• শিরোনাম

    করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে

    অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 205 বার

    করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে
    apps

    নূরুদ্দীন দরজী:

    চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ এর মতামত, শুধু মাত্র মাস্ক ব্যবহার করেই মানুষ শতকরা নব্ব‌ই ভাগ নিরাপদ থাকতে পারে। অথচ আমরা অনেকেই এ কথা অর্থাৎ মাস্ক ব্যবহারে গুরুত্ব দেই না। আমাদের দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী তাঁর কোন একটি বিবৃতিতে ও এমন পরামর্শ দিয়েছেন। তামাম দুনিয়াই এখন অত্যাবশ্যকীয়ভাবে মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই মনে করে। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য পরাজিত প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প মাস্ক ব্যবহারে তেমন উৎসাহি ছিলেন না।আর এর ফলাফল তিনি ইতিমধ্যে পেয়ে গেছেন। নির্বাচনে ভরাডুবি হয়ে তিনি এখন চোখের জল ফেলছেন। পৃথিবীর সকল দেশেই এখন মাস্ক ব্যবহারের তাগিদ রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশ সরকার অনেক আগে থেকেই মাস্ক ব্যবহারের জন্য জোর তাগিদ দিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়া সহ নানাভাবে জনসচেতনতা মূলক প্রচারনা  চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস, অর্থাৎ মাস্ক ছাড়া কোন কাজের‌ই দরকার নেই। এ কথা স্পষ্ট করে বার বার বলা হচ্ছে।

     

    করোনা মহামারির বয়স এক বছর হয়ে গেছে। এর‌ই মাঝে সমগ্ৰ পৃথিবীতে তান্ডব চালিয়েছে। তেমন কোন দেশ নেই যে দেশে জীবন হরণকারী করোনা থাবা মেলেনি। আমাদের ও দারুন ভাবে ঝাঁকুনি দিয়েছে।কেড়ে নিয়েছে মূল্যবান ছয় সহস্রাধিক প্রাণ। সতর্কতামূলক অবস্থানে থাকার চেষ্টা করায় বিগত কিছু দিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা একটু কমে আসতে ছিল। কিন্তু শীত মৌসুম শুরু হতে না হতে দূর থেকে  দ্বীতীয় ঢেউয়ের ডাক ডাক শোনা যাচ্ছে। এ ঢেউ আছরে পড়ার আগ থেকেই জন বান্ধব সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেছেন। নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ হতে নতুন ভাবে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দেশের সকল মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে -ঘরের বাহিরে  গেলে সবাইকে মূখে মাস্ক পরতে হবে। গণ পরিবহন, হাটবাজার ও অন্যান্য কোন কাজে বের হলেই মাস্ক থাকতে হবে। মসজিদে নামাজ পড়ার সময় অবশ্যই এর অধিক ব্যবহারের উপর বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এমন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মুসুল্লিদের নিজের বাড়ি থেকে অজু করে সম্ভব হলে নিজের জায়নামাজ নিয়ে আসতে চেষ্টা করবেন।  এখানে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা যাচ্ছে য, মাস্ক নিজেরা ও তৈরি করতে পারেন। বর্তমানে বাজারে মাস্কের মূল্য ও কমে এসেছে। প্রতি ৫০টির  এক প্যাকেট ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় ও কেনা যায়।

     

    আমরা যখন যেখানেই অবস্থান করি, কিছু ক্ষণ পর পর সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত দুহাত কচলিয়ে ভালভাবে ধুতে হবে। সর্বত্র সমান দূরত্ব বজিয়ে চলাফেরা করতে হবে। জামাতে নামাজ পড়ার সময় পরামর্শ মোতাবেক প্রতেকে সমান দূরত্বে লাইনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। হাঁচি কাশি এলে মূখে রুমাল অথবা টিস্যু অবশ্যই ব্যবহার থাকবে। কোন কারণে তাৎক্ষণিক টিস্যু ও রুমাল না থাকলে হাত ভাঁজ করে মূখ ঢেকে রাখতে হবে। হঠাৎ আক্রান্ত হয়ে পড়লে বা করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক নিরাপদে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সহ ডাক্তারের স্মরনাপন হতে হবে।

     

    করোনা থেকে মুক্তির জন্য মানুষ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রাণান্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নানা দেশে ভ্যাকসিন বের ও  হয়েছে।ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত ভাবে এখনো  সুখবর না পাওয়া গেলে ও মাঝেমধ্যে চমকপ্রদ আশার খবর‌ও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনো কোন ভ্যাকসিন‌ই বাজারজাত হয়নি। এ অবস্থায় যতদিন পর্যন্ত ভ্যাকসিন না পাওয়া যাবে ততদিন আমাদের সাবধানে চলা ছাড়া কোন উপায় নেই।  আর সাবধানতার প্রথম শর্ত‌ই হচ্ছে আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহারে মনোযোগী ও উৎসাহি হ‌ওয়া। মাস্ক সংক্রমনের ঝুঁকি কমায়। করোনা রোগ ছাড়াও আমাদেরকে বায়ুদূষণ জনিত রোগ বালাই থেকেও নিরাপত্তা দেবে।

     

    অনেকে মনে করেন মাস্ক ব্যবহারে শ্বাস বুঝি বন্ধ হয়ে আসে। কথাটি সত্য নয়।প্রথম দুএক ঘন্টা একটু খারাপ লাগলেও একদিনবা অর্ধ দিন  ব্যবহারেই স্বাভাবিক হয়ে যায়। ভয়ের কোন কারণ নেই। আমাদের সমাজে কিছু লোক আছেন,বলে থাকেন-করোনা কোন ক্ষতি হবেনা-আল্লাহ‌ই আছেন। আমরাও বলি আল্লাহ তো অবশ্যই আছেন। তিনিতো মানুষকে সর্তক হয়ে চলতে ও বলেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমি যদি অসুস্থ বা আক্রান্ত থাকি গোটা দেশ‌ই আক্রান্ত। আমার দ্বারা যে কোন সময় অন্য যে কেউ আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। আর কোন কথা নয়। দেশের, দশের এবং আমার নিজের স্বার্থে মাস্ক ব্যবহারে আর অবহেলা করবো না। সরকারি বিধি বিধান মেনে চলবো। নিজে সুস্থ থাকবো, দেশ তথা বিশ্ববাসীকে সুস্থ ও নিরাপদ থাকতে সহায়তা করবো।

     

    লেখক: কলামিস্ট সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টিইও)

    বাংলাদেশ সময়: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২০

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নায়িকা হয়েও কবি ছিলেন

    ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

    রূপা

    ২৪ অক্টোবর ২০২০

    কৃষি ব্যাংক নিয়ে গান

    ৩০ নভেম্বর ২০২০

    অসভ্যতার বিজয় কেতন

    ০৯ অক্টোবর ২০২০

    কৃষ্ণ কলি

    ০৫ অক্টোবর ২০২০

    আর্কাইভ