• শিরোনাম

    পেঁয়াজের বাজারে নতুন সাড়ে পাঁচশ’ ব্যবসায়ী

    অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 108 বার

    পেঁয়াজের বাজারে নতুন সাড়ে পাঁচশ’ ব্যবসায়ী
    apps

    নবকন্ঠ ডেস্ক:

    পেঁয়াজের বাজার ধরতে মাঠে নেমেছেন নতুন সাড়ে পাঁচশ’ ব্যবসায়ী। এ তালিকায় বড় শিল্প গ্রুপের পাশাপাশি আছেন মৌসুমি ছোট ব্যবসায়ীরাও। ভারতের বিকল্প দেশ থেকে ছয় লাখ টন পেঁয়াজ আনতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এরই মধ্যে অনুমতিপত্র নিয়েছেন এসব ব্যবসায়ী। ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা আসার আগে থেকেই এ অনুমতির জন্য আবেদন করতে শুরু করেন তারা। অধিদপ্তর বলছে, এত অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি আগে কখনও দেয়নি তারা।

    অনুমতিপত্র নেওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে কতজন এলসি খুলেছেন তা অবশ্য জানা নেই অধিদপ্তরের। তাদের ধারণা, যারা অনুমতি নিচ্ছেন তাদের বেশিরভাগ এখনও এলসি খোলেননি। বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন অনেকে। প্রসঙ্গত সম্প্রতি পেঁয়াজ আমদানির ওপর নির্ধারিত ৫ শতাংশ শুল্ক্কের পুরোটাই প্রত্যাহার করে নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অনুমতিপত্র নেওয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

    নজর নেদারল্যান্ডস-নিউজিল্যান্ডের দিকে: পেঁয়াজের জন্য ভারতের বিকল্প দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা গত বছর ঝুঁকেছিলেন মিয়ানমার, পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক ও মিসরের দিকে। এবার শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো থেকে পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খুলছেন ব্যবসায়ীরা। এস আলম গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০ হাজার টন পেঁয়াজ আনার অনুমতিপত্র নিয়েছে। ঋণপত্র খোলার পর তারা এই পেঁয়াজ আনবে নেদারল্যান্ডস থেকে। অনুমতিপত্র নেওয়া বেশিরভাগ পেঁয়াজ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারবাহী জাহাজে করে সমুদ্রপথে আনা হবে চট্টগ্রাম বন্দরে। এখন এলসি খুললেও এসব পেঁয়াজ আসতে সময় লাগবে নূ্যনতম ১৫ দিন থেকে এক মাস।

    এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘পেঁয়াজের চাহিদা ও মজুদবিষয়ক তথ্য ভালোভাবে বুঝে এলসি খোলা উচিত। নতুন ব্যবসায়ীদের এ ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে বেশি। বাজারে যে সংকট আছে তা কত দিন থাকবে, এ মুহূর্তে কত পণ্য মজুদ আছে আর কত চাহিদা আছে এগুলো পর্যবেক্ষণ করা উচিত সবার।’

    তৎপর সাড়ে পাঁচশ ব্যবসায়ী: প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বর মাসের ২০ দিনে সাড়ে পাঁচশ’ ব্যবসায়ী প্রায় ছয় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন। এর মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক দিনে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন দুই শতাধিক ব্যবসায়ী। সাড়ে আটশ’ চালানে এসব পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আনার কথা রয়েছে তাদের।

    পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এস আলম গ্রুপ নেদারল্যান্ডস থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টন; পাকিস্তান থেকে খাতুনগঞ্জের আবুল বাশার অ্যান্ড সন্স ৫০০ টন, এএস করপোরেশন ৫০১ টন, এস ইসলাম ট্রেডিং ৪০০ টন; মিসর থেকে রেড লিংক এক হাজার টন; মিয়ানমার থেকে এসএন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এএইচ এন্টারপ্রাইজ ও খাতুনগঞ্জ ট্রেডিং ৫০০ টন করে এবং চীন থেকে এএইচ এন্টারপ্রাইজ ও এ মোক্তার ট্রেডিং ৫০০ টন করে পেঁয়াজ আমদানি করবে।

    এলসি-সংক্রান্ত তথ্য নেই: এদিকে, অনুমতিপত্র নেওয়ার পর কারা এলসি খুললেন বা খোলেননি সে ধরনের তথ্য উদ্ভিদ সংগনিরোধের কাছে থাকে না জানিয়ে ঢাকার উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজহার আলী বলেন, ‘যারা পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনও এলসি খোলেননি। তবে তারা যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন, তা এলে বাজার সয়লাব হয়ে যাবে। কোনো সংকটই থাকবে না।’

    প্রসঙ্গত, অনুমতিপত্র নিলেও এখনও এলসি খোলেননি অনেকেই। যেমন, এস আলম গ্রুপ রোববার অনুমতিপত্র নিলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত এলসি খোলেনি। এস আলম গ্রুপের সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক কাজী সালাহউদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘গতবার মিসর ও তুরস্ক থেকে পণ্য আনতে গিয়ে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। তাই এবার পেঁয়াজের প্রথম চালান নেদারল্যান্ডস থেকে আনব আমরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে এলসি খুলব আরও ৮০ হাজার টনের।’

    পেঁয়াজের মজুদ ও চাহিদা : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, এই মুহূর্তে প্রায় পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে দেশে। ভারত থেকে আটকেপড়া আরও প্রায় ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ আনা হচ্ছে দেশে। আগামী মৌসুমের আগ পর্যন্ত চার থেকে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে দেশে। কিন্তু মাত্র ২০ দিনেই অনুমতিপত্র নেওয়া হয়েছে প্রায় ছয় লাখ টন পেঁয়াজের।

    খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম গত বছরের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে না এবার। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে আরও কমে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। সরবরাহ যেমন কম, তেমনি ক্রেতাও আছেন কম। কিন্তু গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করছেন অনেকে।’ দেশের চাহিদা বুঝে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করা উচিত বলে জানান তিনি।

    বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    পরম শ্রদ্ধেয় বাবার স্মরণে

    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আজ বিজয়া দশমী

    ২৬ অক্টোবর ২০২০

    আর্কাইভ