• শিরোনাম

    পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় ভোলার চরফ্যাশন

    নাসিমুল ইসলাম নাসিম, ভোলা | মঙ্গলবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 173 বার

    পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় ভোলার চরফ্যাশন
    apps
    দ্বীপ জেলা ভোলা, যেন এক রূপকথার গল্প।
    উপকূলীয় দ্বীপ ভোলার চরফ্যাশন হলো তেমনি অপরূপ সুন্দর এক প্রকৃতির রাজ্য। ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে সরাসরি ভোলার বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যায়। ভোলা, ইলিশা , দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন , তজুমদ্দিন , লালমোহন, চরফ্যাশন বেতুয়া ও মনপুরা দ্বীপে লঞ্চ চলাচল করে। তবে ভোলা , মনপুরা, বেতুয়া চরফ্যাশন এলাকায় রয়েছে প্রাকৃতিক বন বিভাগ। ভোলার চরাঞ্চলে এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো চর কুকরিমুকরি, চর নিঝুম, তারুয়া সৈকত ইত্যাদি। ভোলা বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করলে যে কেউ গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়। নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর হয়ে মজু চৌধুরী ঘাট থেকে ইলিশা ঘাটে ফেরি চলাচল করে এবং বরিশাল এর লাহার হাট থেকে ভোলা শহরে ফেরি চলাচল করছে। তাছাড়া বিমানে বরিশাল বিমানবন্দরে নেমে স্পীডবোর্ডে ভোলা যাওয়া যায়।
    ভোলা জেলার অন্তর্গত চরফ্যাশন হলো পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা। এখানে চর-কুকরিমুকরি , তারুয়া সৈকত, মনপুরা সহ অসংখ্য দ্বীপ সমুহ। বর্তমানে উপকূলীয় বন বিভাগের আওতাভুক্ত এসব এলাকায় পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে। দেশীয় পর্যটকদের আগমনে এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং চরের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে।
    চরফ্যাশন এর জ্যাকব টাওয়ার এই অঞ্চলের তথা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম একটি পর্যবেক্ষন টাওয়ার বা পর্যটকদের বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র। জ্যাকব টাওয়ার ঘিরে চরফ্যাশনে কর্মব্যস্ততা আরো প্রসারিত হয়েছে।
    তবে চরফ্যাশন শহরে এখনো উন্নতমানের হোটেল মোটেল বা রিসোর্ট ব্যবসা গড়ে উঠে নাই। যোগাযোগ ব্যবস্থাও তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। কিন্তু ঢাকা সদরঘাট থেকে কিছু ভালো মানের লঞ্চ চলাচল করছে। চরফ্যাশন থেকে চর কুকরিমুকরি পর্যন্ত রাস্তা আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। মাঝে মাঝে খানাখন্দে ভরা থাকার কারণে দুর্ঘটনায় পরতে হয়। টুরিস্ট বান্ধব বাস চলাচল এর ব্যাবস্থা করতে হবে। যেহেতু নদীতে চলাচল করা পর্যটকদের গুরুত্বপূর্ণ পথ , তাই সেই দিক দিয়ে বিবেচনায় নিয়ে এখানে টুরিস্ট পুলিশের একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা প্রয়োজন। পর্যটন করপোরেশন এর একটি সাইট অফিস ভোলায় চালু করা প্রয়োজন। তাছাড়া বরিশাল থেকেও উন্নত মানের টুরিস্ট বোট এর মাধ্যমে বিদেশী পর্যটকদের যাতায়াত এর সুবিধা দেয়া উচিত।
    ভোলার চরাঞ্চলে রয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী মহিষের খামার। অসংখ্য মহিষের এই খামারে উৎপাদন হয় টনে টনে দুধ । এই দুধ থেকে হয় মহিষের দই। মহিষের দই ভোলা সহ পুরো বাংলাদেশের জনপ্রিয় খাবার। এই দই বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। দুধ থেকে উন্নতমানের মিষ্টি তৈরি করা হয়। এছাড়াও শীতের সময় এখানে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এখনই এই অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে এই দ্বীপসমূহে।
    বাংলাদেশ এর ইলিশের অন্যতম জোগান আসে ভোলা থেকে। ইলিশ মাছ বাংলাদেশের মাছ উৎপাদনের অন্যতম অর্থনীতি উৎস। এই ইলিশ মাছ ধরার জেলেদের কয়েকটি দল রয়েছে চরফ্যাশন এলাকায়। নদী তীরবর্তী এলাকা জুড়ে এই জেলেরা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নিয়ে অপেক্ষা করে থাকে। সময় অনুসারে তারা কিছু দিনের জন্য এখানে অস্থায়ী আবাস গড়ে তোলে।
    বিভিন্ন প্রকার ফসলের উৎপাদন হয় এই ভোলার চরফ্যাশনে তার মধ্যে সুপারি ও পান অন্যতম। ইতিমধ্যেই ভোলার চরাঞ্চলে ব্যাপক ভাবে তরমুজ উৎপাদন হয়ে আসছে।
    ইতিহাস ঐতিহ্য ও প্রকৃতির এক অপরূপ রূপে ভোলা।
    মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস সহ পুরোনো বহু ইতিহাসের স্বাক্ষী এই দ্বীপ।
    দ্বীপ জেলার প্রসাশন, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিশিষ্ট জনেরা মনে করেন এখানে পর্যটন শিল্পের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হলে এলাকার যেমন অর্থনীতি উন্নত হবে তেমনি সরকার অনেক রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে।।

    বাংলাদেশ সময়: ৫:০৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শুভ জন্মদিন অনন্ত

    ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

    দরপত্র বিজ্ঞপ্তি

    ০৫ নভেম্বর ২০২০

    কবিতা

    ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ