• শিরোনাম

    পল্লীকবি জসীম উদদীন বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য তার সাহিত্য ও কবিতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরেছেন —–জেঃপ্রঃঅতুল সরকার’)

     মোঃমাহফুজুর রহমান বিপ্লব, ফরিদপুর প্রকিনিধি। | মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২ | পড়া হয়েছে 39 বার

    পল্লীকবি জসীম উদদীন বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য তার সাহিত্য ও কবিতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরেছেন —–জেঃপ্রঃঅতুল সরকার’)
    apps

    পল্লীকবি জসীম উদদীন বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য তার সাহিত্য ও কবিতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরেছেন। গ্রাম-বাংলার সেই রূপ সৌন্দর্য অনুধাবন করতে হলে জানতে হবে পল্লী কবি জসীম উদদীনকে, পড়তে হবে তার কবিতা ও গ্রন্থাবলী।

    যিনি গাছের পাশে, নদীর পাড়ে মাটিতে বসে মাটির সাথে মিশে গিয়ে কবিতা, গল্প লিখতেন। তিনি বলেন, রুপসী গ্রাম বাংলাকে তাঁরমতো ভালোবেসে অন্যকেউ সাহিত্য রচনা করেননি। জসীম উদদীন পল্লীর মানুষকে নায়ক-নায়িকায় পরিনত করেছেন। আসমানী, গুনাই বিবি, রুপাই, সাজু প্রভৃতি তার সৃজিত শ্রেষ্ঠ চরিত্র। তিনি একজন বিখ্যাত বাঙালি কবি। তিনি বাংলাদেশে ‘পল্লী কবি’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর লেখা কবর কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় অবদান। আজ ডিজিটাল যুগে গ্রাম বাংলার সেই রুপ সৌন্দর্য প্রায় হারিয়েই গেছে। গ্রাম বাংলার সেই রুপ সৌন্দর্য অনুধাবন করতে হলে জানতে হবে পল্লী কবি জসীমউদ্দীনকে, পড়তে হবে তার কবিতা-।

    আজ সোমবার ১৪মার্চ ফরিদপুর নানা কর্মসচির মধ্যে দিয়ে ফরিদপুরে পল্লী কবি জসীম উদদীনের ৪৬ তম (ছেচল্লিশ তম) মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার এই কথা বলেন। সকাল ৮ টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও জসীম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে, জেলা প্রশাসক ও জসীম ফাউন্ডেশনের সভাপতি অতুল সরকারের নেতৃত্বে, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এবংশহরের গোবিন্দপুরে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা পুলিশ, আনসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এর পর সকাল কবির বাড়ির আঙ্গিনায় আলোচনা সভার শুরুতে কবি ও তার পরিবারের যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দীপক কুমার রায়ের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। আবু সুফিয়ান চৌধুরী কুশল এর পরিচালনায় সভায় আরো ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জামাল পাশা, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক আসলাম মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ সাইফুল কবির, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল্লাহ মোঃ আহসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

    আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করেন কবিপুত্র ড. জামাল আনোয়ার, ডাঃ এমএ জলিল, সরকারি ইয়াছিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শীলা রানী মন্ডল, কবি শওকত আলী জাহিদ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজভী জামান, নারী নেত্রী আসমা আক্তার মুক্তা, অম্বিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চৌধুরী বারী প্রমুখ। উল্লেখ্য, ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে নানা বাড়িতে জন্ম নেন পল্লীকবি জসীম উদদীন। কবির পিতার নাম আনছারউদ্দীন, মাতার নাম আমেনা খাতুন। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। কবির শিক্ষাজীবন শুরু হয় ফরিদপুর শহরের হিতৈষী স্কুলে। সেখানে প্রাথমিক শেষ করে তিনি ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২১ সালে এসএসসি, ১৯২৪ সালে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি এবং একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। তিনি ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে এমএ পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

    ১৯৬১ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি। তিন বাল্য বয়স থেকেই কাব্য চর্চা করতেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি, ১৯৭৬ সালে ২১শে পদকে ভূষিত হন। জসীম উদদীন একজন বাঙালি কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও লেখক। ‘পল্লীকবি’ উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি। ঐতিহ্যবাহী বাংলা কবিতার মূল ধারাটিকে নগরসভায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব জসীম উদ্‌দীনের।তার নকশী কাঁথার মাঠ ও জোন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম। জসীম উদদীনের “নকশী কাঁথার মাঠ” কাব্যটি “দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট” এবং বাঙালীর হাসির গল্প গ্রন্থটি ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। এছাড়াও তার ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ কাব্যগ্রন্থটি ইংরিজেতে “জিপ্সি ওয়ার্ফ” শিরোনামসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তার রচিত কাব্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, রাখালী (১৯২৭), নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯), বালুচর (১৯৩০), ধানখেত (১৯৩৩), সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪), হাসু (১৯৩৮), রুপবতি (১৯৪৬), মাটির কান্না (১৯৫১), এক পয়সার বাঁশী (১৯৫৬), সখিনা (১৯৫৯), সুচয়নী (১৯৬১), ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৬২), মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩), হলুদ বরণী (১৯৬৬), জলে লেখন (১৯৬৯), পদ্মা নদীর দেশে (১৯৬৯), কাফনের মিছিল (১৯৭৮), মহরম, দুমুখো চাঁদ পাহাড়ি (১৯৮৭) ইত্যাদি। রচিত নাটকের মধ্যে রয়েছে পদ্মাপার (১৯৫০), বেদের মেয়ে (১৯৫১), মধুমালা (১৯৫১), পল্লীবধূ (১৯৫৬), গ্রামের মেয়ে (১৯৫৯) ইত্যাদি। ভ্রমণকাহিনীর মধ্যে রয়েছে চলে মুসাফির (১৯৫২), হলদে পরির দেশে (১৯৬৭), যে দেশে মানুষ বড় (১৯৬৮), জার্মানীর শহরে বন্দরে (১৯৭৫) ইত্যাদি। আত্মকথা হিসেবে যাদের দেখেছি (১৯৫১), ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় (১৯৬১), জীবন কথা ( ১৯৬৪), স্মৃতিপট (১৯৬৪),স্মরণের সরণী বাহি (১৯৭৮) প্রভৃতি। উপন্যাসের মধ্যে বোবা কাহিনী (১৯৬৪); সঙ্গীত গ্রন্থের মধ্যে আছে রঙিলা নায়ের মাঝি (১৯৩৫), গাঙের পাড় (১৯৬৪), জারি গান (১৯৬৮), মুর্শিদী গান (১৯

    বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ