• শিরোনাম

    গোসাইরহাটে ট্রাক,বাস,মিনিবাসে পৌরসভা যুবলীগ সভাপতির ‘চাঁদাবাজি’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস।

    মিজানুর রহমান মোস্তফা,শরীয়তপুর প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২ | পড়া হয়েছে 29 বার

    apps

    শরীয়তপুরের গোসাইরহাট পৌরসভায় শুধু বাস-স্ট্যান্ড এর ডাক রয়েছে। সেখানে গাড়ী রাখরেই টোল দেয়ার নিয়ম থাকলেও গোসাইরহাট পৌরসভার জমদ্দার বাড়ী মোড় ,পট্রি ব্রীজ এলাকায় বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে গোসাইরহাট পৌরসভা যুবলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে।
    প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত পৌরসভার জমদ্দার বাড়ী মোড় ,পট্রি ব্রীজ এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তারা চাঁদা তোলে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসি বলছেন বিষয়টি জানা নেই।
    গোসাইরহাট পৌরসভা ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, কুমিল্লাসহ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সড়ক পথে যোগাযোগের সংক্ষিপ্ত এই পথে ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহনে গোসাইরহাট-সখিপুর-চাঁদপুর সড়কটি নিয়মিত ব্যবহার করে আসছেন।

    এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দু শ থেকে তিন শ মালবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও মালবাহীসহ অন্যান্য গাড়ি চলাচল করে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল হোসেন, কাইয়ুম মিয়া, শাহেদ মীর, রনি ডাকুয়া সহ বেশ কয়েকজন বলেন, গোসাইরহাট বাসষ্ট্রান্ডে গাড়ী রাখলে টোল আদায় করা যাবে। এর বাইরে কোন টোল আদায করা যাবে না। গোসাইরহাট-সখিপুর-চাঁদপুর সড়কের গোসাইরহাট পৌর এলাকার শরীয়তপুর গোসাইরহাট সড়কের জমদ্দার বাড়ী মোড়, পট্রি ব্রীজ এলাকায় পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি ও গোসাইরহাট পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর কামাল হোসেন সরদারের নির্দেশে মোঃ আনোয়রর হোসেন, দীন ইসলাম সহ ৪/৫ জনে মিলে প্রতিদিন প্রতিটি মালবাহী ট্রাক থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা ও পিকআপ ভ্যান থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা গোসাইরহাট পৌরসভার নাম করে চাঁদা আদায় করছে। এ সময় তারা সংবাদ কর্মী ও প্রশাসনের লোক দেখলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। তারা চলে গেলে আবার পুনরায় চাঁদাবজি শুরু করে ।
    এই রুটের মালবাহী ট্রাক চালক চান মিয়া ও আলী হোসেন বলেন, চাঁদাবাজরা গোসাইরহাট পৌরসভার নাম ব্যবহার করে ৬০ টাকার রশিদ ধরিয়ে দিয়ে প্রতিটি মালবাহী ট্রাক থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে।
    স্থানীয়দের ভাষ্য, বাসস্ট্যান্ডের বাইরে প্রতিদিন এই রুটে প্রায় দুইশতাধিক মালবাহী গাড়ি চলাচল করছে। চাঁদাবাজরা এসব মালবাহী গাড়ি থেকে প্রতি দিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে।
    পিকআপ চালক কালু সরদার বলেন, “এসব গাড়ি থেকে গোসাইরহাটের কোথাও মালামাল ওঠানামা হয় না। তারপরও রাস্তা মেরামতের নামে গোসাইরহাট পৌরসভার রশিদ দিয়ে চাঁদা আদায় করছে এসব চাঁদাবাজরা। ফলে এ ব্যাপারে গাড়ির চালকসহ সাধারণ জনগণও মুখ খুললে তাদেরকে মারধর করা হয়।
    চাঁদা আদায়কারী আনোয়ার হোসেন ও দীন ইসলাম বলেন, গোসাইরহাট পৌর সভার কাউন্সিলর ও পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি কামাল সরদার ও সোহাগ মৃধার নির্দেশে আমরা এ চাঁদা আদায় করছি। শুনেছি তারা গোসাইর হাট পৌরসভা থেকে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ডাক নিয়েছেন।
    গোসাইরহাট পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি ও ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামাল সরদার বলেন ও সোহাগ মৃধা বলেন, আমরা পৌরসভা থেকে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বাস স্ট্যান্ডের ডাক এনেছি। রাস্তায় কাজ করার কারনে অন্য কোথায় ও টোল আদায় কওে থাকতে পারে। তবে ট্রাক বা অন্য কিছু থেকে টাকা নেওয়ার কথা না।
    গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, চাঁদা তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। খুজ নিয়ে আইন গত ব্যবস্থা নিব।
    গোসাইরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, গোসাইরহাট পৌরসভা থেকে শুধু বাস স্ট্যান্ডের জন্য ডাক দেওয়া হয়েছে। যারা স্ট্যান্ডে বাস রাখবে তাদেও কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমান টোল আদায় করবে । তবে অন্য কোন জানবাহন থেকে টোল আদায় করা যাবে না। অন্য গাড়ী থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ,জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গহন করবো।

    বাংলাদেশ সময়: ৩:০৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ