• শিরোনাম

    নরসিংদীতে আবাসিক হোটেল মারা যাওয়া নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে __

    স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ০১ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 36 বার

    apps

    নরসিংদীতে আবাসিক হোটেলের দরজা ভেঙে নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে পুলিশ। নাসরিন আক্তার (৪০) নামের ওই নারী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা ছগির আহমেদের স্ত্রী। পুলিশ বলছে, ওই নারী নিজের সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করতে হোটেলে উঠেছিলেন। পরিবার বলছে, ওই নারী মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল সোমবার বিকেলে নরসিংদী শহরের বাজীরমোড় এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ছেলে নাজমুস সাকিব ওরফে নাবিলের (২০) মৃত্যু হয়। ছগির আহমদ একটি বেসরকারি ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখায় কর্মরত। নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লার বাসায় রাত আটটার দিকে কর্মস্থল থেকে ফেরেন ছগির আহমেদ। এ সময় তিনি ঘর বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁর কাছে থাকা দ্বিতীয় চাবি দিয়ে তালা খুলে ঘরে ঢুকে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর ছেলে নাবিল আর্তনাদ করছেন। তাঁর বুক, পেট ও মাথায় ধারালো কিছুর আঘাতের চিহ্ন। এ সময় স্ত্রী নাসরিনকে বাসায় পাননি। তিনি ছেলে নাবিলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জে সাইনবোর্ড এলাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাবিলের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে নাসরিন আক্তার রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নরসিংদী শহরের বাজীরমোড় এলাকার হোটেল নিরালা নামের ওই আবাসিক হোটেলে রাতযাপন করতে ওঠেন। পরদিন দুপুরে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, নাবিল হত্যার ঘটনায় ছগির আহমেদ বাদী হয়ে নাসরিন আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। নাসরিন আক্তারের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নরসিংদী থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। নাবিল ডেমরার গলাকাটা এলাকায় দারুন নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। ছগির আহমেদ জানান, তাঁর স্ত্রী নাসরিন আক্তার মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মাঝেমধ্যে তাঁর স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। ছেলে নাবিলকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে ছেলেবউয়ের সঙ্গে প্রায়ই তাঁর মনোমালিন্য হতো। ঘটনার দিন ছেলের বউ তাঁর বাবার বাড়িতে ছিলেন। তবে তাঁর স্ত্রী নিজের ছেলেকে খুন করে ফেলবেন, এমন ভাবনা তিনি ভাবতেও পারছেন না। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই নারী জানিয়েছিলেন, গাজীপুর থেকে তিনি এখন এসেছেন। রাত হয়ে যাওয়ায় এই হোটেলে থাকতে চান। রেজিস্টারে নাম-ঠিকানা লেখার পর ওই নারীকে হোটেলটির নিচতলার ৬ নম্বর কক্ষে থাকতে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজায় অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেন হোটেলটির কর্মচারীরা। পরে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোনে কল করে ঘটনা জানানো হয়। পরে দুপুরে দিকে পুলিশ এসে ওই কক্ষের দরোজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। নরসিংদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, আবাসিক হোটেল থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হওয়ার পর তাঁর আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে নাম-পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন। ওই নারী নিজের সন্তানকে হত্যা করে নরসিংদীর ওই আবাসিক হোটেলে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।

    বাংলাদেশ সময়: ৯:০৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০১ জুন ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ