রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

>>

জনপ্রশাসনে এপিডি উইংয়ের প্রধান হলেন অতিরিক্ত সচিব ড. আকনুর

নবকণ্ঠ ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট

জনপ্রশাসনে এপিডি উইংয়ের প্রধান হলেন অতিরিক্ত সচিব ড. আকনুর

কয়েক মাসের জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এ পদে দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে কর্মরত অতিরিক্ত সচিব মো. আকনুর রহমান, পিএইচডিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।  এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন রবিবার জারি হয়েছে।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা এ গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের ভেতরে চলমান অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো বলে মনে করছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।

বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার:

টাঙ্গাইল জেলার সন্তান মো. আকনুর রহমান কর্মজীবনে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে যুগ্মসচিব, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পরিচালক (যুগ্মসচিব), বাংলাদেশ পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ মাঠ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দেশের সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক মহলে স্বীকৃত অন্যতম জাতীয় প্রশিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পেশাগত সংস্থা চার্টাড ইনস্টিটিউট অব প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের সদস্য (এমসিআইপিএস) সদস্য হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত। ২০১৫–২০১৬ সালে যুক্তরাজ্য থেকে প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই বিষয়ে ডিপ্লোমা, অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা ও প্রফেশনাল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে এমসিআইপিএস সনদ অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য:

১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. ফার্ম ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালে ইনস্টিটিউট অব ইকনোমিকস থেকে স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা লাভ করেন। ২০০৬ সালে জাপানের (গ্রিপস) থেকে মাস্টার্স অব পাবলিক পলিসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ থেকে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও ওষুধনীতি’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের মাধ্যমে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর ১৫টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

এপিডি উইং প্রশাসনের ‘নার্ভ সেন্টার’:

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ-সংক্ষেপে এপিডি-প্রশাসনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোর একটি। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যায়ের পদায়ন, পদোন্নতি, এমনকি সচিব ও অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ-সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু এই অনুবিভাগ। তবে গত কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত সচিবের পদটি শূন্য ছিল। দায়িত্বটি জনপ্রশাসন সচিবের কাছে ন্যস্ত থাকায় প্রশাসনিক মহলে এটি ‘নজিরবিহীন’ পরিস্থিতি হিসেবে আলোচিত হয়। একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সচিব পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নিয়োগ বিতর্ক:

বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আমলাতান্ত্রিক বিভাজনের কারণে এ নিয়োগ আটকে ছিল-এমন আলোচনা প্রশাসনিক মহলে রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ সরকারকে এপিডি প্রধান করার লক্ষ্যে জনপ্রশাসনে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে দুই মাসের মধ্যে তাঁকে খাদ্য সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক সরকার গঠনের পরও এপিডি প্রধান নিয়োগে বিলম্ব হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে-যোগ্য কর্মকর্তার অভাব, নাকি রাজনৈতিক বিবেচনা? অবশেষে মো. আকনুর রহমান–কে পদায়নের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো।

সামনে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা:

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবেদনশীল এ ধরনের বিভাগে স্বচ্ছতা, পেশাগত দক্ষতা ও নিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেলে যোগ্যতার প্রশ্ন গৌণ হয়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে। গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ বাড়ে-ফলে নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

নতুন অতিরিক্ত সচিবের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ফাইল নিষ্পত্তিতে গতি আনা, মাঠ প্রশাসনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং পদায়ন-পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। প্রশাসনের ভেতরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, নতুন নেতৃত্ব দ্রুত ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এপিডিকে কার্যকর ও স্বচ্ছ ধারায় পরিচালিত করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ নিয়োগ কেবল একটি প্রশাসনিক পদায়ন নয়; এটি সরকারের প্রশাসনিক বার্তাও বহন করে। পেশাগত দক্ষতা ও নিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে বিতর্ক প্রশমিত হবে। অন্যথায় এপিডিকে ঘিরে ক্ষমতার টানাপোড়েন আবারও সামনে আসতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:০৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

dainikbanglarnabokantha.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আজ বিজয়া দশমী
(1452 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক

রুমাজ্জল হোসেন রুবেল

বাণিজ্যিক কার্যালয় :

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১১ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬, ০২ ৪১০৫০৫৯৮

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

design and development by : webnewsdesign.com

nilüfer escort coin master free spins