠু মাদবর (৩০), ইমরান মাদবর (৩৬), কিনাই খালাশী (৬০), সোহাগ সরদার (৩৭), রেজা সরদার (৪০), তুহিন মুন্সি (৩৫), আবুল কালাম সরদার (৪০), জোনায়েদ মাদবর (২০)সহ অন্তত: ৩০ জন মারাত্নক আহত হয়েছে। অহতদের মধ্যে আশংকা জনক অবস্থায় গুলিবৃদ্ধ সোহাগ সরদার, রেজা সরদার ও আবুল কালাম সরদারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের জাজিরা উপজেলা হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় হামলা কারীরা সাবেক এমপি মাষ্টার মজিবুর রহমানের বাড়ী, ৩ টি নির্বাচনী ক্লাব, ১৫ টি বাড়ী ঘর ভাংচুর করেছে। এ সময় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারন ভোটারদের মধ্যে উদ্দ্যেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। তারা শান্তিপূর্নভাবে ভোট দিতে পারবে কি না ? তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সুষ্টভোট নিয়ে ও শংকা রয়েছে। এ ব্যপারে বড় গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে এম জামিল হোসেন (মোটর সাইকেল) এর সমর্থক ও সাবেক এমপি মাষ্টার মজিবুর রহমানের ভাতিজা নাহিদুল রহমান নান্নু বাদী হয়ে ৮৩ জনকে আসামীকে জাজিরা থানায় একটি দায়ের করা হয়েছে। অপর দিকে বড় গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার (আনারস) বাদী হয়ে ৫১ জনকে আসামী করে জাজিরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় পুরো ইউনিয়নের পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
    স্থানীয় ভোটার, আতাউর রহমান, বমিজ উদ্দিন, মিজানুর রহমান বলেন, অস্ত্র,সস্ত্র ও বোমা নিয়ে যে প্রকাশ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে আমরা নিবিগ্নে ভোট দিতে পারবো কিনা, তা নিয়ে শংসয় বয়েছে। আমরা আতংক।
    বড় গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে এম জামিল হোসেন (মোটর সাইকেল) বলেন , সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবুর রহমান লিটু সরদারের সমর্থকরা অন্যায় বাবে আমার বাড়ীঘর ও নির্বাচনী ক্লাব ও সাবেক এমপি মাষ্টার মজিবুর রহমানের বাড়ী ঘওে হামলা চালীয়ে বাংচুর করেছে।
    মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার (আনারস) বলেন, টেকের কান্দি এলাকায় ভোট চাইতে গেলে চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল হোসেন (মোটর সাইকেল) প্রতীকের প্রার্থীসহ তার সমর্থকরা আমার সমর্থকদেও উপর হামলা করে। ব্যাপক বোমা ও গুলি বর্যন করে। এতে আমার ৩ জন গুলি বিদ্ধসহ ১০/১২ জন মারান্তক আহত হয়েছে।
    জাজিরা থানার ভানপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বড় গোপালপুর এলাকায় দু চেয়াম্যান প্রার্তী সমর্থদের মদ্যে মারামারি হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েত করা হয়েছে।

     

    বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৩ জুন ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ