• শিরোনাম

    কিস্তির টাকার জন্য যুবকের আত্মহত্যা।

     রিয়াজ উদ্দিন। রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ | শনিবার, ০৩ জুলাই ২০২১ | পড়া হয়েছে 365 বার

    কিস্তির টাকার জন্য যুবকের আত্মহত্যা।
    apps

    আজ দুপুর অনুমানিক ২ঃ৩০মিঃ দিকে লক্ষ্মীপুর রয়পুরের সোনাপুর গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে ৫কঁড়ি মিঝি বাড়ির মোস্তফা (২৫) নামের এক যুবক নিজ গৃহে আড়ার সঙ্গে গালায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে যায়। তার মা কহিনুর বেগম( ৫০) ভাত খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে জানলা দিয়ে দেখে যে তার ছেলে আড়ার সাথে ঝুলে চটপট করছে, কহিনুর বেগম শৌর চিৎকার করলে এলাকাবাসি এবং তার আত্মীয় স্বজনরা এগিয়ে এসে জানলা বেঙ্গে ঘরে ঢুকে তাকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। নিহত মোস্তফা একজন বেকারীর মালামাল বিক্রেতা ছিল তার ২টি সন্তান রয়েছে বড় কন্য সন্তান (৩) বছরের সে প্রতিবন্ধী,এবং ছেলের বয়স (০৯)নয় দিন মাত্র। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে গলায় ফাঁস দেওয়ার ১০ মিনিট পূর্বে কার সাথে যেন মোবাইলে রাগারাগি করে এবং তারপরে কাউকে কিছু না বলে ঘরে চলে যায় এবং গলার ফাঁস দেয়। নিহত মোস্তফার মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সর্বশেষ ফোন কাকে করেছে সেটা দেখে সেই নাম্বারে ফোন দেয় রায়পুর থানার এস আই শাফায়াত উল্যা, সাথে ছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আব্দুল কুদ্দুস। এস আই শাফায়াত উল্যা বলেন নাম্বার টা নিহতের স্ত্রী রিমা আক্তার (২১)রিসিভ করে তাকে তার স্বামীর মৃত্যুর কথা বললে বলে হ্যাঁ আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে জানিয়েছে। তখন এস আই জানতে চান আপনার সাথে কেন রাগারাগি করল ।তখন রিমা আক্তার বলেন আমি অসুস্থ আমার ০৯ দিন আগে সিজার অপারেশনে সন্তান হয়। আমি গত মঙ্গলবার আমার বাপের বাড়ি ভবানীগঞ্জ চলে আসি। আজকে দুপুরে আমাকে ফোন দিয়ে বলে যে তাকে সমিতি থেকে ২৫,০০০/হাজার টাকা কিস্তি তুলে দেওয়ার জন্য তখন আমি বললাম তুমি টাকা দিয়ে কি করবে সে বলল মহাজনকে নাকি ৩০,০০০/হাজার টাকা দেনা আছে আমি বললাম এর আগেও তোমাকে দুইটা কিস্তি নিয়ে দিয়াছি ঔগুলো তো ঠিকমতো দিতে পারি না। এখন আবার নূতুন কিস্তি আমি নিয়ে দিতে পারবো না। তখন সে আমাকে রেগে বলে যে কিস্তি না তুলে দিলে সে একটা কিছু করে ফেলব এবং আগামী কাল আর তাকে দেখতে পাব না,এই বলে ফোন রেখে দেয়। আমি ভাবতে পারি নাই যে আমার স্বামী এমনটা করে ফেলবে। কিস্তির টাকার জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিবে।একবার আমার প্রতিবন্ধী মেয় ও নয় দিনের শিশু ছেলের কথা ভাবলো না। পরিবার এবং এলাকাবাসীর মাঝে বইছে শোকের ছায়া। সকলের একটাই বক্তব্য এই নিরীহ প্রতিবন্ধী মেয়ে এবং নয় দিনের শিশু ছেলের কি হবে? কে নিবে এদের দায়িত্ব। তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আব্দুল কুদ্দুস দৈনিক বাংলার নবকন্ঠ কে বলেন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি (ইউডি) মামলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ সময়: ১০:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৩ জুলাই ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ