• শিরোনাম

    জাজিরায় ইউপি নির্বাচনে পুলিশের গুলিতে মা-মেয়েসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ৭ জন আহতের ঘটনায় ৬০ জনকে আসামী করে মামলা

    মিজানুর রহমান,শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ | শুক্রবার, ১৭ জুন ২০২২ | পড়া হয়েছে 30 বার

    জাজিরায় ইউপি নির্বাচনে পুলিশের গুলিতে মা-মেয়েসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ৭ জন আহতের ঘটনায় ৬০ জনকে আসামী করে মামলা
    apps

    শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষে রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি একতা যুব সংঘ কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করে। এর পর বিজয়ী ও পরাজিত দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটে। এ সময পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশের ছুড়া শটগানের গুলীতে মা-মেয়েসহ তিনজনগুলি বিদ্ধসহ ৭ জন আহত হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিলাসপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি একতা যুব সংঘ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
    পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী নাঈমুর রহমান নাঈম, আতাউর রহমান সূত্রে জানা যায়, জাজিরার বিলাশ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রেটিতে বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের ঘোষনা করেন এর কিছুক্ষন পর তার বিজয় মিছিল বের করে। পরাজিত প্রার্থী মতিউর রহমান সিকদারের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষন পর পরাজিত প্রার্থী মতিউর রহমান সিকদারের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র, সস্ত্র নিয়ে তাদের উপরে হামলা চালায়। এ সময় দুগ্রুপের মধ্যে অস্ত্র,সন্ত্রসহ লাঠিসোটা নিয়ে সংঘষ বেধে যায়। এর পর তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এক পর্যায়ে ককটে লের বিস্ফোরণ ঘটলে এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২টি শটগানের (রাবার বুলেট) গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশের গুলিতে স্থানীয় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার(৩৬), রফিকুল ইসলামের মেয়ে লামিছা(২) ও মোতাহার আলীর ছেলে ইমরান(২৮) নামে ৩জন গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেলের আঘাতে আতাউর রহমান(২৬), মিজানুর রহমান (৩৮), সাঈদ মিয়া(৪০),রমিজ খা (৩৮), আবদুর রাজ্জাক(৪০) গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। এ ঘটনায় এ ঘটনায় রাতে কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শেখ দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় মামলা করেছেন।
    জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, শিশু ও তার মায়ের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জাজিরাতে তাদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।
    রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি একতা যুব সংঘ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শেখ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সব প্রার্থীর ফলাফল ঘোষণা করে আমরা কাগজপত্র বুঝিয়ে দিতেছি। এ সময় পরাজিত মেম্বার প্রার্থী মতিউর রহমানের সমর্থকরা হামলা করে। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মকর্তাও আহত হয়েছেন। আমাদের কিছু মালামাল খোয়া গেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট র‌্যাব ও পুলিশ নিয়ে আমাদের উদ্ধার করেছেন।
    জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ থামাতে ও নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিরাপদ রাখতে পুলিশ ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। তাতে তিনজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। এ ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আমরা তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।
    জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সোহেল বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্রে হামলা করেছে। কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। পুলিশের গুলিতে শিশুসহ তিন ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। আমরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি।

    বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৭ জুন ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ