• শিরোনাম

    নাজিরপুরে বেড়েই চলছে আত্মহত্যার প্রবনতা

    শফিকুল ইসলাম;বিশেষ প্রতিনিধিঃ | শুক্রবার, ১৭ জুন ২০২২ | পড়া হয়েছে 91 বার

    নাজিরপুরে বেড়েই চলছে আত্মহত্যার প্রবনতা
    apps
     পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা অব্যাহতভাবে বেড়ে চলছে। গত ২১ফেব্রুয়ারি থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১০৪ দিনে তরুণ-তরুণী ও গৃহবধূ সহ এগারো জন আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যা নয়, সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হয়। প্রতিটি মৃত্যুই যন্ত্রণার, কষ্টের। আর তা যদি হয় আত্মহত্যা তবে স্বজনদের তা মেনে নেয়াই দুস্কর। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে আত্মহত্যার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে প্রচুর পরিমানে বাংলাদেশেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আত্মহত্যার এ ঘটনা। তবে এই উপজেলায় যেন আত্মহত্যার প্রতিযোগীতা চলছে। প্রযুক্তির প্রসার, সামাজিকতার পরিবর্তন, পারিবারিক শিক্ষার অবনতি, ধর্ষন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, সহনশীলতা ও ধৈর্যের চর্চা কমে যাওয়া, পারিবারিক কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, প্রেমে ব্যর্থতা,দীর্ঘদিন অসুস্থতা, মানসিক বিষন্নতার কোন চিকিৎসা না পাওয়া, আর্থিক অনটনসহ নানা কারণে আত্মহত্যার ঘটনা যেন বেড়েই চলছে। মানুষ মনে করে মারা গেলেই মনে হয় সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, আসলে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাই হল জীবনের মর্মতা। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোন ধর্মেই আত্মহত্যার বিধান নেই। সৃষ্টিকর্তা মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই মানবকে জীবন দিয়েছেন, মরণও তাঁরই ইচ্ছাধীন। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “‘বরকতময় তিনি (আল্লাহ্) যাঁর হাতে রাজত্ব, তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে পরীক্ষা করবেন তোমাদের, কে তোমাদের কর্মে উত্তম। তিনি পরাক্রমশালী স্নেহশীল ক্ষমাময়।’” (সুরা: ৬৭ মুলক, আয়াত: ১-২)। নাজিরপুর থানার তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ২১ শে ফেব্রুয়ারী নাজিরপুরে আর্থিক অনটনে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ক্ষোভে স্বামী মো. মহাসিন মল্লিক নামে এক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। মোহাসিন উপজেলার শাঁখারীকাঠি ইউনিয়নের জায়নাল মল্লিকের ছেলে। ৭ ই মার্চ নাজিরপুর উপজেলায় দশ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্র আত্মহত্যা করেছে। সে উপজেলার নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের হায়দার আলী হাওলাদারের ছেলে এবং বানিয়ারী সামসুল উলুম মাদ্রাসার নুরানী বিভাগের ছাত্র ছিল।সোমবার (৭ মার্চ) সকালে বাবা-মা মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য জোড় করলে অভিমানে গলায় ফাঁস নেয় সে। ১৭ মার্চ নাজিরপুরে ইশরাত জাহান (১৩) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী ছোট বোনের ওপর অভিমান করে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। তিনি উপজেলার ০৮ নম্বর শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের চৌঠাইমহল গ্রামের মো. শাহজাহান হাওলাদারের মেয়ে। ০১ এপ্রিল রিয়া তরফদার (১৪), ভীমকাঠী গ্রামের রবিন্দ্রনাথ তরফদারের মেয়ে। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ২২ এপ্রিল প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা, কলারদোয়ানিয়া গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে মোসা. মারিয়া খানম (১৫)। সে উপজেলার মুগারঝোর দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের উরিবুনিয়া গ্রামের মো. হাফিজ তালুকদারের ছেলে ইয়াছিন তালুকদার (১৮) ৩০ এপ্রিল রাজেন বিশ্বাস (৬২), কারখানাবাড়ি গ্রামের উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এর ছেলে। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ১৩ ই মে উপজেলার দেউলবাড়ী দোবরা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের রিতা ঘরামী (২৬) নামে এক গৃহবধু গনধর্ষনের শিকার হয়ে লজ্জায় পড়ে আত্মহত্যা করেন, তিনি ওই এলাকার সুনিল মন্ডলের স্ত্রী। ২২ ই মে দোলা হালদার (২৭), পাকুরিয়া গ্রামের সুধাংশু হালদারের মেয়ে, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ২৫ ই মে মোঃ রঞ্জু শেখ (২৬) হোগলাবুনিয়া গ্রামের মোঃ দেলোয়ার মুন্সির পুত্র। তিনি বিষ পানে আত্মহত্যা করেন। ১ লা জুন উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের সমাপ্তি মৈত্র (৪২) নামে এক গৃহবধু নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাত্বক শারিরীক অসুস্থতা সহ্য করতে না পেরে বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন। তিনি উপজেলার শ্রীরামকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পবিত্র মজুমদারের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় কালিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বাসিন্দা। ০২ জুন মোসাঃ জান্নাতুল (১৭), তিনি উপজেলার মধ্য কলারদোয়ানিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের কন্যা। সে বিষ পানে আত্যহত্যা করে। এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আত্মহত্যা একটি অপরাধ। আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে সরাসরি পুলিশ কিংবা ট্রিপল নাইনে ফোন করে যে কেউ সহযোগিতা পেতে পারে এবং সামাজিক সচেতনতাই একমাত্র প্রতিরোধের উপায়।

    বাংলাদেশ সময়: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৭ জুন ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ