• শিরোনাম

    ইমাম রেজা আল আমিনের ধর্ষণ ও বিয়ে সংক্রান্ত মামলার ঘটনা

    অনলাইন ডেস্ক | রবিবার, ০১ আগস্ট ২০২১ | পড়া হয়েছে 49 বার

    apps

    ঐ ঘটনার পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে আজ অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রকৃত কিছু তথ্য তুলে ধরার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখতে বাধ্য হলাম। যেভাবে আমাকে এবং আমার মরহুম পিতাকে ও সর্বোপরি আমার পরিবারকে অপরাধী বানানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে তা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত সেটা খোলাসা করা জরুরি। সুমাইয়ার করা মামলায় আমি ২ নম্বর আসামি হলেও যেন মূল লক্ষ্য আমিই।আল আমিন ও সুমাইয়ার সম্পর্কের মূল শুরুটা হয় সুমাইয়াদের বাসায়।যা তার পিতা-মাতার অজ্ঞাত ছিল না। একাধিকবার আল আমিন সুমাইয়াদের গ্রামের বাড়িতে রাত্রি যাপন করে সুমাইয়ার পিতা-মাতার সম্মতিতে। ঘটনার শুরু হয় সুমাইয়া মাদরাসায় একদিন অসুস্থ্য হবার পর সে(সুমাইয়া) ও তার মা-বাবা জানায়, সুমাইয়ার জিনের আছর আছে। ঐদিন অসুস্থতার কারণে সুমাইয়া বাসায় চলে গেলে সন্ধ্যায় তার মা-বাবা আল আমিনকে বাসায় ডেকে নিয়ে রাত্রিযাপন করিয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যে যে, খুব ভোরে কবিরাজের কাছে যেতে হবে।এই ঘটনায় আল আমিন ও তার প্রথম স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।যা মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ হিসেবে আমি উভয়কে সতর্ক করিয়ে রেজুলেশনে লিপিবদ্ধ করি। উল্লেখিত এজাহারে বিয়ের তারিখে মাদ্রাসায় কোনভাবে আমি সুমাইয়াকে বিয়ের জন্য প্ররোচিত করি নাই এবং আমি ঐদিন কোনোভাবেই বিয়েতে উপস্থিত বা সাক্ষী ছিলাম না। আল আমিন এবং সুমাইয়ার বিয়ে ০৩.০৩.২১ ইং তারিখে সম্পন্ন হলেও তা ০৬.০৬.২১ তারিখে সকলের গোচরে আসে। পরবর্তীতে ৭,৮ ও ৯ জুন আল আমিন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।এ বিষয়ে মাদ্রাসার সকল বাসিন্দা অবগত আছে যে, ৮ জুন তারিখে ফুলবাড়ী থানা হতে সেকেন্ড অফিসার এসে সুমাইয়া ও তাঁর অভিভাবক এবং আল আমিনের স্ত্রী মুনমুনকে থানায় মুচলেকা নিয়ে তাদের নিজ নিজ বাসায় ফেরত পাঠানো হয়।এই বিষয়ে থানায় ওইদিনের রেকর্ড পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ওই দিন আমি সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয়দের জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে উভয়কে বহিষ্কার করে রেজুলেশন তৈরি করি। ফুলবাড়ীতে হলুদ সাংবাদিকতার উর্ধে থেকে যে সকল ভাইয়েরা সাংবাদিকতা করছেন,তাদেরকে অনুরোধ করব কয়েকটি বিষয় অনুসন্ধান করতে। তাহলে সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে। ১) কেন সুমাইয়ার বাবা-মা তাদের বাসায় আল আমিন কে প্রায় রাত্রি যাপন করার সুযোগ দিত? ২) দুইদিন পর-পর তাদের বাসায় আল-আমিনকে কেন দাওয়াত দিত? ৩) আল আমিনকে দিয়ে কেন তাদের মেয়ে দূরের পথে কবিরাজের বাসায় পাঠাবে? ৪) বাদীর পিতা হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন আল আমিন প্রায় বাদীর মাকে মোটরসাইকেলে করে গ্রাম থেকে ফুলবাড়ী হাসপাতালে আনা-নেওয়া করতো? উল্লেখিত বিষয়গুলো গ্রামের অনেকেই জানেন। সাংবাদিক ভাই ও সচেতন মানুষকে বলবো, ইত্তেফাকের মতো পত্রিকার নিউজে ১ নম্বর আসামির নামের আগে বা পরে তাঁর বাবার নাম লেখার প্রয়োজন মনে না করলেও ২ নম্বর আসামি হিসেবে আমার ভুলভাল নাম লিখলেও আমার মরহুম-পিতার নাম নির্ভূলভাবে লিখা হয়েছে। ওই রিপোর্টে আল আমিনের শুধু মাদ্রাসার পরিচয় উল্লেখ করলেও আসামির ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদকের পরিচয়টি কোথাও উল্লেখ করেনি ওই রিপোর্টার।কারণ তারই প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আল আমিন।তাহলে ধরে নিতে হবে ওই রিপোর্টার উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে এই নিউজটি করেছেন। শুধু কি তাই!ওই এজাহারে কোথাও আসামি আল আমিন কে লম্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। অথচ ওই রিপোর্টার ইত্তেফাকের ওই রিপোর্টে আল আমিন কে লম্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই ধরনের সাংবাদিকতাকে হলুদ সাংবাদিকতা বলা হয়।আমি আশাকরব,তিনি এই হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করবেন। আরও একটি বিষয় হল,মাদ্রাসার কোন শিক্ষিকা পুরুষদের সামনে আসে না।তাই আমি ও আল-আমিন কোনোভাবেই সুমাইয়াকে একা অফিস রুমে ডাকিনী। যা এজাহারে মনগড়া ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আল-আমিন ও সুমাইয়াকে কয়েকবার তাদের কর্মের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।যা মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষিকাগন অবগত আছেন। উল্লেখ্য যে, আমি ফুলবাড়ীর একটি শিক্ষা-অনুরাগী পরিবারের সন্তান। আমার পরিবারের সকলেই শিক্ষার সাথে জড়িত আছে এবং ছিল।আমি নিজেও একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং শিক্ষকতা পেশায় আছি।আমার কষ্টে অর্জিত মূলধন বিনিয়োগ করে আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছি।যা আমি কখনই চারিত্রিক অবক্ষয় বা নীতিবিরুদ্ধয় ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে আমার প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইনা l আমি সাংবাদিক, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করবো-একবার সুষ্ঠু তদন্ত করুন।মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক,ছাত্রী এবং মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসা করুন-আমার বিন্দুমাত্র অপরাধ আছে কিনা বাদীর এলাকায় খোঁজ নিন ও কাজীকে জবাবদিহির আওতায় আনুন। আল আমিন যদি অপরাধী হয়ে থাকে তবে তার বিচার হোক।কিন্তু দয়া করে আমাকে বিতর্কিত করার পূর্বে ঘটনাটি একটু তদন্ত করুন।আলামিন যে ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সেটাও কি তার অপকর্মের শক্তি ছিলনা?বিষয়টিতে ফুলবাড়ী প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ কি দায় এড়াতে পারে?এই ঘটনার পর তাকে প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার না করে স্বপদে বহাল রাখা হলে কেন? আর আমার কথা বলছেন,আর আমি তো ঘটনার পরপরই মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করি।

    বাংলাদেশ সময়: ৬:১৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ আগস্ট ২০২১

    dainikbanglarnabokantha.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ