• শিরোনাম

    কবরীর অভিনয়ে দেখেছি বাস্তবের প্রতিচ্ছবি

    অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১ | পড়া হয়েছে 112 বার

    কবরীর অভিনয়ে দেখেছি বাস্তবের প্রতিচ্ছবি
    apps

    নূরুদ্দীন দরজী:

    মানুষ অভিনয় দেখে অনেক কিছু শিখে। ইংরেজিতে বলা হয়ে থাকে ‘ACTING IS THE CREATIONS AND REPRESENTATIONS OF LIFE IN THE TERMS OF THEATRE. অর্থাৎ অভিনয়ের মাধ্যমে আমাদের বাস্তব জীবনের প্রতিফলনকেই সিনেমা বা নাটক বলা হয়। এখানে একটি গভীর চিন্তার বিষয় হচ্ছে -মানুষজন বিনা স্বার্থে কিছুই করেনা, পয়সা খরচ করেনা। অভিনয় যদি মনুষ্য জীবনে উপকারেই না আসবে তবে তার পিছনে মিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বা টাকা খরচ হতো না। কিছু পয়সা খরচ হলেও মানুষ অভিনয় থেকে শিখে নেয় অনেক বেশি। এ সমস্ত শেখা মানুষের জীবন চলার পাথেয় হয়। আবার ব‌ই পুস্তক বা
    পত্র পত্রিকা পড়ে ও আমরা শিখছি। তবে অভিনয় থেকে এ শেখার যতেষ্ট পাথক্য রয়েছে। শত বার পড়ে পড়ে যা হৃদয়াঙম ও মুখস্ত করা যায় না পলকের অভিনয়ে সে শিক্ষা মানব মনে স্থায়ী হয়ে যায়। মানুষ তা মনে রাখে আজীবন। প্রসঙ্গ ক্রমে মনে পড়লো, কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস,নামক অমর প্রেমকাহিনীর উপন্যাস এর কথা। যার কাহিনি বিচিত্রতা মনকে গভীর ভাবে বেদনা দেয় সর্বক্ষণ। এর ঘটনা প্রবাহে মানুষ কেঁদে কেঁদে বুক ভাসায়। ,দেবদাস, নিয়ে সর্বপ্রথম বাংলা সিনেমার দেবদাস চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রমথেশ বরুয়া। শরৎচন্দ্র তখনো জীবীত। তিনি চুপি চুপি সিনেমা হলে দেবদাস দেখে চোখের জলে নদী সৃষ্টি করেছিলেন। ছবিটি দেখে এত‌ই মুগ্ধ, রোমাঞ্চিত ও আতংকিত হয়েছিলেন যে, হল থেকে নিজের বাড়ি না এসে সোজা চলে গিয়েছিলেন প্রমথেশের বাড়িতে। প্রমথেশকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন,’প্রমথেশ তুমি এমন অভিনয় করবে জানলে আমি দেবদাসকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিতাম না। আমার লেখার বিয়োগ ব্যাথার ও মর্মবেদনার চেয়ে তোমার অভিনয় শত সহস্র গুনে মর্মস্পী,। বাস্তবতার প্রতিফলনে ঠিক তেমনি বাংলা সিনেমা জগতে কবরী শ্রেষ্ঠ নায়িকা। কবরীর অভিনয় শৈলী,হাসি, চাহনি ও বাচনভঙ্গি সিনেমা প্রেমি মানুষকে দারুন ভাবে মুগ্ধ করেছে। তাঁকে বলা হয় মিষ্টি মেয়ে কবরী। তাঁর অভিনীত প্রায় প্রতিটি ছবিই ব্যবসা সফল। সিনেমা পরিচালকরা তাঁর পিছনে ছুটেছেন বার বার। তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন অনেক দর্শক প্রিয় উপভোগ্য ছবি। বিশেষ ভাবে উল্লেখ করার মত ছবিগুলো হচ্ছে সুতরাং,বাহানা,তিতাস একটি নদীর নাম,সারে‍ং ব‌উ,সুজন সখি, রংবাজ, ময়নামতি, আঁকাবাঁকা,নীল‌ আকাশের নিচে,সাত ভাই চম্পা,দেবদাস ও দুই জীবন সহ অনেক ছবি। তাঁর সাথে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অনেক নায়ক‌ই। তবে প্রয়াত নায়ক রাজ্জাকের সাথে জুটি খুব‌ই জনপ্রিয় ও সফল জুটি। এ জুটির সর্বশেষ ছবি’ ‘সোনালী আকাশ, অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও অনবদ্য। যে কেউ সোনালী আকাশ, ছবিটি এখনো দেখলেই তা সহজে বুঝতে পারবেন। কবরী অভিনিত সকল ছবিই পরিবার পরিজন তথা ব‌উঝি ছেলেমেয়ে নিয়ে দেখার মত।
    কবরী হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯৫০সালে চট্রগ্রামের বাঁশখালীতে পাল বংশে। নাম রাখা হয়েছিল মীনা পাল। পিতা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল ও মা লাবন্যপ্রভা পাল। বাবার প্রচন্ড ইচ্ছেতেই সিনেমায় আসা। সিনেমায় পা দিয়েই হয়ে যান মীনা পাল থেকে কবরী। সম্ভবত নামটি দিয়েছিলেন সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। কবরীর মা চেয়েছিলেন মেয়ে লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হবে। তা হয়নি । মেয়ে বড় হ‌ওয়ার জন্য অভিনয় শিখেছিল অত্যন্ত বড় মাপের সুভাষ দত্ত, খান আতা, ফজলে লোহানী ও জহীর রায়হানের কাছে।
    ব্যক্তিগত জীবনে কবরী বিয়ে করেন দুবার। প্রথম স্বামী ছিলেন চিত্ত চৌধুরী। তখন কবরী নামটির সাথে চিত্ত যুক্ত হতো। চিত্ত কবরীর বিচ্ছেদ হয়ে গেলে পুনরায় বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সারোয়ারকে। হয়ে যান কবরী সারোয়ার। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শেষের দিকে আবার ও বিচ্ছেদ নেমে আসে। কবরী সন্তানাদি নিয়ে একা হয়ে যান। শোনা যায় বিশ্বখ্যাত নায়িকা এলিজাবেথ টেইলর এর মত তিনি ও কোন প্রকার ঝামেলা পছন্দ করতেন না। শান্তির পরশ ছোঁয়ায় ছোঁয়ায় থাকতে ভালোবাসতেন। উল্লেখ্য যে, এলিজাবেথ তাঁর জীবনে বিয়ে করেছেন ৮টি। এক‌ই ব্যক্তি অভিনেতা রিচার্ড বার্টনের সাথে বিয়ে হয়েছিল দুবার। অর্থাৎ সংসারে কোন মলিনতা এলেই সে ঘর তিনি পরিত্যাগ করতেন। হাসি খুশি ভরা সংসার জীবনে থাকতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে টেইলর বলেছিলেন,-কেবল নির্জানট ও নির্মল আনন্দের সাথে জীবন অতিবাহিত করা ও ঝামেলা মুক্ত থাকার জন্য‌ই তাঁর অনেক বিয়ে করা।
    সত্যি কথা বলতে গেলে , শুধুমাত্র কবরীর জন্য‌ই আমাদের বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল খুবই উজ্জ্বল ছিল। বাংলা সংস্কৃতির আকাশে তিনি ছিলেন এক ধ্রুব তারা, উজ্জ্বল জ্যোতি। এ জ্যোতির অবসানে বড়‌ই শূন্য লাগে। কবরীর মৃত্যুতে আমরা যা হারালাম জানি না কে কখন তা পূরণ করবেন। এমন বাস্তবতাপর্ণ অভিনয় দেখার সৌভাগ্য আর হবে কিনা । শুধুই পথ চেয়ে থাকা আগামী দিনে আগামীর প্রত্যাশায় । কবরী ম্যাডামের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শেষ করছি লেখাটি।
    লেখক: কলামিস্ট, প্রবন্ধকার ও সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টি‌ইও)

    বাংলাদেশ সময়: ১০:০৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রূপা

    ২৪ অক্টোবর ২০২০

    নায়িকা হয়েও কবি ছিলেন

    ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

    কৃষি ব্যাংক নিয়ে গান

    ৩০ নভেম্বর ২০২০

    অসভ্যতার বিজয় কেতন

    ০৯ অক্টোবর ২০২০

    ছোটগল্প (দেনা)

    ২৫ জুলাই ২০২১

    আর্কাইভ