• শিরোনাম

    জাজিরায় প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামীলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা, বাড়ী ঘর ভাংচুর ॥

    মিজানুর রহমান,শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুন ২০২২ | পড়া হয়েছে 43 বার

    জাজিরায় প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামীলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা, বাড়ী ঘর ভাংচুর ॥
    apps

    শরীয়তপুরের জাজিরায় সেনের চর বি এম মোজাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম মালত (৪৮) কে নৃশংশ ভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার রাত ১০টার সময় জাজিরার খোশাল শিকদার কান্দি এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে নিহত শিক্ষক সাইফুল মালতের উপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা।
    পরে স্থানীয়রা আহত সাইফুল মালতকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর দেখে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হলে পথিমধ্যেই মারা যান তিনি।। এ ঘটনায় জাজিরা থানা পুলিশ জিঙ্ঘাসা বাদেও জন্য একজন কে আটক করেছে। জাজিরা থানায় মামলার প্রস্ততি চলছে।
    জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা(ইউএইচএন্ডএফপিও) ডাঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, রাত ১১টার সময় গুরুতর আহত সাইফুল মালতকে আমাদের এখানে নিয়ে আসলে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই।
    সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নিহত সাইফুল মালত জাজিরা সদর ইউনিয়নের ০১নং ওয়ার্ডের খোশাল শিকদার কান্দি গ্রামের হাজী কিনাই মালতের ছেলে সাইফুল মালত স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি সেনেরচর বি এম মোহাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন
    তিনি জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে নিহত সাইফুল মালতের বড় ভাই শামছুল হক মালত।
    নিহতের স্ত্রী শামীমা ইয়াসমিন মিতু ও জাজিরা থানা সুত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার সেনের চর ইউনিয়নের সেনের চর বি এম মোজাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শরীয়তপুর জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সহ -সভাপতি জাজিরা ইউনিয়নের উত্তর খোষাল সিকদারের কান্দি গ্রামের মৃত হাজী কিনাই মালতের ছেলে সাইফুল ইসলাম মালত (৪৮)। প্রতিদিনের ন্যায় জাজিরা বাজার থেকে বাড়ী ফিরছিলেন । বাড়ীর কাছে খোষাল সিকদারের কান্দি ব্রীজের উপর আসলে পুর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে ঘিওে ফেলে। তখন তারা তাকে অটো গিয়ার চাকু, চাইনিছ কুড়াল ও দাড়ালে অস্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম কওে । আশ পাশের লোকজন আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় রা তাকে উদ্ধার কওে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতির্ করে। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে । সেখানে রাতে সে মারা যায়। এ ঘটনায় জাজিরা থানা পুলিশ জিঙ্ঘাসা বাদেও সুজন (৩৫) নামে একজন কে আটক করেছে। জন্য একজন কে আটক করেছে। জাজিরা থানায় মামলার প্রস্ততি চলছে।
    সাইফুল মালতের পথসঙ্গী হিরো শেখ জানান, আমরা জাজিরা বাজার থেকে সাইফুল মালতের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম পথিমধ্যে হামলাকারীরা আমাদেরকে আক্রমণ করলে আমি পালিয়ে চলে যাই কিন্তু সাইফুল মালতকে তারা কুপিয়ে জখম করে।
    নিহতের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন , আমার বাবা ২০১২ সালে জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদেও নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেছিলেন । সে থেকে স্থানীয় শাহীন সিকদার দেও সাথে আমার বাবার বিরোধ ছিল । তার জের ধরেই তারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আমরা আমার হত্যা কারীদেও বিচার চাই।

    নিহত সাইফুল মালতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী মিতু আক্তার(৩৫) সহ বাড়িতে স্বজনরা আহাজারী করছে। মিতু আক্তার বলেন, আমার স্বামী আমার সন্তান দুইটারে এতিম করে চলে গেলেন। নিহত সাইফুল মালতের একাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া সুমাইয়া(১৭) ও দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া লাবিবা(১৫) নামে দুইটি মেয়ে রয়েছে।
    বিষয়টি নিয়ে জাজিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঃ রহমান হাওলাদার জানান, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির কথা শুনেই আমি দেখতে এসেছি। আমি চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠিন বিচার করা হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে সেই জন্য আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
    অপরদিকে আক্রমণকারীরা সাইফুল মালতকে আহত করার পরে সাইফুল মালতের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে আক্রমণ করে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে করে মালেক মোল্লা নামে একজনের বাড়ির কয়েকটি ঘর পুড়ে যায়।
    নিহতের ভাই শামসুর রহমান মালত বলেন , সন্ত্রাসীরা আমার ভাই কে অটো গিয়ার ছুরি ,চাইনিচ কুড়াল ও ধারালো অশ্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। আমরা সন্ত্রাসীদেও শাস্তি চাই।

    মালেক মোল্লা জানান, রাতে হামলাকারীরা আমার পাসের কয়েকটি বাড়িতে ভাংচুর করে এসে আমার বাড়িতেও ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে করে আমার দুইটি ঘর পূড়ে ছাই হয়ে যায়। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দারস্থ হয়ে বিচার দাবি করবো।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোশাল শিকদার কান্দি এলাকার আলেম ফকিরের ছেলে সুজন ফকির(২৫) নামে একজনকে আটক করেছে জাজিরা থানা পুলিশ। এছাড়া এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
    জাজিরা থানার ভারপ্রাপÍ কর্মকর্তা (ওসি)মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার কে প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ছাত্র লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম মালত কে গতকাল রাতে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে মারাত্নক আহত কওে। তার শরীওে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায় । জিঙ্ঘাসা বাদের জন্য আমরা একজনকে আটক করেছি।

    বাংলাদেশ সময়: ৭:২৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুন ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ