• শিরোনাম

    উভয় পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দাবী বিক্ষোভ ও অঘোষিত মানববন্ধন

    দিনাজপুর বিরলের ধর্মপুর শালবন বিটে সংঘর্ষ

    পিসি দাস, দিনাজপুর, | শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১ | পড়া হয়েছে 27 বার

    দিনাজপুর বিরলের ধর্মপুর শালবন বিটে সংঘর্ষ
    apps

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর শালবন বিটের জমিতে বৃক্ষরোপণ করতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মী শ্রমিকদের সাথে বনের অভ্যন্তরে বসবাসকারী স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের উভয়পক্ষের মোট ১৮ জন আহত হয়। এ ব্যাপারে রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম ১৭ জনকে আসামী ও অজ্ঞাতনামা বিরল থানায় মামলা দায়ের করে। ৭ জুলাই এ মামলা ১জন এজাহারভুক্ত আসামী ধৃত হয়। এ ব্যাপারে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
    ৬ জুলাই মঙ্গলবার দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর শালবন বিটের জমিতে বৃক্ষরোপণ করতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মী শ্রমিকদের সাথে বনের অভ্যন্তরে বসবাসকারী স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষ হয়। সাংবাদিকরা সরেজমিনে সংঘর্ষিত এলাকা পরিদর্শন করতে গেলে স্থানীয়রা বন বিভাগের উপর বিক্ষিপ্ত মৌখিক অভিযোগ করে। এ ব্যাপারে ধর্মপুর শালবন বিটের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সাদেকুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান বন বিভাগের দাবী জমিটি গ্যাজেটভুক্ত বনের সম্পত্তি। তিনি এও জানান স্থানীয়দের দাবী জামি মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সাদেকুল ইসলাম আরও জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলা ধর্মপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বন বিটের (কৈকুড়ী) মৌজার ৮০৯ ও ৮৩৫ দাগে সরকারি গ্যাজেটধারী প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪ লক্ষ বৃক্ষরোপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঐ অঞ্চলের বন বিভাগের কর্মী ও শ্রমিকরা বৃক্ষরোপন করছিল। বৃক্ষরোপনের শেষের দিকে বিকাল সাড়ে ৪ টায় স্থানীয় কিছু লোকজন মহিলাদের সংঘবদ্ধ করে বৃক্ষরোপনে বাধা দেয়, বাকবিতন্ডার এক পর্যায় অতর্কিত হামলা চালায় বন বিভাগের কর্মরত কর্মী ও শ্রমিকদের উপর। এতে বন বিভাগের ১২ জন কর্মী ও শ্রমিক আহত হয়। অন্যদিকে প্রতিহত করতে গিয়ে আহত হয় স্থানীয় আরও ৬ জন। পরে বিরল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে। আহতদের উদ্ধার করে বিরল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম জানান, ১৯৫৯ সালের ভ‚মি আইন পাশ হলে ধর্মপুর বন বিট বনাঞ্চল হিসেবে অভিহিত হয়। ১৯৬২ সালে ধর্মপুর বনবিট দিনাজপুর সামাজিক বনবিভাগে রূপ নেয়। ১৯৭৫ সালে তৎকালিন রাষ্ট্রপতির আদেশ মূলে বনবিভাগে সংরক্ষিত বন হিসেবে গ্যাজেটভুক্ত হয়। এতে করে কোন ক্রমেই বন বিভাগের জমিতে ১০-১২টি রেকর্ডভুক্ত দলিলের দাবীদার থাকলেও অধিকাংশ দাবীকারীদের দাবী কোন সংগত দাবী নয়। অপরদিকে স্থানীয় রেজাউল ইসলাম আবু বক্কর সিদ্দিক খলিলুর রহমান ওরফে ফটিক, মকবুল হোসেন, আসাদ আলী সহ বেশ কয়েকজন জানান, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে ফসল আবাদ করে আসছি। এ জমির আমরা খাজনা-খারিজ করে বিভিন্ন তপশীল ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আমাদের কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করি। এর পরেও বন বিভাগ আমাদের উপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের মামলা দায়ের করছে যা এখনও বনবিভাগের সাথে উক্ত জমি নিয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বনবিভাগের সাথে উক্ত জমি নিয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। হঠাৎ বনবিভাগের লোকজন এসে বৃক্ষরোপন করতে চাইলে বনবিভাগে জমির খাজনা-খারিজ উচ্চ আদালতের আদেশ উপস্থাপন করলে বিট কর্তৃপক্ষ আমাদের কাগজের কোন তোয়াক্কা করছেন না। আমাদের কাগজপত্র দেখানো সময় অতর্কিত হামলায় মৃত এহসাম উদ্দীনের পুত্র আবুল কালামসহ ৩ জন আহত হয়েছে। এ ব্যাপারে বন বিভাগের এই ভুমিতে অবস্থান করে বিক্ষোভ ও অঘোষিত মানববন্ধন প্রদর্শন করছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবী অবিলম্বে সংগঠিত সংঘর্ষে নিরেপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।

     

    বাংলাদেশ সময়: ২:৪৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ