• শিরোনাম

    জৌলুস হারালেও ৪শ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বটগাছটি

     টি,এম,এ হাসান, সিরাজগঞ্জ: | শনিবার, ০৭ আগস্ট ২০২১ | পড়া হয়েছে 62 বার

    জৌলুস হারালেও ৪শ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বটগাছটি
    apps

    এক সময় ব্টবৃক্ষটি সাধু ঋষিদের ধ্যান ধারনার জায়গা ছ্লি, পূজা হতো বিভিন্ন দেব দেবীর। বর্তমানে এখানে আর দেখা পাওয়া যায়না সেই সাধু সন্যাসীদের তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থী আসেন মাঝে মধ্যেই। বটতলায় প্রতিবছর চৈত্র মাসে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় হিন্দু মুসলিম সকল শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নেয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ মেলা দেখতে আসেন অনেকেই। তবে আগের সেই জৌলুস হারালেও ৪শ বছরের স্মৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখে রেখেছে বটগাছটি। চারদিকে বাসা বেধেছে সবুজের সমারোহ।

    বাতাসে ভেসে আসে পাখির কলকাকলি। গাছের পাতার শীতল বাতাস আর ডালে ডালে বসা পাখির ডাক সব মিলে তৈরি করে প্রশান্তির এক আবহ। প্রায় চার বিঘা জমিতে বিস্তৃ এ বট্ররগাছের ডাল পালা ছড়িয়ে আছে চা্রিিদকে। বিছিয়ে দেয়া একেকটা ডাল-পালা ও শাখা-প্রশাখা কে মনে হয় পরম মমতায় বাড়িয়ে দেওয়া ছায়ার শীতল হাত। গাছের নিচে বসলে উঠতে চায়না মন। এ গাছের নিচে বসলে প্রকৃতির মায়ায় পড়ে যায় পথচারীরা। এমনই বলছেন স্থানীয়রা। প্রাকৃতিক এই সুন্দর্যের দেখা মিলবে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাইদহ বট ভুমিতে। হৃদয় ছুয়ে যাওয়া প্রায় চারশত বছর বয়সী বটবৃক্ষটি চার বিঘা জমির উপর প্রায় চার শত বছর ধরে দাড়িয়ে আছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে কেওই বলতে পারেননা গাছটির সঠিক বয়স। গাছের শাখা-প্রশাখা ডাল পালা মাটির সঙ্গে মিছে যেন তৈরি করেছে এক আত্মিক সম্পর্ক। এলাকার প্রবীন মুরুব্বিদের মতে, বহু পুরোনো ব্টতলাটি একসময় সাধু, সন্যাসী ও ঋষিদের ধ্যান ধারনার জায়গা ছ্লি। এখানে বিভিন্ন দেব দেবীর পুজা হতো এক সময়। বর্তমানে এখানে আর সাধু সন্যাসীদের দেখা না গেলেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীতে ভরপুর থাকে। বট তলায় প্রতিবছর চৈত্র মাসে চড়পাড়া মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় হিন্দু মুসলিম সকল শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নেয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ মেলা দেখতে আসেন অনেকেই। তবে গাছটি ধীরে ধীরে তার সুন্দর্য হারিয়ে ফেলছে, হারিয়ে ফেলছে তার সেই জৌলুস। ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে ডাল এতে আর বেড়ে উঠতে পারছেনা গাছটি।

    ফলে গাছের সৌন্দর্য দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবুও এলাকার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এই বটগাছটি। শীতল ছায়া, পাখির কলকাকলি,সবুজ শ্যামল এ স্থানটিতে অবসরে বসে থাকলে মনের সকল ক্লান্তি দুর হয়ে যায়। পথচারী দর্শনার্থীদের আকর্ষন করে এই প্রাকৃতিক বটবৃক্ষটি। বট তলার দোকানী আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারী ছুটির দিনে এখানে অনেক দুর দুরান্ত থেকে মানুষ আসে। ঈদ অথবা অন্যান্য উৎসবে এখানে অসংখ্য দর্শক হয়। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বেড়াতে আসে। বিশেষ করে চৈত্র মাসে গাছের নিচে বসা মেলা উপজেলার মধ্যে বিখ্যাত।

    ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এ মেলায় আসে সকল পেশার ও ধর্মের মানুষ। স্থানীয় আষির্ধো ছোরহাব আলী ও হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি জন্মের পর থেকে এগাছটি এমনই দেখছি। গাছের সঠিক বয়স কেউ বলতে পারে না। হবে। তারা আরও বলেন, এ এলাকার সবচেয়ে প্রবীন ব্যাক্তি বিশু হাজী ১শ ২০বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে বলেছেন তার বাবাও নাকি বট গাছটি এমনই দেখেছেন। আমরাও জন্মের পর থেকে এমনই দেখতেছি। গাছের সঠিক বয়স আমরা জানি না। তবে সবারই ধারনা গাছটির বয়স চারশত বছরের মতো। চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, গাছটি অনেক পুরাতন। গাছের সঠিক বযস বলতে পারবো না। বাবা দাদাদের মুখে গাছের অনেক গল্প শুনেছি। আনুমানিক বয়স চারশত বছর বেশি হবে। বয়সের সাথে গাছের ডাল পালা চারপাশ ছেয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাছটি দেখতে লোকজন আসে। বটগাছটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

    বাংলাদেশ সময়: ১:০৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৭ আগস্ট ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শুভ জন্মদিন অনন্ত

    ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

    দরপত্র বিজ্ঞপ্তি

    ০৫ নভেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ