• শিরোনাম

    চিরিরবন্দরে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

    মোঃ আব্দুস সালাম-চিরিরবন্দর ( দিনাজপুর ) | মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ | পড়া হয়েছে 110 বার

    চিরিরবন্দরে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহে  বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
    apps

    গাছে গাছে হলুদ ফুল আর সেই ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মন ভরে ওঠে । মৌমাছি তার গুনগুন শব্দে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। সবুজ গাছের হলুদ ফুলে শীতের কুয়াশায় সোনাঝরা রোদ ঝিকমিক করছে। অপরূপ এই সৌন্দর্যে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি।

    প্রকৃতির মাঝে হলুদের এমন সমারোহ দেখা মিলছে চিরিরবন্দরে ফসলের মাঠ । সেই সাথে সরিষার হলুদ ফুলে মনোমুগ্ধকর হয়ে ছবি তুলছেন কোমল মতি শিশু সহ সকল বয়সী নারী ও পুরুষ। চিরিরবন্দর উপজেলায় এবার রেকর্ড পরিমান জমিতে সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল ভালো থাকলে কৃষকেরা সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

    চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সরিষা চাষাবাদ করা হচ্ছে।
    চলতি মৌসুমে উপজেলাতে সরিষার চাষের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৫৫০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ৬৬০ হেক্টর যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ১১০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যথা সময়ে সরকারি পর্যায় থেকে কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে সার – সরিষার বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। শুরুর দিকে সরিষা খেতে পোকা মাকড়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যা এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণে তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়। এখন কৃষকেরা সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। সবচেয়ে বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে উপজেলার আব্দুলপুর, অমরপুর, পুনটি ও সাইতাড়া ইউনিয়নে।

    উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের সোলায়মান বলেন, ‘আমি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে অল্প বীজ পেয়েছি। পরে আমি নিজে বাজার থেকে সরিষার বীজ কিনে জমিতে সরিষা বীজ বপন করি। প্রতিটি সরিষাগাছে প্রচুর পরিমাণ ফুল ধরেছে। ফুলগুলো আকারেও বড় হয়েছে। মনে হচ্ছে, এবার সরিষার ফলন ভালো পাব। সময়মতো সরিষা তুলে বিক্রি করতে পারলে বাড়তি কিছু টাকা আসবে। এতে পুরোদমে ইরি-বোরো চাষ করতে পারব।

    উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসমে আমি ৬ বিঘা ধানী জমিতে সরিষা লাগিয়েছি। এই বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ভালো ফলনের আশা করছি। বাজারেও সরিষার ব‍‍্যাপক চাহিদা রয়েছে। নিজ পরিবারের তেলের যোগান দিতেই আমি সরিষার চাষ করি। বাড়তি সরিষা বাজারে বিক্রি করি।উপজেলার পুনটি ইউনিয়নের নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক সরিষা চাষী এক ব্যক্তি জানান , এ বছর ৭ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। গাছ ভালো হওয়ায় ভালো ফলন হতে পারে।

    ১০ নং পুনটি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওবাইদুল্লাহ সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, চলতি মৌসুমে সরিষার রোগ বালাই তেমন নেই বললেই চলে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার জোহরা সুলতানা বলেন, চলতি মৌসুমে চিরিরবন্দর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে গত বছরের তুলনায় এবার ব্যাপক সরিষার আবাদ হয়েছে । এর প্রধান কারণের মধ্যে রয়েছে বাজারে সরিষা এবং ভোজ্য তেলের দাম বেশি। এবার লক্ষ্যমাত্রার ছাড়িয়ে ১১০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছে। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৭ মন সরিষা ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষকেরা অন্যান্য আবাদে ও ঝুঁকেছেন। যথা সময়ে জমি চাষ যোগ্য হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা সুযোগ বুঝে সরিষা চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো ধরনের ক্ষতি না হলে এ উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৩

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ