• শিরোনাম

    চুল কাটার ঘটনায় দিনভর প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিলেন তদন্ত কমিটি

     টি এম এ হাসান , সিরাজগঞ্জ: | সোমবার, ০৪ অক্টোবর ২০২১ | পড়া হয়েছে 27 বার

    চুল কাটার ঘটনায় দিনভর প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিলেন তদন্ত কমিটি
    apps
    সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় আজ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ৫সদস্যের গঠিত তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ৫সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল। রোববার তদন্ত কমিটির কাছে এসে সেদিনের ঘটনার বিবরণ দেন নির্যাতিত ১৪ ছাত্র। এর মধ্যে ১৩জন সরাসরি তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে ও এক ছাত্র অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সেখান থেকেই ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সাক্ষ্য দেন। এছাড়াও তদন্তের স্বার্থে বিভাগের প্রত্যক্ষদর্শী আরও ১৫ শিক্ষার্থী, ৩ জন শিক্ষক, ৫ জন কর্মচারীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এসময় অন্য বিভাগের আরও ৫জন শিক্ষার্থীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। একইদিনে এর বাইরেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানান সময়ে ওঠা নানান অভিযোগের ব্যাপারে সেসব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাক্ষ্য দেন বিভিন্ন বিভাগের আরও আটজন শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি সাক্ষ্য দেন এই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ৫সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, আমরা এই ঘটনার সঠিক তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীরা ছাড়াও আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। এঘটনার বাইরেও ৮জন শিক্ষার্থীর অনুরোধে তাদের সাক্ষ্যও গ্রহণ করতে হয়েছে। তারা ৩বছরে এই শিক্ষকের কাছে নানান রকমের হয়রানির শিকার হয়েছেন মর্মে সাক্ষ্য দেন। এছাড়াও দুপুর ১২টায় অভিযুক্ত শিক্ষক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে তদন্ত কমিটির নিকট এসে বক্তব্য পেশ করার সময় দেয়া হলেও তিনি মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে উপস্থিত হননি। তিনি একটি মেইল করে আরও কয়েকদিন সময় দরকার বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নানান বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে অনেকেই কেদে ফেলেন বলেও জানান তিনি। তবে কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু অভিযুক্ত শিক্ষক উপস্থিত না হয়ে সময়ের জন্য আবেদন করেছেন সেক্ষেত্রে আমাদের বসে তাকে কতটুকু সময় দেয়া যায় সেই সিধ্যান্ত নিতে হবে। তারপর সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। এব্যাপারে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, এঘটনার সত্য উম্মোচনে রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সিনেট সদস্য লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। যারা এর সঠিক প্রতিবেদন দেয়ার স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং এদের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ওপরে ভিত্তি করে সিনেট সভায় সিধ্যান্ত নেয়া হবে করনীয়। যদি এতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা নেয়া হবে এটাও সুপারিশ করা হবে এই সিনেট সভা থেকেই। এবং সেই সুপারিশ অনুযায়ীই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৪ অক্টোবর ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ