• শিরোনাম

    ছেলের নির্যাতনে রাস্তায় বসে কাঁদছে বাবা!

    টি এম এ হাসান সিরাজগঞ্জ: | মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 51 বার

    ছেলের নির্যাতনে রাস্তায় বসে কাঁদছে বাবা!

    ছেলের নির্যাতনে রাস্তায় বসে কাঁদছে বাবা!

    apps

    বিকেল সাড়ে ৫টা। রায়গঞ্জ উপজেলার সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ সড়কের পাঙ্গাসী মৎস্য আড়তের পাশে গালে হাত দিয়ে বসে আছেন ৬৫বছরের বৃদ্ধ বাবা শাহজামাল শেখ। পাশেই বসে আছেন স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম (৫৫)। এসময় প্রতিবেদক দূরে দাড়িয়ে থাকাবস্থায় হঠাৎ চোখ পড়ে তাদের দিকে। সকালে হওয়া মৎস্য আড়তটি দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় এই সময়টা নির্জন থাকে। কৌতুহল নিয়ে প্রতিবেদক এগিয়ে গিয়ে কথা বলতেই চোখের পানি ছেড়ে দেন বৃদ্ধ শাহজামাল। প্রতিবেদক পাশে বসে চাচা এখানে এভাবে বসে আছেন যে বলতেই হাত দিয়ে দৃষ্টি আড়াল করে চোখ মুছতে মুছতে বলে উঠলেন, “যে বাবার তার সন্তানের হাতে মার খেতে হয় তার জীবনে আর এখান সেখান কি বাবা”। বলেই আবার চোখ মুছতে লাগলেন বৃদ্ধ শাহজামাল। এসময় পাশ থেকে শান্তনা দিচ্ছেন স্ত্রী শামসুন্নাহার। পাশে মাটিতে বসে কথা বলা শুরু করলাম বৃদ্ধ শাহজামালের সঙ্গে। ছল ছল চোখ নিয়ে জানালেন, “১৫ বছর আগে হাস মুরগি গুরু ছাগল বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন সুখের আশায়। আজ সেই ছেলেই ১৫বছর পরে দেশে ফিরে তাকেই করেছেন শারীরিক ও মানসিক আঘাত”। জন্ম দিয়ে বড় করা সন্তানের কাছ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে হতবাক হয়ে পড়েছেন তিনি। কথা বলে জানা গেলো, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের ইছামতি হিন্দু পাড়ায় বাড়ি মো. শাহজামাল শেখ এর। এখানে এসেছেন এনজিও থেকে ঋণের টাকা উঠাতে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদেশ ফেরত প্রবাসী ছেলে শাহিদুল ইসলাম (৪০) এর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। এখানে মনের দুঃখে বসে আছেন তবে এর মাঝে প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে পেরে ছেলের বিরুদ্ধে আর কিছু বলতে চাননি তিনি। এটা কি ছেলের প্রতি ভালবাসা নাকি ভয় সেটাও তখন পরিষ্কার নয়। এরপরে আর কথা বাড়াননি শাহজামাল চাচা। কিন্তু বাবার প্রতি এমন আচরন সহ্য করতে না পেরে এই প্রতিবেদক পরিচয় সংগ্রহ করে হাজির হন তার বাড়িতে নির্যাতনের বিস্তারিত জানতে ছেলের কাছে। সন্ধ্যার আগ মুহুর্ত। এবার উদ্দেশ্য তার সন্তান শাহিদুলের সঙ্গে কথা বলা। বাড়ির সামনে যেতেই দেখা হলো বৃদ্ধ শাহজামাল শেখের বিদেশ ফেরত ছেলে শাহিদুল ইসলাম (৪০) এর সঙ্গে। তিনি বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলেও বাধ সাধলেন তার স্ত্রী। কথা থাকলে এখানেই বলতে হবে। পরে প্রতিবেশী এক ভদ্রলোকের আহবানে প্রতিবেশীর বাড়িতে বসে কথা হয় শাহিদুলের সঙ্গে। ততক্ষণে বৃদ্ধ শাহজামাল শেখ বাড়িতে এসে আবার মাঠে চলে গিয়েছেন গরু আনতে। এসময় শাহিদুল ইসলাম (৪০) এসকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে ও ধাক্কা দিয়েছি কিন্তু শরীরে আঘাত করিনি। এতক্ষণে মাঠে খবর পাঠিয়ে ডেকে আনা হলো বৃদ্ধ শাহজামাল শেখকে। ছেলের সাথে পাশাপাশি বসানো হলো তাকে। মারধরের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রথমে লজ্জায় মাথা নিচু করে নিরব থাকেন বৃদ্ধ বাবা। অতঃপর স্বীকার করে বলেন আজকেই প্রথম মেরেছে এর আগে কখনো এমনটি হয়নি বলে কাদতে কাদতে তিনি বাইরে চলে যান। তবে তার চোখের এই জল যেন কলঙ্গিত করে সন্তান নামের এমন জীবদের। প্রতিবেশী এক ভদ্রলোক এই প্রতিবেদককে জানান, আমি সকালে তাদের বাবা ছেলের ঝগড়া শুনেছি। আমি তখন তাদের এগুলো করতে নিষেধ করেছি কিন্তু তারা শোনেনি। তবে ছেলে বাবাকে আঘাত করবে এটা ঠিক নয়। এবিষয়ে কথা বলার জন্য বাগবাটি ইউপির ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো. মঞ্জুরুল হক ও বাগবাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাদের মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বাগবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর মোর্শেদ সজল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক। সন্তানকে এত কষ্ট করে বড় করার পরে সন্তানের কাছ থেকে এমনটা মোটেও আশা করা যায়না। কোনও সন্তান তার বাবাকে নির্যাতন করবে এটা সম্পুর্ন অনুচিত ও অনাকাংখিত। বিষয়টি আমি খোজ নিয়ে দেখবো ও যদি এবিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে কোনও অভিযোগ আসে তাহলে অবশ্যই সঠিক ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

    বাংলাদেশ সময়: ১২:১১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ