শনিবার ২২ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

>>

কটিয়াদীতে ৫শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এবার হচ্ছে না

  |   রবিবার, ১১ জুলাই ২০২১   |   প্রিন্ট

কটিয়াদীতে ৫শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এবার হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গোপীনাথ বাড়িতে ৫০০ বৎসরের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। করোনা মহামারির কারণে বিপুল সংখ্যক জনসমাগম হওয়ার আশংকায় এ বছর রথযাত্রা অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করা হবে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, করোনা মহামারির কারণে এ বছর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় এ বছর তা বাতিল করা হয়েছে। তবে ধর্মীয় আচার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করা হবে।
পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) বলেন, জনস্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে করোনাকালীন জনসমাগম না করার জন্য।
ভোগবেতাল মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. দিলিপ ঘোষ জানান, এ বছর করোনা মহামারির কারণে রথযাত্রার মূল অনুষ্ঠান করা যাচ্ছে না। তবে সীমিত আকারে ধর্মীয় আচার পালন করা হবে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, কটিয়াদী উপজেলার ভোগবেতাল গ্রামে অবস্থিত প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন ঈশা খাঁ ও রাজা নবরঙ্গের ঐতিহাসিক হিন্দু ধর্মের তীর্থস্থান শ্রীশ্রী গোপীনাথ মন্দির। ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। রাজা স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে কোঠামনি দিঘী ও বাউল সাগর নামে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীর থেকে কৃষ্ণবর্ণের দুটি নিম কাঠের খন্ড দিয়ে গোপীনাথ বলরাম ও শুভদ্রার মুর্তি তৈরি করে মন্দিরে স্থাপন করে।
কিংবদন্তিতে আছে ঈশা খাঁ উক্ত জায়গাটি সংস্কার করেন এবং জরাজীর্ণ মন্দিরটি তার রাজধানী পানাম নগরীর নক্সায় নির্মাণ করেন। সে থেকে প্রতি বছর আষাঢ় মাসে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা, উল্টো রথযাত্রা, দোল পূর্ণিমা, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী, শিবরাত্রী ব্রত, ঝুলন যাত্রা ও বাসন্তী পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান গোপীনাথ মন্দিরে হয়ে আসছে। এ মন্দিরে রথযাত্রা শুরু হয় ১৫৮৫ খ্রিঃ সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ের সময় থেকে। কথিত আছে জগন্নাথ বঙ্গের গোপীনাথ তার বিশাল মেলা এ অঞ্চলের বৃহত্তর মেলা হওয়ায় হাওর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূণ্যার্থীরা নৌকা ও বজরায় করে এখানে সমবেত হতেন। ১৫ দিনব্যাপী এ মেলার আয়ুষ্কাল ছিল। ১০৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ৩২ চাকার রথটি স্থানীয় জমিদারদের পোষা হাতি দিয়ে গোপীনাথ মন্দির থেকে টেনে প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক পথ দিয়ে ভক্তবৃন্দ গুন্ডিচা বাড়িতে (শ্বশুড় বাড়ী) আনা হত, আটদিন পর উল্টো রথের মাধ্যমে রথটি নিয়ে যাওয়া হত। সেই স্মৃতি আজও স্থানীয় লোকজন প্রায় ৫০০ বছর যাবত পালন করে আসছে।

Facebook Comments Box

Posted ৯:০৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১১ জুলাই ২০২১

dainikbanglarnabokantha.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক

রুমাজ্জল হোসেন রুবেল

বাণিজ্যিক কার্যালয় :

১৪, পুরানা পল্টন, দারুস সালাম আর্কেড, ১০ম তলা, রুম নং-১১-এ, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০১৭১২৮৪৫১৭৬, ০১৬১২-৮৪৫১৮৬

ই-মেইল: newsnabokantha@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

design and development by : webnewsdesign.com