• শিরোনাম

    কুষ্টিয়া চিনিকলের ৫৩ টন চিনি গায়েব : ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত টিম , বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল !

    শামসুল আলম স্বপন, কুষ্টিয়া | মঙ্গলবার, ০৮ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 147 বার

    কুষ্টিয়া চিনিকলের ৫৩ টন চিনি গায়েব : ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত টিম , বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল !

    কুষ্টিয়া চিনিকলের ৫৩ টন চিনি গায়েব : ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত টিম , বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল !

    apps

    কুষ্টিয়া চিনিকলের গুদাম থেকে প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকার ৫৩ টন চিনি গায়েব হওয়ার ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষ করেছে। উপ-সচিব প্রতুল কুমার সাহা ৫ জুন তদন্ত কমিটি গঠন করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবনাথ রায়কে প্রধান করে গত ৫ জুন গঠিত ৫ সদস্যের এ তদন্ত টিম গঠন করা হয় । তদন্ত টিমের অপর সদস্যরা হলেন, শিল্পমন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বিএসএফআইসি) মু.আনোয়ারুল আলম সদস্য, বিএসএফআইসি প্রধান (পরিকল্পনা) মো: আইনুল হক সদস্য, উপ-মহাব্যবস্থাপক ( প্রকল্প হিসাব) বিএসএফআইসি ইলিয়াছ শিকদার সদস্য, ভারপ্রাপ্ত মহা-ব্যবস্থাপক ( ইআর) বিএসএফআইসি মো: হামিদুল হক সদস্য। সোমবার (০৭ জুন) সকাল থেকে তদন্ত টিম তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এর আগে রোববার রাতে কুষ্টিয়া চিনিকলে পৌঁছায় তদন্ত টিম। ।
    সোমবার সকালে তারা গুদাম ও স্টোরের দায়িত্বে থাকা বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। কুষ্টিয়া সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, চিনি গায়েবের ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০ জনের বক্তব্য নিয়েছে তদন্তকারী দল। তারা গুদাম ও স্টোরের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তদন্ত টিম। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির প্রধান শিবনাথ রায় বলেন, জুডিশিয়ালি তদন্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। নথি দেখা হয়েছে, গোডাউন পর্যবেক্ষণ করা হবে। মাঠের কাজ শেষে এখান থেকে প্রতিবেদনের সারবস্তু মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। তদন্তে যদি চিনি নিয়ে অসংগতির সত্যতা পাওয়া যায়, তবে এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হবে।এ সময় তদন্ত কমিটির ৫ সদস্য ছাড়াও এ সময় কুষ্টিয়া চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাকিবুর রহমান খান বলেন, স্টোরে চিনির হিসাব করার জন্য প্রথমে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ৩ জুন প্রতিবেদন জমা দিলে দেখা যায় ৫৩ টন চিনির ঘাটতি আছে। এতে স্টোরকিপার ফরিদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি জানান চিনি উধাও হওয়ার ঘটনায় শনিবার (৫ জুন) রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। গত ২ জুন মিলের স্টেটমেন্ট দেখার জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ৩ জুন প্রতিবেদন জমা দেয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে। স্টেটমেন্টে ১২১ টন চিনি থাকার কথা থাকলেও প্রায় ৫৩ টন ঘাটতি দেখা যায়। এতে দায়িত্বরত স্টোরকিপার ফরিদুল হককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। হদিস না পাওয়া চিনির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এসব তথ্য কুষ্টিয়া সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ৫৩ টন চিনি গায়েব হওয়ার ঘটনায় দায়িত্বরত স্টোরকিপার ফরিদুল হক সাময়িক ভাবে বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এই চিনি কলে যাই ঘুটক না কেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্যার মো. রাকিবুর রহমান খান, উপব্যবস্থাপক (ভান্ডার),আলামীন স্যার, এ্যাডমিন স্যার হাবিবুর রহমান, ক্যাশিয়ার, ডিলার ঢাকা-মিনা পাড়ার জুবায়ের ডিলার কুষ্টিয়া মজমপুরের রাশেদুল ইসলাম ও লেবার কন্টাক্টর বশির জড়িত না থাকলে মিল থেকে একটি সূঁচও বেরুতে পারে না। অপরাধের সাথে সবাই জড়িত । পানি নীচের দিকেই গড়ায় । আমি ছোট চাকরি করি । তাই আমাকে বরখাস্ত করে বাহাদুরী দেখানো হলো । তিনি বলেন সাংবাদিকরা নিউজ করে কি করবে । কিছুই হবে না । উপর নীচে সব ম্যানেজ !

    কুষ্টিয়া চিনিকলের সিবিএ’র সভাপতি ফারুখ হোসেন বলেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্যার মো. রাকিবুর রহমান খান ও গেটপাশের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না থাকলে মিল গেট থেকে গাছের একটি পাতাও বের করা সম্ভব না। তিনি বলেন আমরা চিনি চুরির এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। উল্লেখ গত ১৯ বছরে কুষ্টিয়া চিনিকলে লোকসান হয়েছে ৪২০ কোটি টাকা। ফলে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দৌরাত্ম্য, চরম দুর্নীতি, ব্যবস্থাপনায় ক্রুটি ও ক্রমাগত লোকসানে ২০২০-২১ অর্থবছরে মিলে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গত মৌসুমে ২ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া চিনিকলের আখমাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী এ মিলটি বন্ধ থাকায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    বাংলাদেশ সময়: ৮:০০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ জুন ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ