মঙ্গলবার ১৬ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১ শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

>>

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঈশা খাঁর মাজার কমপ্লেক্স ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা

নাসিমুল ইসলাম নাসিম, গাজীপুর   |   সোমবার, ১১ জানুয়ারি ২০২১   |   প্রিন্ট

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঈশা খাঁর মাজার কমপ্লেক্স ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা
নাসিমুল ইসলাম নাসিম, গাজীপুর
বাংলার বারো ভূঁইয়ার প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ। বিশাল জমিদারি জুড়ে ছিল ঈশা খাঁর রাজত্ব। ঈশা খাঁ সহ বারোজন একসঙ্গে বাংলায় জমিদারি পরিচালনা করেন। ১৫৭৫ সালে সম্রাট আকবর বাংলা বিজয়ের পর বারো ভূঁইয়াদের ক্ষমতা কমে যায়। তখন সম্রাট আকবর বারো ভূঁইয়াদের দমনে বাংলায় কয়েকবার অভিযান শুরু করেন। ইতিহাস সম্পর্কিত কিছু অনলাইন ও বিভিন্ন সুত্র মতে জানা যায় মোগল সেনাপতি মানসিংহ ১৫৯৫ সালে কাপাসিয়ার টোকে ঈশা খাঁর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত হন। পরবর্তী সময়ে আরো যুদ্ধ বাধার আশঙ্কায় বন্ধু ফজল গাজীর ভাওয়াল পরগনার বজ্রপুর (যাহা বর্তমান বক্তারপুর ইউনিয়ন) দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন ঈশা খাঁ । বজ্রপুর দুর্গ বেশকিছু দিন স্থায়ী ছিল। পরবর্তী সময়ে শাহবাজখাঁ ঈশা খাঁর বজ্রপুরের দুর্গটি ধ্বংস করে দেয়। এরপর ঈশা খাঁ সোনার গাঁও ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি তখন এক হেকিম এর তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা গ্রহণ করতে থাকেন। প্রায় তিন মাস পর ঈশা খাঁ অসুস্থ অবস্থায় বজ্রপুরে ইন্তেকাল করেন। ঈশা খাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী এলাকাবাসী বজ্রপুরে(বর্তমান বক্তারপুর) তার দাফন সম্পন্ন করেন।
জানা যায় বাংলাদেশের ইতিহাসে ঈশা খাঁর কবর সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। এমতাবস্থায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে নিয়োজিত গবেষক গন সারাদেশে ঈশা খাঁর কবর সম্পর্কে জানতে তত্ত্ব সংগ্রহ করতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে গাজিপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নে মাটি খুঁড়ে অনেক গুলো শিলালিপি, ইট পাথরের চিহ্ন আবিষ্কার করেছেন। তখন তারা ঈশা খাঁর কবর হিসেবে এটিকে নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তী সময়ে   চারপাশে দেয়াল দিয়ে কবরটি কিছুটা হলেও সংরক্ষণ করা হয়। বাংলাদেশ এর ইতিহাসে ঈশা খাঁর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চমকপ্রদ কাহিনী জানা যায়। ঈশা খাঁর রাজধানী সোনারগাঁওয়ে তার স্মৃতি চিহ্ন রয়েছে। যাহা দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। কিন্তু ঈশা খাঁর কবর সম্পর্কে এখনও অনেকে অজানা। ইতিপূর্বে গাজিপুরের জেলা প্রশাসক , কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও ঈশা খাঁ ফাউন্ডেশন এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় এর অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহিদুল হারুন ঈশা খাঁর কবরটি পরিদর্শন করেন। তিনি কবরটির বেহাল অবস্থা দেখে আপসোস করে বলেন, বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ। এদেশের ইতিহাসের সাক্ষী এই ঈশা খাঁ। অথচ আজ তার কবরের এই অবস্থা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি স্থানীয় ভাবে বক্তারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এই বিষয়ে উপজেলা পরিষদ এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে একটি প্রস্তাবনা পেশ করতে বলেন। অতপর উপজেলা পরিষদ হয়ে একটি প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হয়েছে। স্থানীয় কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও  ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন খান এমন একটি নিদর্শন কে সকলের কাছে তুলে ধরতে একটি মাজার কম্পেলেক্স ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।
বর্তমানে জানা গেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যেই সকল ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ঈশা খাঁর কবর সংরক্ষণে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
তবে অনেকেই মনে করেন ঈশা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত বক্তারপুরের দুর্গ আবিষ্কার করে এখানে একটি মাজার কম্পেলেক্স ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত হলে একটি ইতিহাস সংরক্ষণ হবে এবং পরবর্তী সময়ে এখানে পর্যটন শিল্প বিকাশে বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো যে, কয়েক বছর পূর্বে বিজয় টেলিভিশন এ প্রচারিত প্রামাণ্য চিত্র, একতারা পথে প্রান্তরে, অনুষ্ঠান টি দেখে অনেকে ঈশা খাঁর কবর সম্পর্কে জানতে পারে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিশিষ্ট অভিনেতা ও অর্থ মন্ত্রণালয় এর অতিরিক্ত সচিব (অবঃ) পীরজাদা শহিদুল হারুন এই কবর পরিদর্শনে আসেন।
Facebook Comments Box

Posted ৬:১০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১১ জানুয়ারি ২০২১

dainikbanglarnabokantha.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক

রুমাজ্জল হোসেন রুবেল

বাণিজ্যিক কার্যালয় :

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১০ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

design and development by : webnewsdesign.com